Dhaka রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় : বদিউল আলম মজুমদার

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবারই সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জনগণকে আন্দোলনে নামতে হবে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে খুলনায় ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ৮৬টি বিষয়ের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে। কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলের দ্বিমত রয়েছে। একমত হওয়া ৮৬টি বিষয়ের ৪৮টি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত। এই ৪৮ বিষয়ে গণভোট হবে। গণভোটে হা জয়ী হলে ৪৮টি বিষয় পাস হবে। তাতে সংবিধান সংশোধনের পথ সুগম হবে। গণভোট হবে ৪৮টি বিষয়ের প্যাকেজ। হ্যাঁ বিজয়ী হলে প্যাকেজ বিজয়ী হবে। সংস্কার হবে।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হবে না এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে না। এর জন্য আরও প্রয়োজন হবে সব নাগরিকদের বিশেষত রাজনীতিবিদদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা, গত কয়েক দশকে যার চরম অবক্ষয় ঘটেছে আমাদের দেশে। একইসঙ্গে অবক্ষয় ঘটেছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। রাজনীতি এখন বহুলাংশে ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণের ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন নীতি-আদর্শের পরিবর্তে অর্থ ও পেশিশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাজনীতিবিদরা একে অপরের আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে মরণশীল শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যুক্ত-তর্ক ও নীতি-আদর্শের পরিবর্তে কালো টাকা, হুন্ডা-গুন্ডা ও সহিংসতা পরিণত হয়েছে রাজনীতির ভাষায়। এ থেকে উৎপত্তি হয় ছলে-বলে-কলে-কৌশলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি, যা সমাজকে চরমভাবে বিভাজিত করে ফেলেছে। ক্ষমতাসীনরা তাদের বৈধ সরকারি ক্ষমতা অবৈধভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন করে। তাই টেকসই গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন।’

সংলাপে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ভোটের বিষয়ে সুজনের আয়োজন গঠনমূলক। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নতুন যাত্রা শুরু করেছি। সংঘাতবিহীন নগ্নতামুক্ত নির্বাচন হবে। বিদায় নেওয়া দলটি না থাকায় এবার নির্বাচনে মারমার কাট কাট অবস্থা নেই। মারমার কাটকাট না হলে আবার নির্বাচন জমে না। সে জন্য এবারের নির্বাচনে মনে হচ্ছে আমরা সবাই নিজেরা। জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি হ্যাঁ ভোটের বিষয়ে কীভাবে প্রচার চালাবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণেও বলা হয়েছে। রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এবং রক্ত দিয়ে আনা নতুন বাংলাদেশ এ নিয়ে বিএনপি একাত্ম। বিএনপি সেভাবেই তৈরি হচ্ছে। রাজনীতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্বৃত্তায়ন ও কালো টাকা। এ বিষয়ে বিএনপি সতর্ক রয়েছে। বিএনপি সুশাসন কায়েম করবে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিএনপির চিন্তা রয়েছে।

খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বলেন, জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট হবে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচার শুরু করেছি। সে বিষয়ে প্রস্তুতি আছে। দলীয় প্রতীকের প্রচারের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ নিয়ে প্রচার চালাবো। আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা যে নির্বাচিত হবো আমরা সবাই মিলে তাকে সহযোগিতা করবো। ব্যয়সীমা আরও কমিয়ে দিলে ভালো হতো। ২৫ লাখ না করে ১০ লাখ হলে ভালো হতো। নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ শুরু করেছি। আমাদের নারী সদস্য ৩০ শতাংশের বেশি। ক্যাম্পাসে আমরা নারীদেরকে প্রার্থী করে ভবিষ্যৎ সংসদের প্রার্থী তৈরিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

খুলনা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজ রহমান বলেন, জুলাই না হলে আমি এখানে কথা বলতে পারতাম না। এ জাতি আর কোনও বৈষম্য দেখতে চায় না, গুম খুন বঞ্চনা দেখতে চায় না। এ জাতি ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। খুন চাঁদাবাজিসহ সব না চাওয়া বিষয়গুলো এখন চলমান। আমরা এই বাংলাদেশ দেখতে চাইনি। আমরা বিচার দৃশ্যমান দেখতে চাই, নির্বাচন দেশ জাতির আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার খুবই জরুরি। সংস্কার না হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে না। জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরি। নির্বাচনি ইশতেহারে এ বিষয়গুলো আসবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে নির্বাচন ভালো হবে না। নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরায়গুলো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় : বদিউল আলম মজুমদার

প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবারই সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জনগণকে আন্দোলনে নামতে হবে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে খুলনায় ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ৮৬টি বিষয়ের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে। কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলের দ্বিমত রয়েছে। একমত হওয়া ৮৬টি বিষয়ের ৪৮টি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত। এই ৪৮ বিষয়ে গণভোট হবে। গণভোটে হা জয়ী হলে ৪৮টি বিষয় পাস হবে। তাতে সংবিধান সংশোধনের পথ সুগম হবে। গণভোট হবে ৪৮টি বিষয়ের প্যাকেজ। হ্যাঁ বিজয়ী হলে প্যাকেজ বিজয়ী হবে। সংস্কার হবে।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হবে না এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে না। এর জন্য আরও প্রয়োজন হবে সব নাগরিকদের বিশেষত রাজনীতিবিদদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা, গত কয়েক দশকে যার চরম অবক্ষয় ঘটেছে আমাদের দেশে। একইসঙ্গে অবক্ষয় ঘটেছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। রাজনীতি এখন বহুলাংশে ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণের ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন নীতি-আদর্শের পরিবর্তে অর্থ ও পেশিশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাজনীতিবিদরা একে অপরের আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে মরণশীল শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যুক্ত-তর্ক ও নীতি-আদর্শের পরিবর্তে কালো টাকা, হুন্ডা-গুন্ডা ও সহিংসতা পরিণত হয়েছে রাজনীতির ভাষায়। এ থেকে উৎপত্তি হয় ছলে-বলে-কলে-কৌশলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি, যা সমাজকে চরমভাবে বিভাজিত করে ফেলেছে। ক্ষমতাসীনরা তাদের বৈধ সরকারি ক্ষমতা অবৈধভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন করে। তাই টেকসই গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন।’

সংলাপে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ভোটের বিষয়ে সুজনের আয়োজন গঠনমূলক। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নতুন যাত্রা শুরু করেছি। সংঘাতবিহীন নগ্নতামুক্ত নির্বাচন হবে। বিদায় নেওয়া দলটি না থাকায় এবার নির্বাচনে মারমার কাট কাট অবস্থা নেই। মারমার কাটকাট না হলে আবার নির্বাচন জমে না। সে জন্য এবারের নির্বাচনে মনে হচ্ছে আমরা সবাই নিজেরা। জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি হ্যাঁ ভোটের বিষয়ে কীভাবে প্রচার চালাবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণেও বলা হয়েছে। রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এবং রক্ত দিয়ে আনা নতুন বাংলাদেশ এ নিয়ে বিএনপি একাত্ম। বিএনপি সেভাবেই তৈরি হচ্ছে। রাজনীতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্বৃত্তায়ন ও কালো টাকা। এ বিষয়ে বিএনপি সতর্ক রয়েছে। বিএনপি সুশাসন কায়েম করবে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিএনপির চিন্তা রয়েছে।

খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বলেন, জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট হবে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচার শুরু করেছি। সে বিষয়ে প্রস্তুতি আছে। দলীয় প্রতীকের প্রচারের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ নিয়ে প্রচার চালাবো। আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা যে নির্বাচিত হবো আমরা সবাই মিলে তাকে সহযোগিতা করবো। ব্যয়সীমা আরও কমিয়ে দিলে ভালো হতো। ২৫ লাখ না করে ১০ লাখ হলে ভালো হতো। নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ শুরু করেছি। আমাদের নারী সদস্য ৩০ শতাংশের বেশি। ক্যাম্পাসে আমরা নারীদেরকে প্রার্থী করে ভবিষ্যৎ সংসদের প্রার্থী তৈরিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

খুলনা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজ রহমান বলেন, জুলাই না হলে আমি এখানে কথা বলতে পারতাম না। এ জাতি আর কোনও বৈষম্য দেখতে চায় না, গুম খুন বঞ্চনা দেখতে চায় না। এ জাতি ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। খুন চাঁদাবাজিসহ সব না চাওয়া বিষয়গুলো এখন চলমান। আমরা এই বাংলাদেশ দেখতে চাইনি। আমরা বিচার দৃশ্যমান দেখতে চাই, নির্বাচন দেশ জাতির আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার খুবই জরুরি। সংস্কার না হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে না। জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরি। নির্বাচনি ইশতেহারে এ বিষয়গুলো আসবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে নির্বাচন ভালো হবে না। নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরায়গুলো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।