Dhaka মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিজের কাজের মূল্যায়নে ১০০-তে ৭০ নম্বর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিজের কাজের মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেক উদ্যোগ শুরু করা গেলেও সবকিছু শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও জনগণের স্বার্থে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে, সেটিই বড় অর্জন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।

একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। ওটা একটু হিসাব-নিকাশ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সময় আপনি বলেছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছি। এখন আমরা এটা কনসিডার করব। গভর্নর তার মতো করে বলেছেন। তবে আমরা বলেছি অবশ্যই যারা ডিপোজিটর, যাদের টাকা আছে সবাই পাবেন। ৪২ হাজার কোটি টাকা কেন দেওয়া হলো? দ্বিতীয় বিষয়টি হলো শেয়ারহোল্ডার।

তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয় হলো টেকনিক্যাল। ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু নেগেটিভ হয়ে যাওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া একটি কারিগরি ও জটিল বিষয়। টেকনিক্যালরা বলে ওরা শেয়ার কিনেছে, ওরা তো ওনার, আপনি দেবেন কেন? তবু আমি বলেছি না, ওরা (শেয়ারহোল্ডাররা) হয় তো বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছেন। আমি বলেছি দেখা যাক কতোটুকু কি করা যায়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কীভাবে (ক্ষতিপূরণ) দেবো সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। অবশ্যই পরবর্তী অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা যখন নেতিবাচক হয়ে যায়, তখন পুরো দায় একতরফাভাবে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও যৌক্তিক নয়।

সেক্ষেত্রে কি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন বলেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। ধরেন কেউ বহু টাকার শেয়ার কিনেছেন, তাকে আংশিকভাবে শেয়ার দেওয়া হতে পারে বা বাকিটুকু হয়তো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। ওটা একটু হিসাব করতে হবে। কারণ বার্ডেনটা (বোঝা) তো পুরোটা শেয়ারহোল্ডাররা নিতে পারেন না।
ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু এককালীন সিদ্ধান্তে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে ব্যবসা-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরই থেকে যাবে। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেট ছাড়া টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চলমান উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে ব্যাংক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজশাহীতে ট্রাক-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২

নিজের কাজের মূল্যায়নে ১০০-তে ৭০ নম্বর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিজের কাজের মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেক উদ্যোগ শুরু করা গেলেও সবকিছু শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও জনগণের স্বার্থে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে, সেটিই বড় অর্জন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।

একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। ওটা একটু হিসাব-নিকাশ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সময় আপনি বলেছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছি। এখন আমরা এটা কনসিডার করব। গভর্নর তার মতো করে বলেছেন। তবে আমরা বলেছি অবশ্যই যারা ডিপোজিটর, যাদের টাকা আছে সবাই পাবেন। ৪২ হাজার কোটি টাকা কেন দেওয়া হলো? দ্বিতীয় বিষয়টি হলো শেয়ারহোল্ডার।

তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয় হলো টেকনিক্যাল। ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু নেগেটিভ হয়ে যাওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া একটি কারিগরি ও জটিল বিষয়। টেকনিক্যালরা বলে ওরা শেয়ার কিনেছে, ওরা তো ওনার, আপনি দেবেন কেন? তবু আমি বলেছি না, ওরা (শেয়ারহোল্ডাররা) হয় তো বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছেন। আমি বলেছি দেখা যাক কতোটুকু কি করা যায়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কীভাবে (ক্ষতিপূরণ) দেবো সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। অবশ্যই পরবর্তী অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা যখন নেতিবাচক হয়ে যায়, তখন পুরো দায় একতরফাভাবে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও যৌক্তিক নয়।

সেক্ষেত্রে কি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন বলেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। ধরেন কেউ বহু টাকার শেয়ার কিনেছেন, তাকে আংশিকভাবে শেয়ার দেওয়া হতে পারে বা বাকিটুকু হয়তো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। ওটা একটু হিসাব করতে হবে। কারণ বার্ডেনটা (বোঝা) তো পুরোটা শেয়ারহোল্ডাররা নিতে পারেন না।
ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু এককালীন সিদ্ধান্তে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে ব্যবসা-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরই থেকে যাবে। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেট ছাড়া টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চলমান উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে ব্যাংক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।