নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত করেন। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেটি আরও শক্তিশালী রূপ দেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি মেযেদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন। মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি চালু করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নারী শিক্ষার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। স্নাতকোত্তর পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে। আগামী ১০ মার্চ থেকে তা শুরু হবে। এভাবেই নারীদের সমৃদ্ধি আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাপী তার স্বীকৃতি ও সুনামের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধান।
নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মো. সাহাবুদ্দিন। বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মহান আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে নারী অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এ উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে গৃহস্থালির কাজ থেকে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, সরকার আন্তরিক হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি বর্তমানে অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। তাদের রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারার বাইরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
কবি নজরুলের কবিতার পঙ্কতি উদ্ধৃতি করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।
তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা করেন। আর ১৯৭৮ সালে গঠন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহও একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা অধিদফতরের মহাপরিচালক মিজ জিনাত আরা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়াসহ ৬ জনকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য ‘নারী পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















