Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারাইনের ঝড়ে উড়ে গেল দিল্লি

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৯০ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন সুনীল নারিন। দিল্লি বোলারদের বেদম পিটিয়ে মাত্র ৩৯ বলে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই ক্রিকেটার। বিধংসী ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৭টি করে ছক্কা এবং চারে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এটাই নারিনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করেছে তারা। দিল্লিকে ১০৬ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দলটি।

বুধবার (৩ মার্চ) আগে ব্যাট করতে নেমে দিল্লিকে ২৭৩ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় কলকাতা। জবাব দিতে ১৬৬ নেমে রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লি। এতে ১০৬ রানে বিশাল জয় পায় কলকাতা।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দিল্লি। ৭ বলে ১০ রান করে পৃথ্বী শা আউট হলেও শূন্য রান করে তার দেখানো পথে হাঁটেন মিচেল মার্শ এবং অভিষেক পোরেল। দিল্লি শিবিরে হাল ধরার চেষ্টা করেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি।

১৩ বলে ১৮ রান করে স্বদেশি স্টার্কে শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর ক্রিসটান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন ঋষভ পান্থ। ২৩ বলে ফিফটি তুলে নেন দিল্লির অধিনায়ক। ২৫ বলে ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। পরের বলেই ডাক আউট হন অক্ষর প্যাটেল এতে ১২৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দিল্লি।

কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন স্টাবস। এরপর বেশিক্ষণ পিচে থাকতে পারেননি তিনি। ৩২ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন সামিত কুমার।

শেষ পর্যন্ত রাসিক সালাম (১) এবং এনরিচ নরকিয়া ৪ রানে আউট হলে রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লি। এতে ১০৬ রানের বিশাল জয় পায় কলকাতা।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ভারুণ চক্রবর্তী ও ভাইভাব আরোরা তিনটি উইকেট শিকার করেন । এ ছাড়াও মিচেল স্টার্ক দুটি, আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারিন নেন এক করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তাদের ভুল প্রমাণ করেননি এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। মারকুটে ব্যাটিংয়ে ফিফটি হাঁকিয়েছেন মাত্র ২১ বলে। পরবর্তীতে যাকে তিনি ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে পরিণত করেছেন। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হলেও, ফিল সল্টকে নিয়ে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন নারিন। ইংলিশ ব্যাটার সল্ট (১২ বলে ১৮) বিদায় নিলে সঙ্গী বানান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ভারতীয় তরুণ রঘুবংশীকে।
এরপর দুজন মিলে রান তুলেছেন ঝড়ের বেগে। সেই জুটি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় ১০৪ রানের। তাতে দারুণ বিনোদন পাচ্ছিলেন গ্যালারিতে হাজির কলকাতার মালিক ও বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। তিনিও হাততালিতে ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে নাইট শিবির যখন নারিনের সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায়, তখনই এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মিচেল মার্শের বলে। তবে তার আগে ৩৯ বলে ৭টি করে চার-ছক্কায় খেলেন ৮৫ রানের ইনিংস। যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান। এরপর ২৫ বলে ফিফটি করেন রঘুবংশী। আউট হন ৫৪ রানে (২৭ বল)।

ততক্ষণে কলকাতা রেকর্ড সংগ্রহের পথে ছুটছে। শেষদিকে হায়দরাবাদের সর্বোচ্চ রানের সেই রেকর্ডও তারা প্রায় ভেঙে দিতে পারে মনে হচ্ছিল। তবে ইশান্ত শর্মার শেষ ওভারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তেমনটা ঘটেনি। এর আগে আন্দ্রে রাসেল মাত্র ১৯ বলে ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রান করেন। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ (১১ বল) ও রিঙ্কু সিং করেন ২৬ রান (৮ বল)।

দিল্লির হয়ে ৫৯ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এনরিখ নরকিয়া। এছাড়া ইশান্ত শর্মা ২টি এবং মিচেল মার্শ ও খলিল আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই দিল্লির বোলারদের উপর চড়াও হন কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ওপেনার সুনীল নারিন ও ফিল সল্ট। প্রথম দুই ওভারে আসে ১৭ রান। তৃতীয় ওভারে আরেকটু চড়াও হয়ে খেলা শুরু করেন নারিন। তাতে এই ওভারে নারিন এবং সল্ট মিলে খলিলকে ৩ চার মেরে তুলে নেন ১৫ রান।

ব্যাট হাতে ক্যারিবীয়রা কতোটা নির্মম হতে পারে, সেটা পরক্ষণেই আরেকবার টের পাইয়ে দেন নারিন। সেই সঙ্গে সল্ট। তাতে চতুর্থ ওভারেই দলীয় পঞ্চাশের ঘর পার হয়ে যায় কলকাতা। ইশান্ত শর্মা চতুর্থ ওভারে বল করতে এলে, তাকে পিটিয়ে ছাতু করেন নারিন। এক ওভারে ৩ ছয় ও ২ চারে তুলেন ২৬ রান।

এই ঝড় খানিক সময়ের জন্য থামে ফিল সল্ট ১২ বলে ১৮ রান করে আউট হলে। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে সল্টের ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। ২ রান হয় ওই বলে। কিন্তু পরের বলেই এনরিখ নরকিয়ার গতিতে পরাস্ত হয়ে স্টাবসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সল্ট। পরিবর্তে ক্রিজে আসেন অংক্রিশ রঘুবংশী।

রঘুবংশী নেমেই পরপর দু’টি চার হাঁকান নরকিয়াকে। এরপর আবার ঝড় শুরু করেন নারিন। ঝড় তুলে ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি করে ফেললেন। তার এই ইনিংসে রয়েছে ৪টি ছক্কা এবং ৬টি চার। পাওয়ার প্লে-তে নাইটদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেট হারিয়ে ৮৮। এই ধারা বজায় রেখে ম্যাচের অষ্টম ওভারেই ১০০ পার হয়ে যায় কলকাতা।

নারিন আর রঘুর ঝড় এতোই কঠিন ছিল যে ১০ ওভারেই কলকাতার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৫। সেখান থেকে পরের ওভারেই ১৫০ এর ঘরে পা রাখে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন দলটি। নারিনের তাণ্ডব দেখে মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি করেই উঠবেন। তবে সেটা হলো না। ১৫ রান দূরে থাকতে তাকে থামান নরকিয়া। ৩৯ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ক্যারিবিয়ান।

এরপর ক্রিজে আসেন আর এক ক্যারিবিয়ান তারকা আন্দ্রে রাসেল। এর মধ্যেই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন রঘুবংশী। ২৫ বলে অর্ধশত রান করে ফেলেন তরুণ ব্যাটার। শেষমেশ ২৭ বলে ৫৪ করে সাজঘরে ফিরেন রঘুবংশী। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। উইকেট পড়লেও রাসেল তাণ্ডব বজায় রাখেন। তাতে ১৬তম ওভারে কলকাতাও পার করে ফেলে ২০০ রানের ঘর।

বাকি পথটা দিল্লির বোলারদের উপর টর্নেডো চালান রাসেল ও রিঙ্কু সিং। রাসেল মাত্র ১৯ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে করেন ৪১ রান। রিঙ্কু ৩ ছক্কা ও ১ চারের মারে করেন ২৬ রান। আর তাতেই আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে কলকাতা।

দিল্লির হয়ে ৫৯ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এনরিখ নরকিয়া। এছাড়া ইশান্ত শর্মা ২টি এবং মিচেল মার্শ ও খলিল আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নারাইনের ঝড়ে উড়ে গেল দিল্লি

প্রকাশের সময় : ১২:০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন সুনীল নারিন। দিল্লি বোলারদের বেদম পিটিয়ে মাত্র ৩৯ বলে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই ক্রিকেটার। বিধংসী ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৭টি করে ছক্কা এবং চারে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এটাই নারিনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করেছে তারা। দিল্লিকে ১০৬ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দলটি।

বুধবার (৩ মার্চ) আগে ব্যাট করতে নেমে দিল্লিকে ২৭৩ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় কলকাতা। জবাব দিতে ১৬৬ নেমে রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লি। এতে ১০৬ রানে বিশাল জয় পায় কলকাতা।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দিল্লি। ৭ বলে ১০ রান করে পৃথ্বী শা আউট হলেও শূন্য রান করে তার দেখানো পথে হাঁটেন মিচেল মার্শ এবং অভিষেক পোরেল। দিল্লি শিবিরে হাল ধরার চেষ্টা করেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি।

১৩ বলে ১৮ রান করে স্বদেশি স্টার্কে শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর ক্রিসটান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন ঋষভ পান্থ। ২৩ বলে ফিফটি তুলে নেন দিল্লির অধিনায়ক। ২৫ বলে ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। পরের বলেই ডাক আউট হন অক্ষর প্যাটেল এতে ১২৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দিল্লি।

কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন স্টাবস। এরপর বেশিক্ষণ পিচে থাকতে পারেননি তিনি। ৩২ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন সামিত কুমার।

শেষ পর্যন্ত রাসিক সালাম (১) এবং এনরিচ নরকিয়া ৪ রানে আউট হলে রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লি। এতে ১০৬ রানের বিশাল জয় পায় কলকাতা।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ভারুণ চক্রবর্তী ও ভাইভাব আরোরা তিনটি উইকেট শিকার করেন । এ ছাড়াও মিচেল স্টার্ক দুটি, আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারিন নেন এক করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তাদের ভুল প্রমাণ করেননি এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। মারকুটে ব্যাটিংয়ে ফিফটি হাঁকিয়েছেন মাত্র ২১ বলে। পরবর্তীতে যাকে তিনি ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে পরিণত করেছেন। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হলেও, ফিল সল্টকে নিয়ে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন নারিন। ইংলিশ ব্যাটার সল্ট (১২ বলে ১৮) বিদায় নিলে সঙ্গী বানান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ভারতীয় তরুণ রঘুবংশীকে।
এরপর দুজন মিলে রান তুলেছেন ঝড়ের বেগে। সেই জুটি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় ১০৪ রানের। তাতে দারুণ বিনোদন পাচ্ছিলেন গ্যালারিতে হাজির কলকাতার মালিক ও বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। তিনিও হাততালিতে ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে নাইট শিবির যখন নারিনের সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায়, তখনই এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মিচেল মার্শের বলে। তবে তার আগে ৩৯ বলে ৭টি করে চার-ছক্কায় খেলেন ৮৫ রানের ইনিংস। যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান। এরপর ২৫ বলে ফিফটি করেন রঘুবংশী। আউট হন ৫৪ রানে (২৭ বল)।

ততক্ষণে কলকাতা রেকর্ড সংগ্রহের পথে ছুটছে। শেষদিকে হায়দরাবাদের সর্বোচ্চ রানের সেই রেকর্ডও তারা প্রায় ভেঙে দিতে পারে মনে হচ্ছিল। তবে ইশান্ত শর্মার শেষ ওভারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তেমনটা ঘটেনি। এর আগে আন্দ্রে রাসেল মাত্র ১৯ বলে ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রান করেন। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ (১১ বল) ও রিঙ্কু সিং করেন ২৬ রান (৮ বল)।

দিল্লির হয়ে ৫৯ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এনরিখ নরকিয়া। এছাড়া ইশান্ত শর্মা ২টি এবং মিচেল মার্শ ও খলিল আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই দিল্লির বোলারদের উপর চড়াও হন কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ওপেনার সুনীল নারিন ও ফিল সল্ট। প্রথম দুই ওভারে আসে ১৭ রান। তৃতীয় ওভারে আরেকটু চড়াও হয়ে খেলা শুরু করেন নারিন। তাতে এই ওভারে নারিন এবং সল্ট মিলে খলিলকে ৩ চার মেরে তুলে নেন ১৫ রান।

ব্যাট হাতে ক্যারিবীয়রা কতোটা নির্মম হতে পারে, সেটা পরক্ষণেই আরেকবার টের পাইয়ে দেন নারিন। সেই সঙ্গে সল্ট। তাতে চতুর্থ ওভারেই দলীয় পঞ্চাশের ঘর পার হয়ে যায় কলকাতা। ইশান্ত শর্মা চতুর্থ ওভারে বল করতে এলে, তাকে পিটিয়ে ছাতু করেন নারিন। এক ওভারে ৩ ছয় ও ২ চারে তুলেন ২৬ রান।

এই ঝড় খানিক সময়ের জন্য থামে ফিল সল্ট ১২ বলে ১৮ রান করে আউট হলে। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে সল্টের ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। ২ রান হয় ওই বলে। কিন্তু পরের বলেই এনরিখ নরকিয়ার গতিতে পরাস্ত হয়ে স্টাবসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সল্ট। পরিবর্তে ক্রিজে আসেন অংক্রিশ রঘুবংশী।

রঘুবংশী নেমেই পরপর দু’টি চার হাঁকান নরকিয়াকে। এরপর আবার ঝড় শুরু করেন নারিন। ঝড় তুলে ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি করে ফেললেন। তার এই ইনিংসে রয়েছে ৪টি ছক্কা এবং ৬টি চার। পাওয়ার প্লে-তে নাইটদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেট হারিয়ে ৮৮। এই ধারা বজায় রেখে ম্যাচের অষ্টম ওভারেই ১০০ পার হয়ে যায় কলকাতা।

নারিন আর রঘুর ঝড় এতোই কঠিন ছিল যে ১০ ওভারেই কলকাতার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৫। সেখান থেকে পরের ওভারেই ১৫০ এর ঘরে পা রাখে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন দলটি। নারিনের তাণ্ডব দেখে মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি করেই উঠবেন। তবে সেটা হলো না। ১৫ রান দূরে থাকতে তাকে থামান নরকিয়া। ৩৯ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ক্যারিবিয়ান।

এরপর ক্রিজে আসেন আর এক ক্যারিবিয়ান তারকা আন্দ্রে রাসেল। এর মধ্যেই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন রঘুবংশী। ২৫ বলে অর্ধশত রান করে ফেলেন তরুণ ব্যাটার। শেষমেশ ২৭ বলে ৫৪ করে সাজঘরে ফিরেন রঘুবংশী। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। উইকেট পড়লেও রাসেল তাণ্ডব বজায় রাখেন। তাতে ১৬তম ওভারে কলকাতাও পার করে ফেলে ২০০ রানের ঘর।

বাকি পথটা দিল্লির বোলারদের উপর টর্নেডো চালান রাসেল ও রিঙ্কু সিং। রাসেল মাত্র ১৯ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে করেন ৪১ রান। রিঙ্কু ৩ ছক্কা ও ১ চারের মারে করেন ২৬ রান। আর তাতেই আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে কলকাতা।

দিল্লির হয়ে ৫৯ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এনরিখ নরকিয়া। এছাড়া ইশান্ত শর্মা ২টি এবং মিচেল মার্শ ও খলিল আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।