নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। আমরা যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতাকে রক্ষা করব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখব। নতুন করে শত্রুরা হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সামনে আরও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষ আবার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা ক্ষ্য করছি, একটি মহল সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। শত্রুরা আবার হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সামনে আরো হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি কোনো আপস করবে না। আমরা যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখব। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করতে নানা ধরনের চক্রান্ত চললেও শেষ পর্যন্ত জনগণই বিজয়ী হবে। সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করবে। যথাসময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক-হানাদার বাহিনীর পরাজয় আসন্ন হয়ে উঠেছে। চতুর্দিক থেকে মুক্তিবাহিনী যখন ঢাকা ঘিরে ফেলেছে, সেই সময়ে পাক হানাদার বাহিনী তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই দেশের সকল বুদ্ধিবৃত্তিকভিত্তি বিনষ্ট করে দেওয়ার জন্য এই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তুলে নিয়ে যায়। পাক হানাদার বাহিনী তাদের দোসরদের সঙ্গে জোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক অনেককে হত্যা করেছে। এইদিনে আমরা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছি।”
তিনি বলেন, “এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মেধাহীন করে দেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড। একইভাবে দূর্ভাগ্যক্রমে ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে।”
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বলেন, যখন পাক হানাদার বাহিনীর জয় অসাধ্য হয়ে উঠেছিল, চতুর্দিক থেকে যখন মুক্তিবাহিনী ঢাকা ঘিরে ফেলেছে; সেই সময় পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের সমস্ত মেধাকে বিনষ্ট করে দেওয়ার জন্য দোসরদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ অনেককে তারা তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল। এভাবেই আমরা আমাদের সর্বশেষ্ঠ সন্তানদের হারাই। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে মেধাহীন করে দেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আজকে আমাদের এই দিনে বার বার আমরা সেই কথা মনে করি। একইভাবে আমরা সবাই জানি যে, ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত পরশু যে ঘটনা ঘটেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং আমরা আশঙ্কা করছি যে, এইরকম আরও ঘটনা ঘটতে পারে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আমাদের অসুস্থ নেত্রী খালেদা জিয়া, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসেছি এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছি। আমরা এই শপথ নিয়েছি যে, আমরা যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করব, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের সবার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমাদের নেতা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই বাংলাদেশের যে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা এবং ঢাকা মহানগর ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























