Dhaka শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন : তারেক রহমান

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষ সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন। আমাদেরকে অবশ্যই শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব- ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে। একই সাথে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দিবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।

এসময় ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামের ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, এরকম হাজারো মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, সেই ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেমন তাদের জীবন উৎসর্গকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারবো, একইভাবে তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি সে জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, একইসঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটি দেবে, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’র, সেখানে ‘হ্যাঁ’ র পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন।

তারেক রহমান বলেন, সবাই বলে, রংপুর গরীব অঞ্চল। আমি মনে করি, এ অঞ্চল সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঞ্চল, শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব। এ রংপুরের মাটি আবু সাঈদের পবিত্র রক্তে মেশানো মাটি। এ অঞ্চল মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল। এখানকার মানুষ কৃষিনির্ভর। আমরা দেখেছি কীভাবে গত ১৬ বছর এ এলাকার কৃষকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে তারা যে ত্যাগ করেছেন, তা বৃথা যেতে পারে না। আমাদের যেকোনো মূল্যে সে ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হবে। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তারা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সে স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ জিয়া শাসনভার গ্রহনের আগে এ অঞ্চলে বোরো ধান চাষ হতো না। তরুণরা জানবে না, কিন্তু মুরুব্বিরা জানেন। তার হাত ধরেই এ অঞ্চলে এ ধানের চাষ শুরু হয়েছিল।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইলেন তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, রংপুরকে সত্যিকারের উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে হলে সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সেই নেতৃত্ব আমরা দিতে প্রস্তুত। পীরগঞ্জের কয়লা দিয়ে আমরা অনেক উন্নয়ন করতে পারব। রংপুরের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর বিভাগকে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে যাতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। আইটি কোম্পানির ক্ষেত্রে করের ছাড় দেওয়া হবে।

আবু সাঈদের স্বপ্ন পূরণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আবু সাঈদের স্বপ্ন পূরণ করব। তার আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশের জনগণকে সামনের কাতারে এসে বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন করবে; এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকল মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সকলের হাতে সহযোগিতা পৌঁছাবে। প্রত্যেক কৃষকের হাতে একটি ফসলের বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা খুবই দরকার। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমরা রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত অঞ্চলে পরিণত করব।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ তারিখ সরকার গঠন করলে কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হবে। রংপুর অঞ্চলের সকল এনজিও ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হবে।

রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার নির্বাচনি সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি: বিএনপির ফেইসবুক পেইজ

তিনি রংপুরকে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, রংপুরকে সত্যিকারের উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে হলে সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সেই নেতৃত্ব আমরা দিতে প্রস্তুত।

আবু সাঈদের এলাকা পীরগঞ্জে কয়লা খনির উল্লেখ করে বলেন, এই কয়লা দিয়ে আমরা অনেক উন্নয়ন করতে পারব। রংপুরের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর বিভাগকে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে যাতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। আইটি কোম্পানির ক্ষেত্রে করের ছাড় দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশের জনগণকে সামনের কাতারে এসে বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন করবে; এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

নারী ও কৃষকদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকল মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সকলের হাতে সহযোগিতা পৌঁছাবে। প্রত্যেক কৃষকের হাতে একটি ফসলের বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা খুবই দরকার। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমরা রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত অঞ্চলে পরিণত করব।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া, নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘খারাপ হলে’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন পাঁচ বছর জোটসঙ্গী হিসেবে ছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারেক রহমান।

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একটি দল আছে, যার বিএনপির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরে মিথ্যা বলে যাচ্ছে; আজও বলেছে। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই জোট সরকারে বিএনপির প্রধান শরিক দল ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ওই সরকারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাদের দুজন আমাদের সঙ্গে ছিল; ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। আমার প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষের সঙ্গেই তো ভালো মানুষ থাকে, নাকি? বিএনপি যদি খারাপ দলই হয়, তাহলে তারা পাঁচ বছর কেন সঙ্গে ছিল?

তারেক রহমান বলেন, হয় দলটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে, নয়ত নিজেদের নেতৃত্ব সম্পর্কে তারা ভুল কথা বলছে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?’ জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

তার আগমন উপলক্ষে দুপুর থেকে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নেতাকর্মীর আসতে শুরু করেন। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের হাতে দেখা যায় ধানের ছড়া ও প্রার্থীদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।

বিকাল সাড়ে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে ধানের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। রংপুর-১ আসনে মোকাররম হোসেন, রংপুর-২ আসনে মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ আসনে সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রাব্বানী ও রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলামও সমাবেশে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের আব্দুস ছালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের মো. জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-১ আসনের মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের একেএম কামরুজ্জামান, নীলফামারী-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম আফ্রিদি (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম), নীলফামারী-২ আসনের মো. সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৩ আসনের শাহরিন, নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল গফুর সরকার, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের রোকন উদ্দিন বাবুল, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাইফুল রহমান রানা, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের তাজভীর উল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনের খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, গাইবান্ধা-২ আসনের আনিসুজ্জামান খান বাবু, গাইবান্ধা-৩ আসনের সৈয়দ মঈনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা-৪ আসনের মো. শামিম কায়সার লিঙ্কন ও গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফারুক আলম সরকারও কর্মী-সমর্থক নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রিয়ালের সামনে আবারো বেনফিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে কে কার মুখোমুখি

ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন : তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ১০:০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষ সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন। আমাদেরকে অবশ্যই শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব- ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে। একই সাথে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দিবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।

এসময় ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামের ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, এরকম হাজারো মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, সেই ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেমন তাদের জীবন উৎসর্গকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারবো, একইভাবে তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি সে জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, একইসঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটি দেবে, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’র, সেখানে ‘হ্যাঁ’ র পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন।

তারেক রহমান বলেন, সবাই বলে, রংপুর গরীব অঞ্চল। আমি মনে করি, এ অঞ্চল সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঞ্চল, শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব। এ রংপুরের মাটি আবু সাঈদের পবিত্র রক্তে মেশানো মাটি। এ অঞ্চল মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল। এখানকার মানুষ কৃষিনির্ভর। আমরা দেখেছি কীভাবে গত ১৬ বছর এ এলাকার কৃষকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে তারা যে ত্যাগ করেছেন, তা বৃথা যেতে পারে না। আমাদের যেকোনো মূল্যে সে ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হবে। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তারা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সে স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ জিয়া শাসনভার গ্রহনের আগে এ অঞ্চলে বোরো ধান চাষ হতো না। তরুণরা জানবে না, কিন্তু মুরুব্বিরা জানেন। তার হাত ধরেই এ অঞ্চলে এ ধানের চাষ শুরু হয়েছিল।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইলেন তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, রংপুরকে সত্যিকারের উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে হলে সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সেই নেতৃত্ব আমরা দিতে প্রস্তুত। পীরগঞ্জের কয়লা দিয়ে আমরা অনেক উন্নয়ন করতে পারব। রংপুরের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর বিভাগকে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে যাতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। আইটি কোম্পানির ক্ষেত্রে করের ছাড় দেওয়া হবে।

আবু সাঈদের স্বপ্ন পূরণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আবু সাঈদের স্বপ্ন পূরণ করব। তার আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশের জনগণকে সামনের কাতারে এসে বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন করবে; এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকল মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সকলের হাতে সহযোগিতা পৌঁছাবে। প্রত্যেক কৃষকের হাতে একটি ফসলের বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা খুবই দরকার। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমরা রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত অঞ্চলে পরিণত করব।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ তারিখ সরকার গঠন করলে কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হবে। রংপুর অঞ্চলের সকল এনজিও ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হবে।

রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার নির্বাচনি সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি: বিএনপির ফেইসবুক পেইজ

তিনি রংপুরকে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, রংপুরকে সত্যিকারের উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে হলে সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সেই নেতৃত্ব আমরা দিতে প্রস্তুত।

আবু সাঈদের এলাকা পীরগঞ্জে কয়লা খনির উল্লেখ করে বলেন, এই কয়লা দিয়ে আমরা অনেক উন্নয়ন করতে পারব। রংপুরের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর বিভাগকে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে যাতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। আইটি কোম্পানির ক্ষেত্রে করের ছাড় দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশের জনগণকে সামনের কাতারে এসে বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন করবে; এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

নারী ও কৃষকদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকল মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সকলের হাতে সহযোগিতা পৌঁছাবে। প্রত্যেক কৃষকের হাতে একটি ফসলের বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা খুবই দরকার। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমরা রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত অঞ্চলে পরিণত করব।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া, নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘খারাপ হলে’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন পাঁচ বছর জোটসঙ্গী হিসেবে ছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারেক রহমান।

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একটি দল আছে, যার বিএনপির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরে মিথ্যা বলে যাচ্ছে; আজও বলেছে। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই জোট সরকারে বিএনপির প্রধান শরিক দল ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ওই সরকারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাদের দুজন আমাদের সঙ্গে ছিল; ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। আমার প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষের সঙ্গেই তো ভালো মানুষ থাকে, নাকি? বিএনপি যদি খারাপ দলই হয়, তাহলে তারা পাঁচ বছর কেন সঙ্গে ছিল?

তারেক রহমান বলেন, হয় দলটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে, নয়ত নিজেদের নেতৃত্ব সম্পর্কে তারা ভুল কথা বলছে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?’ জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

তার আগমন উপলক্ষে দুপুর থেকে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নেতাকর্মীর আসতে শুরু করেন। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের হাতে দেখা যায় ধানের ছড়া ও প্রার্থীদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।

বিকাল সাড়ে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে ধানের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। রংপুর-১ আসনে মোকাররম হোসেন, রংপুর-২ আসনে মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ আসনে সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রাব্বানী ও রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলামও সমাবেশে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের আব্দুস ছালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের মো. জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-১ আসনের মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের একেএম কামরুজ্জামান, নীলফামারী-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম আফ্রিদি (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম), নীলফামারী-২ আসনের মো. সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৩ আসনের শাহরিন, নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল গফুর সরকার, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের রোকন উদ্দিন বাবুল, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাইফুল রহমান রানা, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের তাজভীর উল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনের খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, গাইবান্ধা-২ আসনের আনিসুজ্জামান খান বাবু, গাইবান্ধা-৩ আসনের সৈয়দ মঈনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা-৪ আসনের মো. শামিম কায়সার লিঙ্কন ও গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফারুক আলম সরকারও কর্মী-সমর্থক নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন।