Dhaka সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্মের উসিলায় রাজনীতি করছে একটি দল : সালাহউদ্দিন আহমদ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি দল যাদের দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা ধর্মের উসিলায় রাজনীতি করছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় চকরিয়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে শহীদ আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি দল যাদের দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা ধর্মের উসিলায় রাজনীতি করছে। কিন্তু ধর্ম রাজনীতির অঙ্গ হতে পারে না। অনেকেই ধর্মের বাহানা দিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। এতে যেন আমরা বিভ্রান্ত না হই।

তিনি বলেন, সংবিধানে এমনভাবে সংশোধনী আনা হবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে, যাতে করে গণতন্ত্রকে পাহারা দিতে পারে। আগামীতে দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ক্ষমতায় গেলে দরিদ্র পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগামীতে দেশে যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে- এমনভাবে সংবিধানে সংশোধনী আনা হবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে, যাতে করে গণতন্ত্রকে পাহারা দিতে পারে- এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আগামী নির্বাচন হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের বাঁক বদলে দেওয়ার নির্বাচন, আমাদের আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন, এ দেশে সবাই সাম্য-মর্যাদা ও সুবিচার চায় সেটা প্রতিষ্ঠা করার নির্বাচন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন আপনারা কদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের কর্মসূচি কি? আমি জানি না তাদের কর্মসূচি কী, তাদের বক্তব্য বিবৃতিতে দেখা যায় তারা শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি করে, ধর্মের উসিলায় তারা মানুষের কাছ থেকে ভোট চায়। বাংলাদেশে আমরা যার যে ধর্ম, সে সই ধর্ম পালন করি স্বাধীনভাবে। যার যার উপাসনালয়ে স্বাধীনভাবে যাই। ধর্ম রাজনীতির অঙ্গ হতে পারে। সুতরাং কেউ কেউ ধর্মের বাহানা দিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। এতে যেন আমরা বিভ্রান্ত না হই। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের বসবাস। সবার সাংবিধানিক অধিকার সমান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। যাঁরা আগে আওয়ামী লীগ করতেন, তাঁদের ভুল নিশ্চয়ই এখন ভেঙেছে। তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শক্তি। আওয়ামী লীগের কখনোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র ছিল না। তিনি বলেন, যাঁরা এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা স্বাধীনতাপন্থী শক্তির সঙ্গে থাকুন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা একা পালিয়ে গেলেও তাঁর সব কর্মী দেশ ছেড়ে যেতে পারেননি। সবার তো আর দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, শেখ হাসিনাও সবাইকে নিয়ে যেতে পারেননি। দেশে যাঁরা রয়ে গেছেন, আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, যাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা রাজনীতি করতেই পারেন। সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।’

এ সময় চকরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, সাবেক সহসভাপতি আবদুল মতলব চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ধর্মের উসিলায় রাজনীতি করছে একটি দল : সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি দল যাদের দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা ধর্মের উসিলায় রাজনীতি করছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় চকরিয়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে শহীদ আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি দল যাদের দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা ধর্মের উসিলায় রাজনীতি করছে। কিন্তু ধর্ম রাজনীতির অঙ্গ হতে পারে না। অনেকেই ধর্মের বাহানা দিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। এতে যেন আমরা বিভ্রান্ত না হই।

তিনি বলেন, সংবিধানে এমনভাবে সংশোধনী আনা হবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে, যাতে করে গণতন্ত্রকে পাহারা দিতে পারে। আগামীতে দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ক্ষমতায় গেলে দরিদ্র পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগামীতে দেশে যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে- এমনভাবে সংবিধানে সংশোধনী আনা হবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে, যাতে করে গণতন্ত্রকে পাহারা দিতে পারে- এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আগামী নির্বাচন হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের বাঁক বদলে দেওয়ার নির্বাচন, আমাদের আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন, এ দেশে সবাই সাম্য-মর্যাদা ও সুবিচার চায় সেটা প্রতিষ্ঠা করার নির্বাচন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন আপনারা কদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের কর্মসূচি কি? আমি জানি না তাদের কর্মসূচি কী, তাদের বক্তব্য বিবৃতিতে দেখা যায় তারা শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি করে, ধর্মের উসিলায় তারা মানুষের কাছ থেকে ভোট চায়। বাংলাদেশে আমরা যার যে ধর্ম, সে সই ধর্ম পালন করি স্বাধীনভাবে। যার যার উপাসনালয়ে স্বাধীনভাবে যাই। ধর্ম রাজনীতির অঙ্গ হতে পারে। সুতরাং কেউ কেউ ধর্মের বাহানা দিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। এতে যেন আমরা বিভ্রান্ত না হই। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের বসবাস। সবার সাংবিধানিক অধিকার সমান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। যাঁরা আগে আওয়ামী লীগ করতেন, তাঁদের ভুল নিশ্চয়ই এখন ভেঙেছে। তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শক্তি। আওয়ামী লীগের কখনোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র ছিল না। তিনি বলেন, যাঁরা এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা স্বাধীনতাপন্থী শক্তির সঙ্গে থাকুন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা একা পালিয়ে গেলেও তাঁর সব কর্মী দেশ ছেড়ে যেতে পারেননি। সবার তো আর দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, শেখ হাসিনাও সবাইকে নিয়ে যেতে পারেননি। দেশে যাঁরা রয়ে গেছেন, আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, যাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা রাজনীতি করতেই পারেন। সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।’

এ সময় চকরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, সাবেক সহসভাপতি আবদুল মতলব চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন।