কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমার সন্ধান পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সেই বস্তুটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত করে রেখেছে পুলিশ।
উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী (৮নং ওয়ার্ড) এলাকায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয়দের দেওয়া খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সম্ভাব্য বস্তুটি সংরক্ষণ করে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার হওয়া অবিস্ফোরিত কিংবা অকার্যকর বোমা বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়ছেন ১০ বছর আগে ওই এলাকায় একটি পুকুরে সেটি পাওয়া যায় এবং পুকুরের পাশে কাপড় ধোঁয়ার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল।
তিনি বলেন, বোমাটির সংরক্ষণ স্থান নজরদারিতে রয়েছে, সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে তারা পরিদর্শনে এসেছেন। বোমাটির কার্যকরিতা ও এর মধ্যে বিস্ফোরক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া বলেন, বস্তুটির আকৃতি দেখে মনে হচ্ছে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা এবং সেসময়ে এই অঞ্চলে জাপানিরা যুদ্ধকালীন এমন বোমা ব্যবহার করেছে। যদি এর মধ্যে বিস্ফোরক থাকে তাহলে জননিরাপত্তার স্বার্থে নিষ্ক্রিয় করতে হবে এবং না থাকলে সংরক্ষণ করা উচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে। কারণ এটি রামুর ইতিহাসের অংশ।
বোমা সদৃশ বস্তুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ রামুর জনসাধারণের মাঝে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বোমাটির আকার অনেকটা বড় গ্যাস সিলিন্ডারের মতো, এবং দৈর্ঘ্যে বেশ বড়। স্থানীয়দের মধ্যে এটি নিয়ে চমক এবং কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে তারা বুঝতে পারছে যে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বস্তু হতে পারে, অন্যদিকে এই বোমার ইতিহাসও তাদের নজর কাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এটি আসলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা? কীভাবে এর সঙ্গে জড়িত ইতিহাস?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বোমার পাশে তারা যুগের পর যুগ কাপড় ধুয়ে আসছেন, অথচ কোনো দিনই এটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে ভাবেননি। অনেকেই এখন শঙ্কিত যে, এর মধ্যে যদি বিস্ফোরক থাকে, তাহলে এটির প্রভাব কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি 




















