কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :
খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে এবং তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কোনো মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে না এমন নিশ্চয়তা দিতে সরকার কাজ করছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ফসল বীমা (ইনস্যুরেন্স) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে বীমা সুবিধার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যাতে কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত না হন। কৃষকদের জন্য কেবল কৃষক কার্ডই নয়, তাদের উৎপাদিত ফসলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার কাজ করছে সরকার।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি বলেন, এই দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করে যাচ্ছেন, বিএনপি যা বলে, তা বাস্তবায়ন করে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানিসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে এসব উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু আমাদের দল ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফসল বীমা চালু হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি খাতে প্রণোদনা, সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক ভূঁইয়া স্বপন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মহানগর বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার, আমড়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মিয়াজ মাহমুদ সোহেলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আমড়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৭৯ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি 



















