নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে কোনো প্রকার দুর্নীতি প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি অধিবেশনে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ১৩ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আমার এলাকায় সড়কের অবস্থা বেহাল। বর্ষাকালে রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে মানুষ ঠিকমতো বাড়ি পৌঁছাতে পারে না। চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারেন না। ফলে পণ্যের সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
রাস্তার পরিসংখ্যান তুল ধরে তিনি বলেন, কাউনিয়া উপজেলায় মোট ৫৩৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার পাকা, আর ৩৩৭ কিলোমিটার এখনো কাঁচা সড়ক।
পীরগাছা উপজেলায় ৮৪২ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ২৫১ কিলোমিটার পাকা, আর ৫৯১ কিলোমিটার এখনো কাঁচা। পুরো আসনে (রংপুর-৪) ১ হাজার ৩৭৭ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ৪৮৯ কিলোমিটার পাকা এবং এখনো ৮৮৮ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ বাকি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সরকার মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াত ব্যবস্থা ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সুবিধার্থে রুটিন কাজের বাইরে রাস্তা পাকাকরণের জন্য বিশেষ কোনো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে কিনা।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমি সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে মেগা প্রজেক্টগুলোতে চরম দুর্নীতি হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকায় বেশি বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে করে উত্তরাঞ্চলের রাস্তাঘাট চরমভাবে অবহেলিত থেকে গেছে।
তাই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে আগামী দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে যে চরম দুর্নীতি করা হয়েছে তা আমরা উপলব্ধি করছি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীলরাও নিজ নিজ এলাকায় ফান্ড নিয়ে চলে গেছেন। যারা কারণে উত্তরাঞ্চলের রাস্তাগুলো একেবারেই অবহেলিত থেকে গেছে। আমরা আগামীতে এ ধরনের কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে গ্রাম-অঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নতি হয়নি। রাস্তাগুলো এখনো কাঁচা হয়েছে। এই রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করবো।”
প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকার সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ নিয়েও তথ্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফেনী-২ আসনের জয়নাল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা মহানগরীতে ১২১টি রাস্তা ও স্থাপনার নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮৩টি এবং দক্ষিণের ৩৮টি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক, সাংবাদিক এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নামে সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে।
তার উপস্থাপিত তালিকার ৪৫ নম্বরে রয়েছে, মধুবাগের নবনির্মিত একটি কমিউনিটি সেন্টার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কমপ্লেক্স’। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নামটি চব্বিশের অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ও বর্তমানে ভারতে পলাতক থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নামে করা হয়েছে। তবে এই নামকরণ কবে করা হয়েছে, তা তালিকায় বলা হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর কয়েকটি সড়ক ও স্থাপনার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে গেন্ডারিয়ার দ্বীননাথ সেন রোডের নাম ‘শহীদ শাহরিয়ার আনাস সড়ক’, শেখ কামাল সরণির নাম ‘শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সড়ক’ এবং বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের নাম ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’ রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক সিদ্ধান্তে মধুবাগের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কমপ্লেক্স’ নাম বদলে ‘মধুবাগ কমিউনিটি সেন্টার’ করার কথা জানানো হয়েছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















