নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ সময়ের জঞ্জাল দেড় বছরের সরকারের পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চটুকু করেছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ৫৪ বছরের জঞ্জাল দেড় বছরের সরকারের পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এই সময়ে যতটুকু সম্ভব তা করা হয়েছে। তাই দায়িত্ব ছাড়ার পর জবাবদিহিতা দিতে বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে সমস্যা নেই।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) বাংলাদেশের পরিবেশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের স্বল্প মেয়াদের কারণে নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো সংস্কারের জন্য ৬টি কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছে। এক্ষেত্রে পরিবেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। সরকারের সংস্কার কমিশনগুলো নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে করা হয়েছিল। পরিবেশ ইস্যুতে নাগরিকদের নিয়ে এ ধরনের কমিশন গঠন করা যেতে পারে। বেসরকারি উদ্যোগে সেটা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি অগ্রাধিকার দিচ্ছে না, এই অভিযোগ সঠিক নয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পৃথক পরিবেশ ক্যাডার প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন পরিবেশকে মৌলিক অধিকারের তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু এসব সুপারিশ বর্তমান সরকারের স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
নিজ দফতরের কাজের বিষয়ে এ সময় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘পলিথিন নিষিদ্ধের আইন ছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করেছে, এটাই সংস্কার। সেন্টমার্টিনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় প্রাণবৈচিত্র্য ফিরেছে এটাও সংস্কার, কিন্তু কোনো পরিবেশবাদী এর পক্ষে দাঁড়ায়নি। চারটি নদী এবং ২০টি খাল দূষণকারী ৭৫০ শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা হয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ চলমান।’
এ ছাড়া বায়ুদূষণ রোধে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো তিন বছর বজায় রাখতে পারলে দূষণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় পান্থকুঞ্জ পার্কে র্যাম্প স্থাপন নিয়ে তিনি বলেন, র্যাম্প হওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিগত সরকারের, র্যাম্প হবে না এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের। আদালতও এই কাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছে, কিন্তু পুরোটা বাতিল করলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাই পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) উদ্যোগে এবং দেশের ৫৪টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার।
সম্মেলনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাপা সহ-সভাপতি ও বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম। বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ এবং বেনের বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























