স্পোর্টস ডেস্ক :
একটা সময় মনে হচ্ছিল, সহজেই জিতে যাবে বাংলাদেশ। সেখান থেকে শেষদিকে এসে জমে উঠে ম্যাচ। এমনকি হারের শঙ্কাও পেয়ে বসেছিল বাংলাদেশকে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দারুণ ব্যাটিংয়ে সেই শঙ্কা দূর করে দিলেন। শেষ ওভারে দারুণ এক জয় পেলো লিটন দাসের দল। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেট আর ২ বল হাতে রেখে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে তোলে ১৭০ রান। শেষ দিকের স্নায়ুক্ষয়ী সময় পেরিয়ে বাংলাদেশ জিতে যায় দুই বল বাকি রেখে।
তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংস উপহার দিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ অধিনায়ক লিটন।
তবে পুরস্কারটি অনায়াসে পেতে পারতেন শেখ মেহেদি হাসানও। প্রথম ওভারে ১৩ রান দেওয়ার পরও চার ওভারে স্রেফ ২৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন এই অফ স্পিনার। দলকে জয় এনে দেওয়া নান্দনিক চার আসে তার ব্যাট থেকেই।
তবে শেষ দিকের চ্যালেঞ্জে দল উতরে যায় একাদশে ফেরা সাইফের ৭ বলে ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে।
আগের ম্যাচের মতো আইরিশদের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। একাদশে ফেরা শেখ মেহেদি হাসানের প্রথম ওভারে তিনটি চার মারেন টিম টেক্টর। পরের ওভারে নাসুম আহমেদকে চার ও ছক্কা মারেন পল স্টার্লিং।
পরে সাইফ উদ্দিনের ওভারে দুটি চার একটি ছক্কা মারেন স্টার্লিং। তানজিম হাসানের বলে টিম টেক্টরের ছক্কায় পাঁচ ওভারেই রান পেরিয়ে যায় পঞ্চাশ।
ওই ওভারেই সাইফ হাসানের দারুণ ক্যাচে শেষ হয় স্টার্লিংয়ের ইনিংস (১৪ বলে ২৯)। জুটি থামে ২৮ বলে ৫৭ রানে। আইরিশদের রান অভিযান তাতে থামেনি। মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম ওভারে ছক্কা ও চার মেরে দেন টিম টেক্টর। পাওয়ারে প্লেতে রান আসে ৭৫।
পাওয়ার প্লে শেষে রানের গতিতে টানে বাংলাদেশ। মেহেদি ও নাসুমের টানা দুই ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এই পথ ধরেই ধরা দেয় উইকেট। শেখ মেহেদি এক ওভারেই বিদায় করেন দুই টেক্টর ভাইকে।
২৫বলে ৩৮ করে স্টাম্পড হন টিম টেক্টর, জোরের ওপর করা বলে বোল্ড হয়ে যান আগের ম্যাচের নায়ক হ্যারি টেক্টর (১১ বলে ১১)।
শেখ মেহেদি পরের ওভারে ফেরান বেল কালিৎজেকও।
দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে রানের গতিও কিছুটা হারিয়ে ফেলে আইরিশরা। শেষ সময়ে যিনি দ্রুত রান তুলতে পারেন, সেই জর্জ ডকরেলকে হাত খুলতেই দেননি বোলাররা। শেষের আগের ওভারে আউট হন তিনি ২১ বলে ১৮ রান করে।
শেষ ওভারে মুস্কাফিজ একটি ছক্কা হজম করলেও বাকি পাঁচ বলে রান দেন কেবল দুই।
প্রথম ১০ ওভারে ৯৭ রান তোলা আয়ারল্যান্ড পরের ১০ ওভারে তোলে কেবল ৭৩। লর্কান টাকার অপরাজিত থাকেন ৩২ বলে ৪১ রান করে।
২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ড থেমেছে ১৭০ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে শেখ মাহেদি ৪ ওভারে ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
১৭০ রানের জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে ঝড়ো শুরু করেছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। অপর ওপেনার তানিজদ হাসান তামিম ঠিকভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়েছেন ১০ বলে ৭ রান করে।
তবে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ একটা জুটি হয়েছে পারভেজ হোসেন ইমন ও লিটন দাস। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৬০ রান তুলেছেন দুজন। পারভেজ ইমন ২৮ বলে ৫ চার ২ ছয়ে ৪৩ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। তৃতীয় উইকেটে লিটন দাস ও সাইফ হাসানের জুটিটাও বেশ ভালো ছিল। তৃতীয় উইকেটে ৩১ রানে ৫২ রান তোলেন দুজন।
তবে এই জুটি ভাঙতেই বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। পরপর ফিরেছেন লিটন, সাইফ। তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহানরা মিডল অর্ডারে ভালো করতে পারেননি। যাতে একটা সময় ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। সাইফউদ্দিন শেষ দিকে কার্যকরী একটা ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে উদ্ধার করেছেন।
১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য ১৭৪ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিন তখন ৭ বলে ২ চার ১ ছয়ে ১৭ রানে অপরাজিত। লিটন দাস ৩৭ বল খেলে ৩টি করে চার, ছয়ে ৫৭ রান করে আউট হয়েছেন। সাইফ হাসান ১৭ বলে ১টি করে চার-ছয়ে ফিরেছেন ২২ রান করে।
আগামী মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























