নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেরা মাহবুব এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই জিন্নাত আলী।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাসুম সরদার। রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে গালি দেন। এতে আন্দোলনকারীরা ফুঁসে ওঠেন। ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইউনিট থেকে লোক এনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। সবাই এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের উপর রামদা, চাপাতিসহহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়। এতে অনেকে আহত হন।
সৈকতের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সৈকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ১৫ জুলাইয়ের ঘটনায় কীভাবে জড়িত, তার স্পষ্ট অভিযোগ নেই। অভিযোগ না থাকা পরেও রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এ আইনজীবী বলেন, ৩৫ দিনের বেশি সময় তিনি রিমান্ডে ছিলেন। ঢাকার এমন কোনো থানা নেই, যেখানকার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ঢাবি প্রশাসন অনেকের ছাত্রত্ব বাতিল করলেও তারটা কিন্তু বাতিল করেনি। তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিনের প্রার্থণা করছি।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সৈকতের তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বলে জানান তরিকুল ইসলাম।
মামলায় বলা হয়, গেল বছরের সময় ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
ঢাকার শাহবাগ থানার এ মামলায় বাদী হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী আবু সায়াদ বিন মাহিন সরকার। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ১৪ অগাস্ট ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তানভীর হাসান সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।