Dhaka শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ব্রিজ ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ, সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি : 

ঝিনাইদহে খালের ওপর নির্মিত ৪৫ বছরের পুরোনো একটি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে কৃষি পণ্য পরিবহন সহ মাঝারি ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য ও সংযোগস্থাপনকারী সড়ক ‘বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী’ সড়ক। আনুমানিক ৪৫ বছর আগে সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের’ খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ সেতুটি নির্মাণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সেতুটি গত ৯ মাসেও নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বেড়েছে স্থানীয় চলাচলকারী, পণ্য পরিবহনকারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের পাটাতন ভেঙে খালের মাঝখানে পড়ে আছে। ভেঙে যাওয়া ব্রিজের জায়গায় বসানো হয়েছে বাঁশের সাঁকো। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সাঁকো তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বাঁশের সাঁকোও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল চলাচল।

স্থানীয় হাসমত বিশ্বাস বলেন, ৯ মাস আগে ব্রিজ ভেঙে গেছে। আমরা বারবার বিভিন্ন অফিসে জানিয়েছি। তারপরও কোনো সমাধান পাইনি। কবে ব্রিজ হবে কেউ বলতে পারে না। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলও যেতে পারে না।

রাহাত হোসাইন নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী বলেন, আমরা নিয়মিত এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যেতাম। গত বছর ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পরে সাঁকো বানানো হয়। এখন সাঁকোটিও ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে বাইসাইকেল নিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। এই সাঁকো ভেঙে গেলে আমাদের স্কুলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্রাক চালক আলফাজ আলী বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহ করার পরে আমরা এই ব্রিজটি ব্যবহার করে মহারাজপুর ইউনিয়নের বাজারগুলোতে যেতে পারতাম। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পরে এই সড়কে চলাচল করা বন্ধ হয়ে গেছে। যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থাপনকারী ‘বিষয়খালী জিসি সড়ক টু নগরবাথান জিসি সড়ক ভায়া ডেফলবাড়ি’ সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ওপর দুটি ব্রিজ ছিল। বিজ্র দুটি অনেক বছরের পুরনো। এর মধ্যে একটি ব্রিজ পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। যে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে, সেটি পুনঃনির্মাণের জন্য আমরা এরই মধ্যে দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি, অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যাবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেলেই আমরা ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।

আবহাওয়া

ঝিনাইদহে ব্রিজ ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ, সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ঝিনাইদহে ব্রিজ ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ, সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি : 

ঝিনাইদহে খালের ওপর নির্মিত ৪৫ বছরের পুরোনো একটি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে কৃষি পণ্য পরিবহন সহ মাঝারি ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য ও সংযোগস্থাপনকারী সড়ক ‘বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী’ সড়ক। আনুমানিক ৪৫ বছর আগে সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের’ খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ সেতুটি নির্মাণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সেতুটি গত ৯ মাসেও নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বেড়েছে স্থানীয় চলাচলকারী, পণ্য পরিবহনকারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের পাটাতন ভেঙে খালের মাঝখানে পড়ে আছে। ভেঙে যাওয়া ব্রিজের জায়গায় বসানো হয়েছে বাঁশের সাঁকো। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সাঁকো তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বাঁশের সাঁকোও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল চলাচল।

স্থানীয় হাসমত বিশ্বাস বলেন, ৯ মাস আগে ব্রিজ ভেঙে গেছে। আমরা বারবার বিভিন্ন অফিসে জানিয়েছি। তারপরও কোনো সমাধান পাইনি। কবে ব্রিজ হবে কেউ বলতে পারে না। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলও যেতে পারে না।

রাহাত হোসাইন নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী বলেন, আমরা নিয়মিত এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যেতাম। গত বছর ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পরে সাঁকো বানানো হয়। এখন সাঁকোটিও ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে বাইসাইকেল নিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। এই সাঁকো ভেঙে গেলে আমাদের স্কুলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্রাক চালক আলফাজ আলী বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহ করার পরে আমরা এই ব্রিজটি ব্যবহার করে মহারাজপুর ইউনিয়নের বাজারগুলোতে যেতে পারতাম। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পরে এই সড়কে চলাচল করা বন্ধ হয়ে গেছে। যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থাপনকারী ‘বিষয়খালী জিসি সড়ক টু নগরবাথান জিসি সড়ক ভায়া ডেফলবাড়ি’ সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ওপর দুটি ব্রিজ ছিল। বিজ্র দুটি অনেক বছরের পুরনো। এর মধ্যে একটি ব্রিজ পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। যে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে, সেটি পুনঃনির্মাণের জন্য আমরা এরই মধ্যে দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি, অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যাবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেলেই আমরা ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।