Dhaka শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্যাকের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে বেঙ্গালুরুর অনায়াস জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৯৩ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

লক্ষ্যটা ২০১ রানের। ম্যাচের শুরুটা যখন রান তুলতে ভুগছিল গুজরাটের ব্যাটাররা তখন মনে হচ্ছিল দিনটা ব্যাটারদের। অবশ্য পরে সাই সুদর্শন-শাহরুখ খানরা পাল্টেছেন রানের চিত্র। এবার রয়্যাল চ্যালেজার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা পাল্টে দিলেন পুরো ম্যাচের চিত্র। আরও একবার ব্যাট হাতে নৈপুণ্য দেখালেন বিরাট কোহলি। তবে তাকে ছাপিয়ে আজ বেঙ্গালুরুর জয়ের নায়ক উইল জ্যাকস। স্রেফ ৪১ বলেই হাঁকালেন সেঞ্চুরি। এতে ৪ ওভার হাতে রেখেই ৯ উইকেটে অনায়াস জয় পায় বেঙ্গালুরু।

এ নিয়ে আসরে টানা দুই ম্যাচে জয়ের দেখা পেল বেঙ্গালুরু। শুরুর আট ম্যাচে স্রেফ এক ম্যাচ জিতে এতদিন ছিল তালিকার একদম তলানিতে। অবশ্য টানা জয়েও বদলায়নি পয়েন্ট তালিয়ার অবস্থান।

উইল জ্যাকস যখন ব্যাট হাতে নামলেন, তার আগে ১২ বলে ২৪ রান করে আউট হয়ে গেছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ও ওপেনার ফাফ ডু প্লেসি। তখন পর্যন্ত রান তাড়ায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অপরপ্রান্তে বিরাট কোহলি রানের চাকা সচল রাখলেও জ্যাকস নিজে রান তুলছিলেন ওয়ানডের গতিতে। প্রথম ২২ বলে মাত্র ২৯ রান করেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করলেন।

ফিফটির দেখা পাওয়ার পর এমনই ব্যাটিং তাণ্ডব চালালেন যে, মাত্র দুই ওভারে খেলা শেষ করে দিলেন তরুণ ইংলিশ ব্যাটার। নিজে শেষ ৫০ রান তুললেন মাত্র ১০ বলে! অপরপ্রান্তে কোহলি রইলেন দর্শকের ভূমিকায়। দুইশর বেশি রান তাড়ায় এত সহজ জয় পাওয়া সম্ভব, কোহলি নিজেও হয়তো ভাবেননি।

অথচ ১৪ ওভার শেষেও ৩৬ বলে ৫৩ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। ২৯ বলে ৪৪ রানে ব্যাট করছিলেন জ্যাকস। কোহলি ততক্ষণে ফিফটি পেরিয়ে ৭০ ছুঁইছুঁই রান করে ফেলেছেন। পরের ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটির দেখা পান জ্যাকস। মোহিত শর্মার ওই ওভারের সবগুলো বল একাই মোকাবিলা করেন তিনি। এর মধ্যে একটি নো বল ও ডট বল ছিল। নো বলে ছক্কা হাঁকান জ্যাকস। দুই চার ও তিন ছক্কায় ওই ওভারে আসে ২৯ রান।

১৫তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক বদল করেন কোহলি। এই সিঙ্গেলের মাধ্যমে চলতি আইপিএলে নিজের ৫০০তম রানের দেখা পান তিনি। আইপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি সাতবার ৫০০-এর বেশি রানের রেকর্ড গড়লেন কোহলি। তবে এই রেকর্ড তিনি ভাগ করে নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে।

কোহলির রেকর্ডের নাম লেখানোর পর ফের শুরু হয় জ্যাকসের তাণ্ডব। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের ওই ওভারেও আসে ২৯ রান। যার মধ্যে ২৮ রান করেছেন জ্যাকস একাই। হাঁকিয়েছেন চারটি ছক্কা ও ১টি চার। ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান জ্যাকস। একইসঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর জয়ও। বেঙ্গালুরুর জন্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়। এর আগে ২০১০ সালে ২০৪ রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড আছে তাদের।

নিজের শেষ ২৪ বলে ৮৩ রান করেছেন জ্যাকস! কোহলির সঙ্গে গড়েছেন ১৬৬ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ঠিক ১০০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন জ্যাকস। ব্যাট হাতে হাঁকিয়েছেন ১০টি ছক্কা ও পাঁচটি চার। কোহলির ব্যাট থেকে এসেছে ৪৪ বলে অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংস। তার ইনিংসটি ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। তবে সেখানে যেন একাই হাল ধরেন দলটির ২২ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার সুদর্শন। পরে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শাহরুখ খান। তৃতীয় উইকেটে এসে ৮৬ রানের সময় উপযোগী জুটি পায় গুজরাট। সেখানে ৩০ বলে শাহরুখ ৫৮ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন সুদর্শন।

শেষ ৫ ওভারে ডেভিড মিলারকে নিয়ে ৬২ রান যোগ করেন সুদর্শন। তার ৪৯ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রানের অপরাজিত এই ইনিংসে চড়ে পুরো ২০০ রানের সংগ্রহে পৌঁছায় গুজরাট।

১০ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনও টেবিলের তলানিতেই আছে বেঙ্গালুরু। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সাতে অবস্থান গুজরাটের।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জ্যাকের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে বেঙ্গালুরুর অনায়াস জয়

প্রকাশের সময় : ০৮:২১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

লক্ষ্যটা ২০১ রানের। ম্যাচের শুরুটা যখন রান তুলতে ভুগছিল গুজরাটের ব্যাটাররা তখন মনে হচ্ছিল দিনটা ব্যাটারদের। অবশ্য পরে সাই সুদর্শন-শাহরুখ খানরা পাল্টেছেন রানের চিত্র। এবার রয়্যাল চ্যালেজার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা পাল্টে দিলেন পুরো ম্যাচের চিত্র। আরও একবার ব্যাট হাতে নৈপুণ্য দেখালেন বিরাট কোহলি। তবে তাকে ছাপিয়ে আজ বেঙ্গালুরুর জয়ের নায়ক উইল জ্যাকস। স্রেফ ৪১ বলেই হাঁকালেন সেঞ্চুরি। এতে ৪ ওভার হাতে রেখেই ৯ উইকেটে অনায়াস জয় পায় বেঙ্গালুরু।

এ নিয়ে আসরে টানা দুই ম্যাচে জয়ের দেখা পেল বেঙ্গালুরু। শুরুর আট ম্যাচে স্রেফ এক ম্যাচ জিতে এতদিন ছিল তালিকার একদম তলানিতে। অবশ্য টানা জয়েও বদলায়নি পয়েন্ট তালিয়ার অবস্থান।

উইল জ্যাকস যখন ব্যাট হাতে নামলেন, তার আগে ১২ বলে ২৪ রান করে আউট হয়ে গেছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ও ওপেনার ফাফ ডু প্লেসি। তখন পর্যন্ত রান তাড়ায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অপরপ্রান্তে বিরাট কোহলি রানের চাকা সচল রাখলেও জ্যাকস নিজে রান তুলছিলেন ওয়ানডের গতিতে। প্রথম ২২ বলে মাত্র ২৯ রান করেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করলেন।

ফিফটির দেখা পাওয়ার পর এমনই ব্যাটিং তাণ্ডব চালালেন যে, মাত্র দুই ওভারে খেলা শেষ করে দিলেন তরুণ ইংলিশ ব্যাটার। নিজে শেষ ৫০ রান তুললেন মাত্র ১০ বলে! অপরপ্রান্তে কোহলি রইলেন দর্শকের ভূমিকায়। দুইশর বেশি রান তাড়ায় এত সহজ জয় পাওয়া সম্ভব, কোহলি নিজেও হয়তো ভাবেননি।

অথচ ১৪ ওভার শেষেও ৩৬ বলে ৫৩ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। ২৯ বলে ৪৪ রানে ব্যাট করছিলেন জ্যাকস। কোহলি ততক্ষণে ফিফটি পেরিয়ে ৭০ ছুঁইছুঁই রান করে ফেলেছেন। পরের ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটির দেখা পান জ্যাকস। মোহিত শর্মার ওই ওভারের সবগুলো বল একাই মোকাবিলা করেন তিনি। এর মধ্যে একটি নো বল ও ডট বল ছিল। নো বলে ছক্কা হাঁকান জ্যাকস। দুই চার ও তিন ছক্কায় ওই ওভারে আসে ২৯ রান।

১৫তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক বদল করেন কোহলি। এই সিঙ্গেলের মাধ্যমে চলতি আইপিএলে নিজের ৫০০তম রানের দেখা পান তিনি। আইপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি সাতবার ৫০০-এর বেশি রানের রেকর্ড গড়লেন কোহলি। তবে এই রেকর্ড তিনি ভাগ করে নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে।

কোহলির রেকর্ডের নাম লেখানোর পর ফের শুরু হয় জ্যাকসের তাণ্ডব। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের ওই ওভারেও আসে ২৯ রান। যার মধ্যে ২৮ রান করেছেন জ্যাকস একাই। হাঁকিয়েছেন চারটি ছক্কা ও ১টি চার। ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান জ্যাকস। একইসঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর জয়ও। বেঙ্গালুরুর জন্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়। এর আগে ২০১০ সালে ২০৪ রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড আছে তাদের।

নিজের শেষ ২৪ বলে ৮৩ রান করেছেন জ্যাকস! কোহলির সঙ্গে গড়েছেন ১৬৬ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ঠিক ১০০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন জ্যাকস। ব্যাট হাতে হাঁকিয়েছেন ১০টি ছক্কা ও পাঁচটি চার। কোহলির ব্যাট থেকে এসেছে ৪৪ বলে অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংস। তার ইনিংসটি ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। তবে সেখানে যেন একাই হাল ধরেন দলটির ২২ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার সুদর্শন। পরে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শাহরুখ খান। তৃতীয় উইকেটে এসে ৮৬ রানের সময় উপযোগী জুটি পায় গুজরাট। সেখানে ৩০ বলে শাহরুখ ৫৮ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন সুদর্শন।

শেষ ৫ ওভারে ডেভিড মিলারকে নিয়ে ৬২ রান যোগ করেন সুদর্শন। তার ৪৯ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রানের অপরাজিত এই ইনিংসে চড়ে পুরো ২০০ রানের সংগ্রহে পৌঁছায় গুজরাট।

১০ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনও টেবিলের তলানিতেই আছে বেঙ্গালুরু। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সাতে অবস্থান গুজরাটের।