নিজস্ব প্রতিবেদক :
১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন জোট জিতলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় যদি আল্লাহর মেহেরবানিতে অর্জিত হয়, তাহলে সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী হিসেবে আপনারা অবশ্যই দেখতে পাবেন। আমরা সবাই হাতে হাত রেখে একসঙ্গে কাজ করবো।
শাপলা কলিতে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে নাহিদ ইসলামরা বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে থাকবে। আমরা থাকবো প্যাসেঞ্জার হিসেবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এই সরকারে নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই জাতির ভাগ্য বদলের জন্য ৫টি বছর যথেষ্ট। আমরা কোনো ভুল আশ্বাস দেবো না। যা বলবো তা জানপ্রাণ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদার হবো ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমির বলেন, জুলাইয়ে যারা পাহারাদার ছিলেন ১২ তারিখও আপনারা পাহারাদার হবেন। আমাদের কাছে আপনাদের ১টা ভোট গুরুত্বপূর্ণ , আমাদের কাছে ১টা আসনও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়নের দিন হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবে না। সারা দেশ আজ জেগে উঠেছে। জনগণ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে— তারা পুরোনো বন্দোবস্তে আর ফিরতে চায় না, বস্তাপচা রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান দেখতে চায়।
তিনি বলেন, আমরা আর জাতিকে কোনো মিথ্যা আশ্বাস দেব না। তবে আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই— বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা এ দেশের মালিক হতে চাই না, জনগণের সেবক হয়ে থাকতে চাই। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী জাতির সামনে প্রকাশ করতে বাধ্য করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের পেটে এখনও গরম রয়ে গেছে, সেই গরম কমেনি। এখন আবার নতুন নতুন কার্ডের কথা বলা হচ্ছে—এই কার্ড, সেই কার্ড। এসবই ভুয়া কার্ড। যেমন ১০ টাকার চালের আশ্বাস ভুয়া ছিল, তেমনি এসব কার্ডও ভুয়া। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ইনশাআল্লাহ এসব ভুয়া কার্ডকে লাল কার্ড দেখাবে।
তিনি বলেন, তরুণরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। জনগণ সেদিন দুর্নীতি-চাঁদাবাজ-ঋণখেলাপিদেরকে লালকার্ড দেখাবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা যারা ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যাতাকলে পিষ্ট ছিলাম, এর মধ্যে একটা অংশ মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠেছে। যে সব অপকর্ম আওয়ালীগ করতো, তারাও ৬ তারিখ সকাল থেকে সেসব অপকর্ম শুরু করেছে। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা অপকর্ম শুরু করেছিল, তারা আর বন্ধ করেনি। আমরা তো এজন্য লড়াই করিনি, রক্ত দেইনি। আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল মাঝে মধ্যে বলে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন। ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাত বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতি বন্ধ করবেন!
আবরার-হাদীর প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, আবরার ফাহাদ, হাদী তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা সুযোগ পেলে, তোমরা যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলে, তেমনি উদ্বীপ্ত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে ৫ আগস্ট ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করেছি ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সফল করব। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবো।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ, স্কুল, হাসপাতালও নাই। আপনারা এগুলো সবই জানেন। ১০০ ভাগ হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভর। কোনো সরকারি হাসপাতাল নাই। ঢাকা-১১ আসনে সরকারি হাই স্কুল নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরাটাই নির্ভরশীল হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপরে। বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেগুলোর মাধ্যমে আমাদের জীবন যাপন করতে হয়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫% এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের আওতায় বাকি ৭০% এলাকা সেটা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, নর্দমা এবং আশেপাশের খালগুলো সেটা পূরণ করে। আমাদের যে খালগুলো রয়েছে রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল এগুলো দখল করা হয়েছে। নদী দখল করা হয়েছে বালু ফেলানো হয়েছে। এই খালগুলো আর আমাদের সেই সুবিধা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, ঢাকা-১১ এলাকা উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণ। সেই রাজনৈতিক কারণটি হচ্ছে ভূমিদস্যু। এই এলাকার শত শত মানুষের জমি শত শত খাস জমি সাধারণ জলাশয় এগুলো দখল করে নেওয়া হয়েছে। ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শত শত পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে।
এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা আমরা নিশ্চিত করবো। যে সব মানুষ ভূমি হারিয়েছে, তাদের ভূমি আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। নতুবা তাদের আমরা ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট ঢাকা-১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করবো।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা শুধু ঢাকা-১১ আসনের জন্যই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নই, সমগ্র বাংলাদেশে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ১১ দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠনের ঐক্যজোট, আগামীর বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আপনারা সারা বাংলাদেশে যে যেখানে, যে মার্কা যে প্রার্থী আছেন তাদের সহযোগিতা ও ভোট দিয়ে জিতিয়ে আসবেন। এই আহ্বান আপনাদের প্রতি রইল।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশে যে আরেকটি দল রয়েছে, যারা বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে গেছে। সেই প্ল্যান পরিকল্পনাকে আমাদের পরাজিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে দখলদার মুক্ত, আধিপত্যবাদ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? ইনশাআল্লাহ আমরা তরুণ যুব সমাজ সবাই আছি। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি ব্যর্থ হয় ৫ আগস্ট ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করেছি ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সফল করব। ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে যাব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























