Dhaka বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে বদলে দেবে : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

স্থানীয় সরকার, শিল্প ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, গণভোট বাংলাদেশের দিক নির্দেশনা তৈরি করে দেবে। কেমন বাংলাদেশ চাই আমরা। জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এই গণভোট। গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে, তা বাংলাদেশকে বদলে দেবে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নতুন,গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদ যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাই ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আদিলুর রহমান খান বলেন , গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দিক-নির্দেশনা দেবে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ১৪০০ তরুণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে জনগণের সক্রিয় সমর্থন অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ১৪ শত তরুণ প্রাণের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আবার মুক্ত হয়েছিল সেই বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পক্ষে সমস্ত রাজনৈতিক দল একসঙ্গে হয়ে জুলাইকে, জুলাইয়ের চিন্তাকে, প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে সনদ তৈরি করেছে সেই সনদের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের সম্মতির জন্য এই গণভোট।

আদিলুর রহমান খান বলেন, চব্বিশে জুলাই অভ্যুত্থানে ১৪০০ তরুণ প্রাণের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আবার মুক্ত হয়েছিল, সে বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পক্ষে সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে হয়ে জুলাইয়ের চিন্তাকে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সনদ তৈরি করেছে, সেই সনদের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের সম্মতির এই গণভোট। সেই ভোট নিয়ে কথা বলতে এসেছি আমরা। যে কথা আপনারাও বলছেন, সারা বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষও বলছে। কারণ বাংলাদেশের ১৫টা বছর আগ্রাসনের অধীনে ছিল। বাংলাদেশের মানুষ ১৫ বছর স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে নাই, স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে নাই, চিন্তা করতে পারে নাই। চিন্তারও স্বাধীনতা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৫ বছর আগ্রাসনের অধীনে ছিল। এ সময় বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি, ভোট দিতে পারেনি। তাই দেশের জনগণের সম্মতির জন্য এ গণভোট। তাই জুলাই সনদের পক্ষে গণমানুষের সমর্থন চাচ্ছি, যাতে বাংলাদেশ শত-সহস্র বছর টিকে থাকবে। গণভোট শত বছরের দিকনির্দেশনা দিবে।

‘জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, আয়নাঘর তৈরি না হয়। লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার না হয়। সেজন্য জুলাই সনদের পক্ষে, গণমানুষের পক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সিল মেরে বাস্তবায়ন করুন। কেউ যেন বিভ্রান্ত করার সুযোগ না পায়। বাংলাদেশের মানুষ কোনো আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করবে না।’

উপদেষ্টা আদিলুর বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ১২ তারিখের পর আপনাদের রায় নিয়ে এবং যাদের কাছে আপনারা যাচ্ছেন তাদের রায় নিয়ে তার যোগ্য জায়গায় দাঁড়িয়ে যাবে। কোনো আগ্রাসনের কাছে আর মাথা নত করবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর দুশ্চিন্তার কারণ থাকবে না। বাংলাদেশে বিচারহীনতার ঘটনা ঘটবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার বাইরে বাধ্য হবে না অন্য কিছু করার জন্য।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমা নাহার ও শ্রীনগর সাকের্লের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন কমিশনের সম্মতিতে ৮ ইউএনও-কে বদলি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে বদলে দেবে : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

স্থানীয় সরকার, শিল্প ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, গণভোট বাংলাদেশের দিক নির্দেশনা তৈরি করে দেবে। কেমন বাংলাদেশ চাই আমরা। জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এই গণভোট। গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে, তা বাংলাদেশকে বদলে দেবে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নতুন,গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদ যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাই ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আদিলুর রহমান খান বলেন , গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দিক-নির্দেশনা দেবে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ১৪০০ তরুণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে জনগণের সক্রিয় সমর্থন অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ১৪ শত তরুণ প্রাণের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আবার মুক্ত হয়েছিল সেই বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পক্ষে সমস্ত রাজনৈতিক দল একসঙ্গে হয়ে জুলাইকে, জুলাইয়ের চিন্তাকে, প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে সনদ তৈরি করেছে সেই সনদের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের সম্মতির জন্য এই গণভোট।

আদিলুর রহমান খান বলেন, চব্বিশে জুলাই অভ্যুত্থানে ১৪০০ তরুণ প্রাণের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আবার মুক্ত হয়েছিল, সে বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পক্ষে সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে হয়ে জুলাইয়ের চিন্তাকে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সনদ তৈরি করেছে, সেই সনদের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের সম্মতির এই গণভোট। সেই ভোট নিয়ে কথা বলতে এসেছি আমরা। যে কথা আপনারাও বলছেন, সারা বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষও বলছে। কারণ বাংলাদেশের ১৫টা বছর আগ্রাসনের অধীনে ছিল। বাংলাদেশের মানুষ ১৫ বছর স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে নাই, স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে নাই, চিন্তা করতে পারে নাই। চিন্তারও স্বাধীনতা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৫ বছর আগ্রাসনের অধীনে ছিল। এ সময় বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি, ভোট দিতে পারেনি। তাই দেশের জনগণের সম্মতির জন্য এ গণভোট। তাই জুলাই সনদের পক্ষে গণমানুষের সমর্থন চাচ্ছি, যাতে বাংলাদেশ শত-সহস্র বছর টিকে থাকবে। গণভোট শত বছরের দিকনির্দেশনা দিবে।

‘জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, আয়নাঘর তৈরি না হয়। লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার না হয়। সেজন্য জুলাই সনদের পক্ষে, গণমানুষের পক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সিল মেরে বাস্তবায়ন করুন। কেউ যেন বিভ্রান্ত করার সুযোগ না পায়। বাংলাদেশের মানুষ কোনো আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করবে না।’

উপদেষ্টা আদিলুর বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ১২ তারিখের পর আপনাদের রায় নিয়ে এবং যাদের কাছে আপনারা যাচ্ছেন তাদের রায় নিয়ে তার যোগ্য জায়গায় দাঁড়িয়ে যাবে। কোনো আগ্রাসনের কাছে আর মাথা নত করবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর দুশ্চিন্তার কারণ থাকবে না। বাংলাদেশে বিচারহীনতার ঘটনা ঘটবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার বাইরে বাধ্য হবে না অন্য কিছু করার জন্য।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমা নাহার ও শ্রীনগর সাকের্লের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান।