Dhaka রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যেমনভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে পুনরায় সরকার গঠন করে, তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আরেকটি বিভাগ খোলা হবে, যাতে এইসব মানুষদের দেখভাল করা যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে এ শহীদ পরিবারে যারা আছেন, জুলাই যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে কষ্টের কথাগুলো যে কজন মানুষ তুলে ধরেছেন, এ কষ্টগুলো যাতে আমরা কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারি, যাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তাকে তো ফিরিয়ে আনতে পারবো না, কিন্তু যারা পেছনে রয়ে গিয়েছেন সেই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা যেন দেখভাল করতে পারি, তারাও মুক্তিযোদ্ধা, তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য। একাত্তর সালে এ দেশের মানুষ এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যোদ্ধারা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২৪ এর যে যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, তারা স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের এক চোখ হারিয়েছে অথবা কারও দুই চোখই নষ্ট হয়েছে এবং পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।

জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ এবং আহত হয়েছেন, তাদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিনি বলেন, সেসময় স্বাধীনতাকামী সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। ২০২৪ এর আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। অধিকার হারা মানুষের গণ-আন্দোলন। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী প্রিয় মানুষকে সজাগ থাকা জরুরি।

গণ-আন্দোলনে আহতদের দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এক- রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই- মানুষের রাজনৈতিক এবং যোগ্যতা অনুযায়ী তার অর্থনীতি নিশ্চিত করা। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে তা পূরণ করবে বিএনপি।

নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এভাবেই শোক সমাবেশ আর শোকগাঁথা চলতে থাকবে। আর শোকসামেবশ বা শেকগাঁথা নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনে হতাহত পরিবারের স্বজন কিংবা আহতদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা আমরা আজকে এই অনুষ্ঠানে শুনেছি। তাদের এই কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে মোচন করা সম্ভব নয়। কারণ আমিও জানি স্বজন হারানোর বেদনা কতটুকু। কোনো কিছু দিয়ে কষ্ট মোচন করা যায় না। তবে দুইভাবে আমরা গণঅভ্যুত্থানের আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। এক, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

দুই, এই সাহসী মানুষগুলো রাজপথে নেমে এসেছিলেন রাষ্ট্র এবং সমাজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য। তাদের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, দলমত নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে শহীদ এবং আহত এবং হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে হলে অবশ্যই পর্যায়ক্রমে আমাদের সেই দায়িত্ব, সেই অঙ্গীকার, সেই প্রতিশ্রুতি আপনাদের সামনে এবং দেশের মানুষের সামনে ইনশাআল্লাহ পূরণ করব।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন। যারা হতাহত হয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল? তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, একটি নিরাপদ, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হই, আগামী দিনে তাহলে এভাবেই আমাদের শোক সমাবেশ আর শোক গাথা চলতে থাকবে। সুতরাং আর শোক গাথা বা শোক সমাবেশ নয়। বরং আসুন গণতান্ত্রিক মানুষ আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে ইনশাআল্লাহ।

যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়। তাদের সম্পর্কের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষকে অবশ্যই সজাগ থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক-জুবাইদাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই শহিদদের স্বজন ও আহতরা (কোলাজ)

আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র এবং বিএনপির দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন তারেক।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২৪ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত এবং হতাহতের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অবশ্যই পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা আমাদের সেই দায়িত্ব, সেই অঙ্গীকার, সেই প্রতিশ্রুতি আপনাদের সামনে এবং দেশের মানুষের সামনে ইনশাল্লাহ আমরা পুরণ করব।

চব্বিশের আন্দোলন কোনো ‘ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়’ বলে মন্তব্য করে
তারেক বলেন, এই আন্দেোলন ছিল সত্যিকার অর্থেই অধিকারহারা, গণতান্ত্রিক মানুষের গণ আন্দোলন। এই কারণেই আমি বলি, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। সুতরাং ২০২৪ সালকে যদি সুসংহত করতে হয় তাহলে দেশের সকল নারী-পুরুষ এবং প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন।

সতর্ক করে তারেক বলেন, যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনের পরিণত করতে চায় তাদের সম্পর্কে স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে অবশ্যই সজাগ থাকা জরুরি। ২০১৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে হতাহত পরিবারের স্বজন কিংবা আহতদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা আমরা আজকে এই অনুষ্ঠানে শুনেছি। তাদের এই কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে মোচন করা সম্ভব নয়। কারণ আমিও জানি স্বজন হারানোর বেদনা কতটুকু… কোনো কিছু দিয়ে এই বেদনা মোচন করা যায় না। তবে দুইভাবে গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ক্ষতিপুরণ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। এক রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সাহসী মানুষগুলো রাজপথে নেমে এসেছিল রাষ্ট্র এবং সমাজের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যেকটি দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

এর আগে, সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আনাসের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আপনি (তারেক রহমান) আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সব শহীদ হত্যার বিচার করবেন, এটাই আমাদের বিশ্বাস। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। আজও আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং বর্তমান সরকারের মতো বেইমানি করবেন না।’

শহীদ জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সন্তানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার জিসানকে যদি না পাই, এই দুনিয়াতে আমার আর কেউ নেই। আমার বড় ছেলে আমাকে আদর করে ‘আম্মু মা’ বলে ডাকত। আজ ১৭ মাস হয়ে গেছে, কেউ আর আমাকে সেই নামে ডাকে না। আমার বড় ছেলে মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে সে বলেছিল, জিসান চলে গেলেও আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না। কিন্তু আজ সে-ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি কী নিয়ে বাঁচব?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশে সুশাসন আসবেই, আর সেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে একমাত্র তারেক রহমানের হাতে ধরে : তারেক রহমান

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব : তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০২:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যেমনভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে পুনরায় সরকার গঠন করে, তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আরেকটি বিভাগ খোলা হবে, যাতে এইসব মানুষদের দেখভাল করা যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে এ শহীদ পরিবারে যারা আছেন, জুলাই যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে কষ্টের কথাগুলো যে কজন মানুষ তুলে ধরেছেন, এ কষ্টগুলো যাতে আমরা কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারি, যাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তাকে তো ফিরিয়ে আনতে পারবো না, কিন্তু যারা পেছনে রয়ে গিয়েছেন সেই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা যেন দেখভাল করতে পারি, তারাও মুক্তিযোদ্ধা, তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য। একাত্তর সালে এ দেশের মানুষ এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যোদ্ধারা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২৪ এর যে যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, তারা স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের এক চোখ হারিয়েছে অথবা কারও দুই চোখই নষ্ট হয়েছে এবং পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।

জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ এবং আহত হয়েছেন, তাদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিনি বলেন, সেসময় স্বাধীনতাকামী সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। ২০২৪ এর আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। অধিকার হারা মানুষের গণ-আন্দোলন। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী প্রিয় মানুষকে সজাগ থাকা জরুরি।

গণ-আন্দোলনে আহতদের দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এক- রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই- মানুষের রাজনৈতিক এবং যোগ্যতা অনুযায়ী তার অর্থনীতি নিশ্চিত করা। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে তা পূরণ করবে বিএনপি।

নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এভাবেই শোক সমাবেশ আর শোকগাঁথা চলতে থাকবে। আর শোকসামেবশ বা শেকগাঁথা নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনে হতাহত পরিবারের স্বজন কিংবা আহতদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা আমরা আজকে এই অনুষ্ঠানে শুনেছি। তাদের এই কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে মোচন করা সম্ভব নয়। কারণ আমিও জানি স্বজন হারানোর বেদনা কতটুকু। কোনো কিছু দিয়ে কষ্ট মোচন করা যায় না। তবে দুইভাবে আমরা গণঅভ্যুত্থানের আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। এক, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

দুই, এই সাহসী মানুষগুলো রাজপথে নেমে এসেছিলেন রাষ্ট্র এবং সমাজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য। তাদের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, দলমত নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে শহীদ এবং আহত এবং হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে হলে অবশ্যই পর্যায়ক্রমে আমাদের সেই দায়িত্ব, সেই অঙ্গীকার, সেই প্রতিশ্রুতি আপনাদের সামনে এবং দেশের মানুষের সামনে ইনশাআল্লাহ পূরণ করব।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন। যারা হতাহত হয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল? তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, একটি নিরাপদ, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হই, আগামী দিনে তাহলে এভাবেই আমাদের শোক সমাবেশ আর শোক গাথা চলতে থাকবে। সুতরাং আর শোক গাথা বা শোক সমাবেশ নয়। বরং আসুন গণতান্ত্রিক মানুষ আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে ইনশাআল্লাহ।

যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়। তাদের সম্পর্কের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষকে অবশ্যই সজাগ থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক-জুবাইদাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই শহিদদের স্বজন ও আহতরা (কোলাজ)

আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র এবং বিএনপির দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন তারেক।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২৪ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত এবং হতাহতের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অবশ্যই পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা আমাদের সেই দায়িত্ব, সেই অঙ্গীকার, সেই প্রতিশ্রুতি আপনাদের সামনে এবং দেশের মানুষের সামনে ইনশাল্লাহ আমরা পুরণ করব।

চব্বিশের আন্দোলন কোনো ‘ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়’ বলে মন্তব্য করে
তারেক বলেন, এই আন্দেোলন ছিল সত্যিকার অর্থেই অধিকারহারা, গণতান্ত্রিক মানুষের গণ আন্দোলন। এই কারণেই আমি বলি, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। সুতরাং ২০২৪ সালকে যদি সুসংহত করতে হয় তাহলে দেশের সকল নারী-পুরুষ এবং প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন।

সতর্ক করে তারেক বলেন, যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনের পরিণত করতে চায় তাদের সম্পর্কে স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে অবশ্যই সজাগ থাকা জরুরি। ২০১৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে হতাহত পরিবারের স্বজন কিংবা আহতদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা আমরা আজকে এই অনুষ্ঠানে শুনেছি। তাদের এই কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে মোচন করা সম্ভব নয়। কারণ আমিও জানি স্বজন হারানোর বেদনা কতটুকু… কোনো কিছু দিয়ে এই বেদনা মোচন করা যায় না। তবে দুইভাবে গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ক্ষতিপুরণ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। এক রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সাহসী মানুষগুলো রাজপথে নেমে এসেছিল রাষ্ট্র এবং সমাজের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যেকটি দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

এর আগে, সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আনাসের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আপনি (তারেক রহমান) আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সব শহীদ হত্যার বিচার করবেন, এটাই আমাদের বিশ্বাস। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। আজও আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং বর্তমান সরকারের মতো বেইমানি করবেন না।’

শহীদ জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সন্তানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার জিসানকে যদি না পাই, এই দুনিয়াতে আমার আর কেউ নেই। আমার বড় ছেলে আমাকে আদর করে ‘আম্মু মা’ বলে ডাকত। আজ ১৭ মাস হয়ে গেছে, কেউ আর আমাকে সেই নামে ডাকে না। আমার বড় ছেলে মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে সে বলেছিল, জিসান চলে গেলেও আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না। কিন্তু আজ সে-ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি কী নিয়ে বাঁচব?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।