লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি :
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বেপর্দা নারীদের পাশে বসিয়ে সেলফি তোলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মহিলা বিএম কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফজলুল করীম শাহারিয়ারের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, আমরা তো বলিনি ছেলেরা সরো, মেয়ে বন্ধুরা এখন তোমরা আসো। আর মেয়েদের পাশে বসে সেলফি তোলে মুরুব্বি মানুষটা। বেপর্দা মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তোলে। এটা তো ইসলামী আন্দোলন পারে না। তারা ইসলামের কথা বললেও বাস্তবে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে চায় না। ইসলামের নাম ব্যবহার করে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
তিনি বলেন, পাঁচ আগস্টের পরে যখন এ দেশে অরাজকতা ছিল তখন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের জানমাল হেফাজতের জন্য পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেছে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ জানের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া মানুষের দুঃসময়ে খাদেম হয়ে দাঁড়িয়েছি। এসময় হাতপাখা মার্কায় ভোট প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ তাহের আমেরিকা দূতাবাসে বসে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে এটা প্রমাণ করার জন্য ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসাবে উপস্থাপন করেছে। জামায়াতের নায়েবে আমির আমেরিকার কাছে বলে আসে ইসলামী আন্দোলন জঙ্গি বাদী। আমারা ধিক্কার জানাই। ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠা হওয়ার প্রায় ৩৮বছর হলো আপনারা কেউ দেখেছেন ইসলামী আন্দোলন জঙ্গি বাদী।
মুফতী রেজাউল করীম বলেন, জামায়াত আমির নিজেই বলেছেন, তারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ চালাবেন না। এমনকি তাদের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং জোটসঙ্গী কর্নেল (অব.) অলিও গণমাধ্যমে বলেছেন যে জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণ প্রমাণ করে তারা ইসলামের নামে মূলত মিথ্যাচার করছে।
সমাবেশে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দেশে কোনো জঙ্গি নেই বলে দাবি করলেও জামায়াতের নায়েবে আমির আবু তাহের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আবু তাহের দূতাবাসে গিয়ে দেশে জঙ্গি আছে বলে বক্তব্য দিয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করেছেন। জামায়াতের রাজনীতিতে এখন কোনো রাজনৈতিক শালীনতা বা ইসলামী আদর্শ নেই।
রেজাউল করীম বলেন, ইসলামের নামে যারা মিথ্যাচার করে, তাদের মাধ্যমে দেশে কখনোই ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়। একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে এ দেশে পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ ও শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, আপনার জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাহেব, সে তো আপনারা জানেন এই আমেরিকা দূতাবাসে বসে সেখানে ‘আমাদের দেশে জঙ্গি আছে’ এইটা প্রমাণ করার জন্য ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসেবে সেখানে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক—কেউ কিন্তু কখনোই— যতোই আমেরিকা-ভারত বারবার চেয়েছিল যে ‘আমাদের দেশে জঙ্গি আছে’ এইটা প্রমাণ করার জন্য; কিন্তু আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক কোনোদিন এটা স্বীকার করে নাই, বলে নাই যে, ‘আমাদের দেশে জঙ্গি আছে’। বারবার বলেছে, ‘আমাদের দেশে কোনো জঙ্গি নাই, আমাদের দেশে কোনো উগ্রপন্থি নাই’। কিন্তু আজকে আফসোস ইসলামের নাম দিয়ে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সে যাইয়া ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে উগ্রবাদী, জঙ্গিবাদী আমেরিকার কাছে বলে আসে।”
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা কি আসলে জঙ্গিবাদী? আমরা কি উগ্রবাদী?
সমস্বরে ‘না’ উত্তর এলে চরমোনাই পীর বলেন, আজকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আজকে প্রায় ৩৮ বছর শেষ হচ্ছে। এই ৩৮ বছরের ভেতর আমাদের কার্যক্রম আপনারা দেখেছেন, আমাদের ভেতর কোনো উগ্রতা ছিল?
উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘না’ উত্তর দেন।
রেজাউল করীম বলেন, আপনারা দেখেছেন ৫ অগাস্টের পরে যখন এই দেশের ভেতর অরাজকতা চলছে, তখন কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের তারা কিন্তু তাদের জান-মাল-ইজ্জত-বাড়িঘর সহ হেফাজতের জন্য আমরা পাহারাদারদের দায়িত্ব পালন করেছি। পাহারাদারির দায়িত্ব পালন করেছি।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে যে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ গড়ে ওঠে, তার সূচনা ঘটে ধর্মভিত্তিক আট দলের যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে শুরু হয়েছিল সেই যুগপৎ আন্দোলন।
তবে শেষ পর্যন্ত জোটে না গিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া’ এবং ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া’র কথা বলেছিল দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের আমির হাতীবান্ধায় বলেন, অভ্যুত্থানের পরে আমরা চেয়েছিলাম যে, ইসলামী নীতি আদর্শটা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে এ দেশের মানুষ সংখ্যালঘুসহ তারা কিন্তু একটা শান্তি যেটা—আমরা সর্বত্র বাস্তবে দেখতে পাবো। কথা ঠিক কি না? সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে যখন আমরা সমঝোতা করেছিলাম, সেখানে জামায়াতে ইসলামসহ অনেক দল ছিল; কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এখন জামায়াতে ইসলাম নাম দিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, জামায়াতের আমির পরিষ্কার বলেছে যে, তারা ইসলামের নীতি আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাবে না। কথা ঠিক না?
সমস্বরে উত্তর আসে ‘ঠিক’।
চরমোনাই পীর বলতে থাকেন, তারপর হিন্দু—তারা যে প্রার্থী দিয়েছে কৃষ্ণ নন্দী, তাকে যখন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিল; তখন তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলাম তো ইসলামী দল না। এই আপনারা এটাকে ইসলামী দল বলে এতো ছোট করেন কেন?’ আপনারা শুনেছেন কি না জানিনা।
“কর্নেল অলি আহমেদ এখন জামায়াতের নেতৃত্বের লোকে আছে, তিনি পরিষ্কার বলেছেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছে, তারা ইসলামের নীতি আদর্শ-শরীয়া অনুযায়ী দেশ চালাবে না’।”
নিজেদের প্রার্থী মুহাম্মদ ফজলুল করিম শাহারিয়াকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে হাতা পাখার প্রতীকে ভোট চান রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমরা যে ঘোষণা করেছিলাম ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স, সেই একটা বাক্স নিয়েই আপনাদের কাছে আমি ছুটে এসেছি এই ইসলামের পক্ষের বাক্স, হাতপাখা প্রতীকের বাক্স।
লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মুফতী ফজলুল করীম শাহারিয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আগামী নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে ইনসাফ কায়েমের আহ্বান জানান।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি 























