Dhaka শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপান কনসোর্টিয়ামকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় সরকার : বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার আলোচনার মধ্যে দিয়ে দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে জাপান কনসোর্টিয়ামকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আলোচনার মাধ্যমে পদক্ষেপ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওপেন টেন্ডারের প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

চুক্তির বিষয়টি কবে নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে জানতে চাইলে এসময় বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ফাইনাল না হওয়ার কিছু নেই। উই আর প্রসিডিং। এটা একটা অনগোয়িং প্রক্রিয়া। আমরা নেগোসিয়েশন করার কথা বলেছি। আশা করা যায়, এটা হয়ে যাবে। বিএনপি সরকারের সময় এটা চালু হবে এবং এই বছরের মধ্যে চালু হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া বলেন, এটা বারবার আলোচনা না। এটা অনগোয়িং আলোচনা হচ্ছে। আমরা আমাদের দেশের জন্য বেস্ট ডিলটা চাই। এখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ সবার আগে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা অবজেকটিভ সেট করে দিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুত সেটা ফুলফিল করতে চাই। আমাদের বিমান প্রতিমন্ত্রী এখানে বলেছেন, আমরা এ বছরের শেষ নাগাদ থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়া দেখতে চাই।

উপদেষ্টা বলেন, একটা নেগোসিয়েশন হচ্ছে। এখানে দুই পার্টিকে স্যাটিসফাইড হতে হবে। ওদের প্রস্তাবের সঙ্গে আমাদের প্রস্তাবের কিছু গ্যাপ ছিল। আজকে আমরা শুধু বলতে চাই, নেগোসিয়েশনটা সঠিক পথে এগোচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে উপস্থাপিত সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এমবার্কেশন ফি (বহির্গমন ফি), আপফ্রন্ট পেমেন্ট (অগ্রিম পরিশোধিত অর্থ) এবং রেভিনিউ শেয়ারের (আয় ভাগাভাগি) মত বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিইকো।

এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত অংশ নেন বৈঠকে।

সূত্রে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্ত দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে এবং টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই টার্মিনালে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বাড়বে ব্যয়ের বোঝা। টিকিটপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা গুনতে হতে পারে তাদের। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও আসছে কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একক নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে আংশিক উদ্বোধনের পরের বছরই সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের। কিন্তু অপারেটর নিয়োগ ব্যর্থতায় প্রায় তিন বছর ধরে অবহেলায় পরে আছে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি।

১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটি জাপানের পরিচালনা করার কথা ধাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই আলোচনা থেমে যায়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ফের জাপানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ফের দুপক্ষের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

আবহাওয়া

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

জাপান কনসোর্টিয়ামকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় সরকার : বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার আলোচনার মধ্যে দিয়ে দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে জাপান কনসোর্টিয়ামকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আলোচনার মাধ্যমে পদক্ষেপ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওপেন টেন্ডারের প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

চুক্তির বিষয়টি কবে নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে জানতে চাইলে এসময় বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ফাইনাল না হওয়ার কিছু নেই। উই আর প্রসিডিং। এটা একটা অনগোয়িং প্রক্রিয়া। আমরা নেগোসিয়েশন করার কথা বলেছি। আশা করা যায়, এটা হয়ে যাবে। বিএনপি সরকারের সময় এটা চালু হবে এবং এই বছরের মধ্যে চালু হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া বলেন, এটা বারবার আলোচনা না। এটা অনগোয়িং আলোচনা হচ্ছে। আমরা আমাদের দেশের জন্য বেস্ট ডিলটা চাই। এখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ সবার আগে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা অবজেকটিভ সেট করে দিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুত সেটা ফুলফিল করতে চাই। আমাদের বিমান প্রতিমন্ত্রী এখানে বলেছেন, আমরা এ বছরের শেষ নাগাদ থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়া দেখতে চাই।

উপদেষ্টা বলেন, একটা নেগোসিয়েশন হচ্ছে। এখানে দুই পার্টিকে স্যাটিসফাইড হতে হবে। ওদের প্রস্তাবের সঙ্গে আমাদের প্রস্তাবের কিছু গ্যাপ ছিল। আজকে আমরা শুধু বলতে চাই, নেগোসিয়েশনটা সঠিক পথে এগোচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে উপস্থাপিত সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এমবার্কেশন ফি (বহির্গমন ফি), আপফ্রন্ট পেমেন্ট (অগ্রিম পরিশোধিত অর্থ) এবং রেভিনিউ শেয়ারের (আয় ভাগাভাগি) মত বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিইকো।

এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত অংশ নেন বৈঠকে।

সূত্রে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্ত দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে এবং টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই টার্মিনালে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বাড়বে ব্যয়ের বোঝা। টিকিটপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা গুনতে হতে পারে তাদের। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও আসছে কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একক নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে আংশিক উদ্বোধনের পরের বছরই সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের। কিন্তু অপারেটর নিয়োগ ব্যর্থতায় প্রায় তিন বছর ধরে অবহেলায় পরে আছে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি।

১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটি জাপানের পরিচালনা করার কথা ধাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই আলোচনা থেমে যায়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ফের জাপানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ফের দুপক্ষের বৈঠক করার কথা রয়েছে।