নিজস্ব প্রতিবেদক :
জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নারীর অধিকার সংকুচিত হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোন কোন জায়গায় ধর্মীয় রাজনীতির জঘন্য রূপ দেখা যাচ্ছে। জান্নাতের কার্ড শেষ হওয়ায় নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটেঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমির দাবি করছেন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হয়েছিল। এই অল্প সময়ের জন্য কীভাবে আইডি হ্যাক হয়, সেটাই রহস্যজনক। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করলে কেউ চুপ করে বসে থাকবে না।
রিজভী বলেন, নারীদের নিয়ে এমন বক্তব্য তাদের প্রতি অবমাননার শামিল। আপনাদের আচরণ দেখেই বোঝা যায়, ভবিষ্যতে নারীদের প্রতি আপনারা কী ধরনের আচরণ করতে পারেন। ধর্মের নামে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নারীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নারীরা সংসদ সদস্য হতে পারবে, কিন্তু দলীয় প্রধান হতে পারবে না- এ ধরনের মন্তব্য স্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক। জামায়াত গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য কোনো সংগ্রাম করেনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, নারীদের প্রতি কটূক্তির দায়ে জামায়াতের আমিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে নারী সমাজের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালটেই এর জবাব পাবেন। দলের আমিরের এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্যের পরও জামায়াতের নারী নেত্রীদের নীরবতা লজ্জার।
সেলিমা রহমান বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। কারণ দলটি নারী সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অনলাইনে নারীদের নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করছে। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, বিগত সরকারের সময়ে নারী নির্যাতনের নেপথ্যে তারাই জড়িত ছিল কিনা।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের মন্তব্যে আমরা লজ্জিত হচ্ছি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। অথচ জামায়াত সবসময় নারীদের হেয়প্রতিপন্ন করে কথা বলছে। কই নারীরা কাজ করাতে আমাদের তো কিছু মনে হচ্ছে না। তাহলে আপনার কাছে কেন মনে হয়েছে? তার মানে আপনারা নারীদের সম্মান করতে জানেন না। বিএনপি একটি নারীবান্ধব দল। তাই দেশের নারীরা বিএনপিকে গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের বন্দি করার দিন শেষ। তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে। তাই জামায়াতকে সাব ধরনের কথা বলা উচিত।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীদের নিয়ে জামায়াতের আমিরের কটূক্তিতে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি তার স্ত্রী ও মাকে অসম্মান করতে পারেন না। এ বিষয়ে জামায়াতের নারী নেত্রীদেরও প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কারণ তিনি সমগ্র বাংলাদেশের নারী সমাজের অপমান করেছেন। জামায়াতে ইসলামী একাত্তরেও নারীদের নির্যাতন করেছে। তিনিও জামায়াতের আমিরকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহাম্মেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, প্রচার সম্পাদক তাহমিনা আফরিন নীতা এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















