নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে সোয়া ৬টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে আসেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মুহূর্তে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকশ লোকজন জড়ো হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে পুলিশ রয়েছে। তারা আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জল কামান ছাড়াও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি সেখান থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তার মধ্যেই আন্দোলনকারীরা থেমে থেমে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মেরে চলেছে। শত শত পুলিশ এই মুহূর্তে সেখানে অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জাপা কার্যালয়টির পূর্ব পাশের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে জাপা কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কে।
জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়টির সামনের অংশে সার্টারের বেড়া ভেঙে ভেতরে থাকা একটি আলমারি বের কর এনেছে আন্দোলনকারীরা। পরে বিক্ষুদ্ধ জনতা সেটিতে ও কার্যালয়টির একটি দরজা ভেঙে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ।
হঠাৎ করেই বিক্ষুদ্ধ জনতা জাপার কার্যালয়ের সামনে আসে এবং ভাঙচুর চালায়। তবে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারায় থাকায় তেমন ক্ষতি করতে পারেনি। এই পুলিশ ছাড়াও বহু সাংবাদিক সেখানে রয়েছেন।
এর আগে বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা তাদের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা বিজয়নগর থেকে একটি মিছিল নিয়ে নাইটএ্যাঙ্গেল মোড়ের দিকে যান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
এদিকে নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এছাড়া খুলনা, টাঙ্গাইলসহ একাধিক জেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।