Dhaka শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল ও দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক লাখ টন ডিজেল কিনতে ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি এবং দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই তেল ও এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

এদিকে বৈঠকে উপস্থান করা আর একটি প্রস্তাবে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য পড়বে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে দুই কার্গো এলএনজি আনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিতি এক সদস্য জানান, সরকরি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল কেনার একটি এবং এলএনজি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৬ ডলার।

তিনি জানান, দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে ২ কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে এই মূল্য চূড়ান্ত নয়, ২ কার্গো এলএনজির মূল্য এর চেয়ে কিছু কম বা বেশি হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এবং পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করে আসছে।

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বিপিসি বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারী পিএলসি-এ পরিশোধন করে থাকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ সীমিত করে।

একই সময়ে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও মূল্যচাপ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি রেশনিং, ভর্তুকি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিপিসির বিদ্যমান চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সমস্যায় পড়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড চলতি বছরের এপ্রিল মাসের কিছু পার্সেল সরবরাহে অপারগতা জানিয়ে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।

সে অনুযায়ী বিপিসি কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপির কাছে প্রস্তাব আহ্বান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২ এপ্রিল ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়, যেখানে প্ল্যাটস (আরব গালফ) দরের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৮.০৪৩ ডলার কম দর প্রস্তাব করা হয়।

বিপিসি একটি মূল্যায়ন ও নেগোসিয়েশন কমিটি গঠন করে প্রস্তাবটি যাচাই করে। এতে দেখা যায়, প্রস্তাবিত ডিজেলের মান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রতি মেট্রিক টন ডিজেলের মূল্য ৫৬০ মার্কিন ডলার (প্রতি ব্যারেল ৭৫.০৬ ডলার) নির্ধারণ করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ডিজেলের উৎস হবে কাজাখস্তান, লোডিং পোর্ট জর্জিয়ার বাটুমি এবং খালাস হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি, পার্সেল সাইজ ও ডেমারেজসহ অন্যান্য শর্তেও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি বিপিসির তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী নয়। তবুও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং বিপিসির পরিচালনা পর্ষদ তা অনুমোদন করে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও নীতিগত অনুমোদন প্রদান করে।
প্রস্তাবিত দর ১ এপ্রিল আরব গালফে প্রকাশিত দরের তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মূল্য প্ল্যাটস প্রকাশিত দর ও বিনিময় হারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

আবহাওয়া

শাকিবের ‘ব্যাড টাচ’ বিতর্কের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন জ্যোতির্ময়ী

জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল ও দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

প্রকাশের সময় : ০৯:২২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক লাখ টন ডিজেল কিনতে ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি এবং দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই তেল ও এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

এদিকে বৈঠকে উপস্থান করা আর একটি প্রস্তাবে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য পড়বে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে দুই কার্গো এলএনজি আনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিতি এক সদস্য জানান, সরকরি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল কেনার একটি এবং এলএনজি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৬ ডলার।

তিনি জানান, দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে ২ কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে এই মূল্য চূড়ান্ত নয়, ২ কার্গো এলএনজির মূল্য এর চেয়ে কিছু কম বা বেশি হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এবং পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করে আসছে।

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বিপিসি বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারী পিএলসি-এ পরিশোধন করে থাকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ সীমিত করে।

একই সময়ে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও মূল্যচাপ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি রেশনিং, ভর্তুকি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিপিসির বিদ্যমান চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সমস্যায় পড়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড চলতি বছরের এপ্রিল মাসের কিছু পার্সেল সরবরাহে অপারগতা জানিয়ে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।

সে অনুযায়ী বিপিসি কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপির কাছে প্রস্তাব আহ্বান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২ এপ্রিল ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়, যেখানে প্ল্যাটস (আরব গালফ) দরের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৮.০৪৩ ডলার কম দর প্রস্তাব করা হয়।

বিপিসি একটি মূল্যায়ন ও নেগোসিয়েশন কমিটি গঠন করে প্রস্তাবটি যাচাই করে। এতে দেখা যায়, প্রস্তাবিত ডিজেলের মান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রতি মেট্রিক টন ডিজেলের মূল্য ৫৬০ মার্কিন ডলার (প্রতি ব্যারেল ৭৫.০৬ ডলার) নির্ধারণ করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ডিজেলের উৎস হবে কাজাখস্তান, লোডিং পোর্ট জর্জিয়ার বাটুমি এবং খালাস হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি, পার্সেল সাইজ ও ডেমারেজসহ অন্যান্য শর্তেও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি বিপিসির তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী নয়। তবুও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং বিপিসির পরিচালনা পর্ষদ তা অনুমোদন করে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও নীতিগত অনুমোদন প্রদান করে।
প্রস্তাবিত দর ১ এপ্রিল আরব গালফে প্রকাশিত দরের তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মূল্য প্ল্যাটস প্রকাশিত দর ও বিনিময় হারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।