Dhaka শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জকসুতেও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতায় এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি, জিএস, এজিএস পদে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। জকসুতে ভিপি পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম, জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ও এজিএস পদে মাসুদ রানা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড . কানিজ ফাতিমা কাকলী ।

ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। বিজয়ী ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও অফিস সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। রিয়াজুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। বিজয়ী জিএস আবদুল আলীম আরিফ ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জুলাই আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী ৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নুরনবী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইব্রাহিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নুর মোহাম্মদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার ৪ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নওশীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম ২ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জর্জিস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোস্তাফিজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার ও সাধারণ শিক্ষার্থী সমন্বিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ফাতেমা আক্তার অওরিন, ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

একই প্যানেলের আকিব হাসান ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শান্তা আক্তার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক ২ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলে একজন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি হলেন মোহাম্মদ সাদমান আমিন সাম্য। তিনি ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়েছেন। সাম্য ফিন্যান্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহিদ হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইংরেজি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে দুটি যন্ত্রে দুই রকম তথ্য দেখানোর কারণে গণনা স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গুনে পরে যন্ত্রে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যালটগুলো হাতে গোনার পর দিবাগত রাত তিনটার দিকে যন্ত্রে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হলে আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পরে আবার ফল গণনা শুরু করতে ভোর হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল অংশ নেয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

জকসুতেও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

প্রকাশের সময় : ০১:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতায় এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি, জিএস, এজিএস পদে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। জকসুতে ভিপি পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম, জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ও এজিএস পদে মাসুদ রানা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড . কানিজ ফাতিমা কাকলী ।

ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। বিজয়ী ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও অফিস সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। রিয়াজুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। বিজয়ী জিএস আবদুল আলীম আরিফ ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জুলাই আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী ৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নুরনবী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইব্রাহিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নুর মোহাম্মদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার ৪ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নওশীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম ২ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জর্জিস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোস্তাফিজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার ও সাধারণ শিক্ষার্থী সমন্বিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ফাতেমা আক্তার অওরিন, ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

একই প্যানেলের আকিব হাসান ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শান্তা আক্তার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক ২ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলে একজন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি হলেন মোহাম্মদ সাদমান আমিন সাম্য। তিনি ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়েছেন। সাম্য ফিন্যান্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহিদ হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইংরেজি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে দুটি যন্ত্রে দুই রকম তথ্য দেখানোর কারণে গণনা স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গুনে পরে যন্ত্রে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যালটগুলো হাতে গোনার পর দিবাগত রাত তিনটার দিকে যন্ত্রে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হলে আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পরে আবার ফল গণনা শুরু করতে ভোর হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল অংশ নেয়।