পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
২০২২ সালের জুনে পটুয়াখালীর বাউফলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ছয় মাসের কাজ সাড়ে তিন বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘ এই সময়ে কেবল দুটি পিলার দৃশ্যমান হলেও কাজ ফেলে উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের দিয়ারা কচুয়া জনতা বাজার খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে মাত্র দুটি পিলার। কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে প্রায় এক বছর ধরে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার ‘লাপাত্তা’ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
দক্ষিণ ও উত্তর কচুয়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথের সেতুটি দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৩ সালে ব্রিজের কাজ শুরু হয়। কিছুদিন পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর নতুন একজন ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। সেও কিছুদিন কাজ করে ১ বছর ধরে ‘লাপাত্তা’ হয়ে গেছে।
আরেক বাসিন্দা মজিবর রহমান মাঝি বলেন, কথা ছিল ঠিকাদার কাঠের সাঁকো তৈরি করে দিবেন। তবে তা দেয়নি। পরে আমরা চাঁদা তুলে কাঠের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ছেলে মেয়েরা স্কুল মাদ্রাসায় যেতে পারে না। নড়বড়ে সাঁকো থেকে পড়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। অনেকে স্কুল মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিছে। নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ মুরাদ বলেন, যখন কাজ শুরু হয় তখন আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে কাজ শুরু করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু না করলে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি 























