Dhaka শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলতি মাস থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি : 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চলতি মাস থেকেই দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে শুরুতে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতার এই পালাবদলের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়বো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান, আমরা সেই প্লানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবো। আমাদের সেই পরিকল্পনা হচ্ছে, আমাদের পশ্চাৎপদ নারী, আমরা তাদের ক্ষমতায়ন করতে চাই। তাদের পিছিয়ে রেখে এই কাজ চলতে পারে না। আমরা তাই ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এই মাসের মধ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড বণ্টনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ পরিবার আছে, যদি প্রতিটি পরিবারে এই কার্ড পৌঁছাতে পারি তাহলে এই পরিবারের নারীরাই হবে এই কার্ডের মালিক। আমরা শুরুতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের অঙ্ক দিয়ে শুরু করবো, তারপরে ধারাবাহিকভাবে আমরা অন্যান্য সম্ভাবনাগুলোকে বাড়াতে থাকবো।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু মোকাবিলা, বেকারত্ব দূর করাসহ নানা কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে। তবে কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হবে না যদি, গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে দেওয়া না হয়। আমি তাই গণমাধ্যমের অভিভাবক হতে চাই। যাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালা রয়েছে। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা, সংকট বা বিরোধ সেই কাঠামোর মধ্যেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ করা হলে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ওয়েজ বোর্ডকে দ্রুত সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশকে প্রস্তুত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে যেন সবসময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়, সেটিই সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্মের পর এত বিতর্কহীন নির্বাচন আর হয়নি। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। সেই পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত, তবে আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছি।

এই পরিকল্পনার আওতায় নারী অধিকার নিশ্চিত করা, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি এবং কৃষকদের ঋণ মওকুফসহ কৃষি কার্ড প্রদানের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এছাড়া চলমান পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে বলেও তিনি জানান। অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনের অগ্রপথিক নেতাদের অবদান স্মরণ করেন।

বাংলাদেশকে প্রস্তুত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয় এমনটি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভবিষ্যতে যেন সব সময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরো দৃঢ় করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আবদুল হান্নান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাষা সৈনিকরা।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নওগাঁয় হারানো ১২৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফেরত দিল পুলিশ

চলতি মাস থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি : 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চলতি মাস থেকেই দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে শুরুতে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতার এই পালাবদলের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়বো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান, আমরা সেই প্লানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবো। আমাদের সেই পরিকল্পনা হচ্ছে, আমাদের পশ্চাৎপদ নারী, আমরা তাদের ক্ষমতায়ন করতে চাই। তাদের পিছিয়ে রেখে এই কাজ চলতে পারে না। আমরা তাই ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এই মাসের মধ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড বণ্টনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ পরিবার আছে, যদি প্রতিটি পরিবারে এই কার্ড পৌঁছাতে পারি তাহলে এই পরিবারের নারীরাই হবে এই কার্ডের মালিক। আমরা শুরুতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের অঙ্ক দিয়ে শুরু করবো, তারপরে ধারাবাহিকভাবে আমরা অন্যান্য সম্ভাবনাগুলোকে বাড়াতে থাকবো।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু মোকাবিলা, বেকারত্ব দূর করাসহ নানা কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে। তবে কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হবে না যদি, গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে দেওয়া না হয়। আমি তাই গণমাধ্যমের অভিভাবক হতে চাই। যাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালা রয়েছে। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা, সংকট বা বিরোধ সেই কাঠামোর মধ্যেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ করা হলে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ওয়েজ বোর্ডকে দ্রুত সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশকে প্রস্তুত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে যেন সবসময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়, সেটিই সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্মের পর এত বিতর্কহীন নির্বাচন আর হয়নি। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। সেই পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত, তবে আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছি।

এই পরিকল্পনার আওতায় নারী অধিকার নিশ্চিত করা, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি এবং কৃষকদের ঋণ মওকুফসহ কৃষি কার্ড প্রদানের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এছাড়া চলমান পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে বলেও তিনি জানান। অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনের অগ্রপথিক নেতাদের অবদান স্মরণ করেন।

বাংলাদেশকে প্রস্তুত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয় এমনটি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভবিষ্যতে যেন সব সময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরো দৃঢ় করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আবদুল হান্নান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাষা সৈনিকরা।