Dhaka রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে আর তার বক্তব্য শুনতে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জনসভা ঘিরে ভোর থেকে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলোগ্রাউন্ড মাঠ ভরে যাচ্ছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকে কেউ আসছেন দলবেঁধে, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছেন মাঠে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। মহাসমাবেশের আশপাশ ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুনে।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সরেজমিনে পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের দিকে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে উপস্থিতিও বাড়ছে।

সরেজমিন সকাল ৯টার দিকে দেখা যায়, নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিমাংশে মঞ্চের পাশে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। মঞ্চে রয়েছেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, ছাত্রদলের নেতা গাজী সিরাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা। মাঠে দল বেঁধে ঢুকছেন নেতা-কর্মীরা। তাঁদের মুখে ‘তারেক জিয়ার ঘাঁটি, চট্টগ্রামের মাটি’সহ নানা স্লোগান।
আগেভাগে আসা নেতাকর্মীরা জানান, তাদের চেয়ারম্যানকে কাছে থেকে একনজর দেখার ইচ্ছা থেকে সকাল সকাল উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

সাতকানিয়া থেকে আসা বিএনপি কর্মী আমির হোসেন বলেন, তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম বহু বছর। আজ সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে।

দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা রাত থেকেই সমাবেশের আশেপাশে রয়েছি। আমাদের মতো অনেকেই ছিলেন। যেহেতু সকালে প্রোগ্রাম একেবারে শেষ করেই যাব।

সমাবেশে জেলার বোয়ালখালী থেকে এসেছেন বিএনপির কর্মী নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, সকাল সাতটায় বোয়ালখালী থেকে রওনা হয়েছেন। সাড়ে আটটার দিকে সমাবেশে এসে পৌঁছেছেন। এত সকাল সকাল কেন এসেছেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নেতাকে (তারেক রহমান) সামনাসামনি মনভরে দেখব। তাই মঞ্চের কাছে বসার জন্য চলে এসেছি। সকালে আসায় মঞ্চের কাছে বসার সুযোগটা পেলাম।’

কর্ণফুলী উপজেলা থেকে এসেছেন আবদুল কাদের। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে টেলিভিশনে দেখেছেন। তাঁকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হারাতে চাননি। তাই সকাল থেকে এসে বসে আছেন।

এদিকে নগরের অক্সিজেন মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, নতুন ব্রিজ, অলংকার মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়েও দেখা গেছে সমাবেশে যাওয়ার জন্য জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের ভিড়। কেউ হেঁটে, আবার কেউ গাড়িতে করে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছেন।

বোয়ালখালী উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আহমদ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেখার জন্য এসেছি। গতকাল (শনিবার) হোটেলে ঢোকার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু মানুষ বেশি থাকায় দেখতে পারিনি। তাই আজ একেবারে সকালে চলে এসেছি।’

মীরসরাই উপজেলা থেকে আসা বিএনপি কর্মী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা মীরসরাইয়ে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের কর্মী। আমরা রাত থাকতেই মীরসরাই থেকে রওনা দিয়েছি। ভোরে এখানে এসে পৌঁছেছি। এখানে আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্দেশনা দেন, সেটা নিয়ে এলাকায় ফিরে যাব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা মীরসরাই থেকে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ।’

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে মিছিল নিয়ে আমাদের যুবদলের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আজ পলোগ্রাউন্ড ময়দানে লাখো জিয়ার সৈনিক যুবক উপস্থিত থাকবেন।’

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই পলোগ্রাউন্ড মাঠ পেরিয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যাবে উপস্থিতি।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, সমাবেশ সফল করতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আশপাশের উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা গতকাল রাতে নগরে এসে গেছেন। তাঁদের আশা, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠ, আশপাশের এলাকা ও নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। সমাবেশস্থলের আশপাশের যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সন্তান তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে আসছেন তিনি। ২০০৫ সালে তাঁর ওই সফরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে হিসাবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে বড় কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

এদিকে তারেক রহমান চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের পর বিকেলে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল চারটায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি।

এর একটি সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এই জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা ঠিক নয় : মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল

প্রকাশের সময় : ১১:৫৭:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে আর তার বক্তব্য শুনতে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জনসভা ঘিরে ভোর থেকে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলোগ্রাউন্ড মাঠ ভরে যাচ্ছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকে কেউ আসছেন দলবেঁধে, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছেন মাঠে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। মহাসমাবেশের আশপাশ ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুনে।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সরেজমিনে পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের দিকে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে উপস্থিতিও বাড়ছে।

সরেজমিন সকাল ৯টার দিকে দেখা যায়, নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিমাংশে মঞ্চের পাশে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। মঞ্চে রয়েছেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, ছাত্রদলের নেতা গাজী সিরাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা। মাঠে দল বেঁধে ঢুকছেন নেতা-কর্মীরা। তাঁদের মুখে ‘তারেক জিয়ার ঘাঁটি, চট্টগ্রামের মাটি’সহ নানা স্লোগান।
আগেভাগে আসা নেতাকর্মীরা জানান, তাদের চেয়ারম্যানকে কাছে থেকে একনজর দেখার ইচ্ছা থেকে সকাল সকাল উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

সাতকানিয়া থেকে আসা বিএনপি কর্মী আমির হোসেন বলেন, তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম বহু বছর। আজ সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে।

দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা রাত থেকেই সমাবেশের আশেপাশে রয়েছি। আমাদের মতো অনেকেই ছিলেন। যেহেতু সকালে প্রোগ্রাম একেবারে শেষ করেই যাব।

সমাবেশে জেলার বোয়ালখালী থেকে এসেছেন বিএনপির কর্মী নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, সকাল সাতটায় বোয়ালখালী থেকে রওনা হয়েছেন। সাড়ে আটটার দিকে সমাবেশে এসে পৌঁছেছেন। এত সকাল সকাল কেন এসেছেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নেতাকে (তারেক রহমান) সামনাসামনি মনভরে দেখব। তাই মঞ্চের কাছে বসার জন্য চলে এসেছি। সকালে আসায় মঞ্চের কাছে বসার সুযোগটা পেলাম।’

কর্ণফুলী উপজেলা থেকে এসেছেন আবদুল কাদের। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে টেলিভিশনে দেখেছেন। তাঁকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হারাতে চাননি। তাই সকাল থেকে এসে বসে আছেন।

এদিকে নগরের অক্সিজেন মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, নতুন ব্রিজ, অলংকার মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়েও দেখা গেছে সমাবেশে যাওয়ার জন্য জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের ভিড়। কেউ হেঁটে, আবার কেউ গাড়িতে করে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছেন।

বোয়ালখালী উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আহমদ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেখার জন্য এসেছি। গতকাল (শনিবার) হোটেলে ঢোকার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু মানুষ বেশি থাকায় দেখতে পারিনি। তাই আজ একেবারে সকালে চলে এসেছি।’

মীরসরাই উপজেলা থেকে আসা বিএনপি কর্মী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা মীরসরাইয়ে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের কর্মী। আমরা রাত থাকতেই মীরসরাই থেকে রওনা দিয়েছি। ভোরে এখানে এসে পৌঁছেছি। এখানে আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্দেশনা দেন, সেটা নিয়ে এলাকায় ফিরে যাব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা মীরসরাই থেকে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ।’

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে মিছিল নিয়ে আমাদের যুবদলের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আজ পলোগ্রাউন্ড ময়দানে লাখো জিয়ার সৈনিক যুবক উপস্থিত থাকবেন।’

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই পলোগ্রাউন্ড মাঠ পেরিয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যাবে উপস্থিতি।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, সমাবেশ সফল করতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আশপাশের উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা গতকাল রাতে নগরে এসে গেছেন। তাঁদের আশা, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠ, আশপাশের এলাকা ও নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। সমাবেশস্থলের আশপাশের যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সন্তান তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে আসছেন তিনি। ২০০৫ সালে তাঁর ওই সফরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে হিসাবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে বড় কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

এদিকে তারেক রহমান চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের পর বিকেলে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল চারটায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি।

এর একটি সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এই জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।