স্পোর্টস ডেস্ক :
রান তাড়ায় একটুও লড়াই জমাতে পারল না চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিসিবির পরিচালনায় থাকা দলটি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পড়ল মুখ থুবড়ে। ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ডময় সেঞ্চুরির পর বল হাতে বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ জ্বলে ওঠায় অনায়াসে জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তারা মাতোয়ারা হলো বিপিএলের শিরোপার উল্লাসে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বাদশ আসরের ফাইনালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে চট্টগ্রামকে হারিয়েছে রাজশাহী।
১৭৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয় ও হাসান নওয়াজ দ্রুত ফিরে যান। পাওয়ারপ্লে শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪১ রান ছিল তাদের।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেন ওপেনার মির্জা তাহির বেগ। তিনি ৩৬ বলে ৩৯ রান করে আউট হন। তবে অন্য প্রান্তে কেউই তাকে ভালোভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি। শেখ মেহেদী হাসানসহ মিডল অর্ডার ব্যর্থ হওয়ায় বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চট্টগ্রাম।
শেষ দিকে আসিফ আলী কিছুটা লড়াই করলেও তাতে ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না। ১৬ বলে ২১ রান করে তিনি আউট হন। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস।
রাজশাহীর হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বিনুরা ফার্নান্দো। মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। হাসান মুরাদ নেন ৩ উইকেট, জিমি নিশাম ২টি এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন নেন ১ উইকেট।

তানজিদ অবশ্য দুবার বেঁচে যান ক্যাচ তুলে, ব্যক্তিগত ৫৪ ও ৮৮ রানে। প্রথমবার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও পরেরবার আসিফ আলী বল মুঠোয় জমাতে পারেননি। দুবারই দুর্ভাগা বোলার ছিলেন আমির জামাল। শেষমেশ মুকিদুলের বলে জামালের ক্যাচে পরিণত হয়ে থামেন তানজিদ।
তানজিদের আগে ২০১৭ সালের বিপিএলের ফাইনালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে গেইল ও ২০১৯ সালের আসরের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে তামিম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। এই নিয়ে টানা তিন আসরে সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেন ২৫ বছর বয়সী তারকা। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ও গত বছর ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে শতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর উদ্বোধনী জুটির শুরুটা হয় দেখেশুনে। তবে সুযোগ পেলে বাউন্ডারি মারতে পিছপা হননি তানজিদ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আসে বিনা উইকেটে ৪০ রান।
শরিফুল ইসলামের করা তৃতীয় ওভারে টানা ছক্কা ও চার মারেন তানজিদ। পঞ্চম ওভারে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান আক্রমণে এলে তাকে চার মেরে অভ্যর্থনা জানান আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ওই ওভারের সমাপ্তি ঘটে তানজিদের ছক্কায়।
সব উইকেট হাতে থাকার পুরো ফায়দা নিয়ে পাওয়ার প্লের পর আরও উত্তাল হয়ে তানজিদের ব্যাট। সঙ্গী ফারহানের ভূমিকা ছিল মূলত দর্শকের। সপ্তম ওভারে শেখ মেহেদী বোলিংয়ে ফিরলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান তানজিদ। পরের ওভারে তানভীর ইসলামকে ছক্কায় ওড়ান ফারহান। নবম ওভারে চার বলের মধ্যে ফের জোড়া ছক্কা আসে তানজিদের কাছ থেকে।

ছক্কার ভেলায় চড়ে ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ। ততক্ষণে তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ছয়টি ছক্কা। ইনিংসের মাঝপথে রাজশাহীর পুঁজি দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৮২ রান। আর ১ রান যোগ হওয়ার পরই বিচ্ছিন্ন হয় উড়তে থাকা উদ্বোধনী জুটি। ছক্কা মারার চেষ্টায় মুকিদুলের বলে জামালের তালুবন্দি হন ফারহান। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ৩০ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় তার সংগ্রহ ৩০ রান।
তিনে নামা কেইন উইলিয়ামসনের সঙ্গেও জমে যায় তানজিদের জুটি। দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন উইলিয়ামসন। তিনি শরিফুলের বলে ধরা পড়েন নাঈম শেখের হাতে। ভাঙে ৩২ বলে ৪৭ রানের জুটি।

ফিফটির পর কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়া তানজিদ শেষদিকে আবার চড়াও হন। ১৭তম ওভারে জামালকে তিনটি চার মারার পরের ওভারে শেখ মেহেদীকে ছক্কায় উড়িয়ে পৌঁছে যান ৯৭ রানে। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি পূরণ করেন রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি। উদযাপন করেন দারুণ ঢঙে।
ইনিংসের শেষ বলে রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে (৭ বলে ১১ রান) বিদায় করেন শরিফুল। ফলে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি পেসার। এবার তার উইকেট ২৬টি। গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর পক্ষে তাসকিন আহমেদ নিয়েছিলেন ২৫টি উইকেট। জেমস নিশাম অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ৭ রানে।

কৃপণতা দেখানো মুকিদুল ৪ ওভারে ২০ রানে ও শরিফুল ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন। উইকেটশূন্য থাকা তানভীর ইসলামও আঁটসাঁট থেকে ৩ ওভারে ১৭ রান দেন। তবে ভীষণ খরুচে ছিলেন ওভারের কোটা পূর্ণ করা শেখ মেহেদী ও জামাল। শেখ মেহেদী ৪৮ ও জামাল ৪৩ রান দেন।
এটি রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে বিপিএলের ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
স্পোর্টস ডেস্ক 























