Dhaka মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি করে হত্যা : ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

তিন বছর আগে মুন্সীগঞ্জে শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আট আসামিকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী। আসামিদের মধ্যে শাহাদাত বেপারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ইব্রাহিম বেপারী, হাবিব বেপারী, এমদাদ হালদার ও লিটন বেপারী পলাতক রয়েছেন।

অপর ছয় আসামি জামিনে ছিলেন। জাহাঙ্গীর বেপারী ছাড়া বাকি আসামিরা আদালতে হাজির হন। জাহাঙ্গীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে তার জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পলাতক অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে শ্যামল ঘুমিয়ে পড়েন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে এমদাদ ‘জরুরি কথা আছে’ বলে শ্যামলকে ডেকে তোলেন। দরজা খোলামাত্র শাহাদাত শ্যামলের হাতে দুটি গুলি করেন। জাহাঙ্গীর তার পায়ে গুলি করেন। ইব্রাহিম বেপারীও পায়ে দুটি গুলি করেন। আরও দুইজন আসামি শ্যামলকে গুলি করেন।

শ্যামল ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব তার মাথায় গুলি করেন। শ্যামল গোঙাতে থাকলে শাহাদাত বেপারী একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার মাঝ বরাবর কোপ দেন।

গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোনে বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়াকে জানান। পরে শ্যামলকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১৫ জুন ইব্রাহিম মিয়া মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ পাঠানো হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামি শাহাদাত বেপারী ও হায়াতুল ইসলাম নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশে মজুদ থাকা জ্বালানির পরিমাণ জানালেন বিপিসি চেয়ারম্যান

ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি করে হত্যা : ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের সময় : ০২:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

তিন বছর আগে মুন্সীগঞ্জে শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আট আসামিকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী। আসামিদের মধ্যে শাহাদাত বেপারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ইব্রাহিম বেপারী, হাবিব বেপারী, এমদাদ হালদার ও লিটন বেপারী পলাতক রয়েছেন।

অপর ছয় আসামি জামিনে ছিলেন। জাহাঙ্গীর বেপারী ছাড়া বাকি আসামিরা আদালতে হাজির হন। জাহাঙ্গীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে তার জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পলাতক অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে শ্যামল ঘুমিয়ে পড়েন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে এমদাদ ‘জরুরি কথা আছে’ বলে শ্যামলকে ডেকে তোলেন। দরজা খোলামাত্র শাহাদাত শ্যামলের হাতে দুটি গুলি করেন। জাহাঙ্গীর তার পায়ে গুলি করেন। ইব্রাহিম বেপারীও পায়ে দুটি গুলি করেন। আরও দুইজন আসামি শ্যামলকে গুলি করেন।

শ্যামল ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব তার মাথায় গুলি করেন। শ্যামল গোঙাতে থাকলে শাহাদাত বেপারী একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার মাঝ বরাবর কোপ দেন।

গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোনে বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়াকে জানান। পরে শ্যামলকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১৫ জুন ইব্রাহিম মিয়া মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ পাঠানো হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামি শাহাদাত বেপারী ও হায়াতুল ইসলাম নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।