Dhaka শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুলারের একমাত্র গোলে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে রিয়াল

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৯১ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

লা লিগার এবারের শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে যাচ্ছে সেটা অনুমেয় ছিল। এবার শিরোপার আরও কাছে পৌছে গেল মাদ্রিদের দলটি। আর দুটি ম্যাচ জিতলেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই দৌড়ে রিয়াল সোসিয়েদাদকে তারা হারিয়েছে ১-০ গোলের ব্যবধানে।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামেন আনচেলত্তি। ভিনিসিউস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যামকে রাখেন বেঞ্চে। নিয়মিত খেলোয়াড়দের ছাড়া খেলতে নেমে আক্রমণের ধার ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। ম্যাচেও দেখাতে পারেনি দাপট। একটি মাত্র সুযোগ পেয়ে জয়ী গোলটি করেন গিলের।

রিয়ালের হয়ে এদিন একমাত্র গোলটি করেছেন ‘তুরস্কের মেসি’খ্যাত তরুণ ফুটবলার আর্দা গুলার। এই মিডফিল্ডার খুব বেশি ম্যাচটাইম পাচ্ছিলেন না সাম্প্রতিক সময়ে, এই ম্যাচে যে তাকে খেলানো হবে সেটি আগেই জানিয়েছিলেন আনচেলত্তি। গোল পাওয়া ছাড়া কার্যত অর্থে সোসিয়েদাদকে সেভাবে চাপে রাখতে পারেনি রিয়াল। পুরো শক্তি যেন তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য জমিয়ে রেখেছে। ৪৪ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি ৫ শটের মধ্যে কেবল ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় বার্নাব্যু ফুটবলাররা। অন্যদিকে সোসিয়েদাদ ৯ শটের মধ্যে ৩টি রাখে লক্ষ্যে।

শুরু থেকে বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকা রিয়াল প্রথম ২০ মিনিটে এক শটও নিতে পারেনি। বরং তাদের রক্ষণে স্বাগতিকরা মাঝেমধ্যে ভীতি ছড়িয়ে যাচ্ছিল। রিয়াল ম্যাচের ২৯তম মিনিটে গোলে প্রথম শট নিতে পারে, আ তাতেই এগিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল বক্সের ডান দিকে পেয়ে প্রথম স্পর্শে ভেতরে পাস দেন দানি কারভাহাল। ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান গুলার।

১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এ নিয়ে রিয়ালের জার্সিতে আট ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করলেন। দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের জন্যই তিনি ‘তুরস্কের মেসি’ নামে পরিচিত। তবে রিয়ালের আনন্দ ম্লান করে চার মিনিট পরই গোল উৎসবে মাতে সোসিয়েদাদ। তবে জাপানের মিডফিল্ডার তাকেফুসা কুবোর করা গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ আক্রমণের শুরুতে তারই আরেক সতীর্থ বক্সের বাইরে অহেলিয়া চুয়ামেনিকে ফাউল করার ঘটনা রেকর্ড হয় মনিটরে, সেই রিপ্লে দেখে রেফারি নতুন এই সিদ্ধান্ত দেন।

বিরতির পরও রিয়াল ১-০ গোলের সেই লিড ধরে রাখে। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি সুযোগ তৈরি করে সোসিয়েদাদ। তবে বেনাত তুরিয়েন্তের শট ফিরিয়ে জাল অক্ষত রাখেন গোলরক্ষক কেপা আরিসাবালাগা। ৬০তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের শট বক্স ঘেঁষে তুরিয়েন্তের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে রিয়াল, তবে সাড়া মেলেনি রেফারির। এরপর ৬৮তম মিনিটে দানি সেবাইয়োসের জায়গায় ফেদে ভালভের্দে আর গুলারকে তুলে ভিনিসিয়ুসকে নামান আনচেলত্তি। যদিও শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।

ম্যাচ শেষে গোলদাতা ও জয়ের নায়ক গুলেরের প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, আর্দা গুলের গোল করেছে, সে ভবিষ্যতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে যাচ্ছে। কোনো সন্দেহ নেই যে আগামী বছর সে এখানেই থাকছে।

রিয়ালের হাতের নাগালে লিগ শিরোপা। এমন পরিস্থিতিতে একাদশে বড় পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক। তবে এ ম্যাচের প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিয়েছে রিয়াল। এমন সমালোচনার জবাবে ইতালিয়ান এ কোচ বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে অনেকে ভেবেছিল রিয়াল এখানে বেড়াতে এসেছে। তবে দলের ফুটবলাররা তেমনটা ভাবেনি। ফুটবলাররা গর্ব করার মতো কাজ করেছে। আর তাদের মনে জয়ের আকাঙ্ক্ষাটা সব সময় থাকে।’

এই জয়ে রিয়াল দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে গেল। শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে বাকি ৫ ম্যাচে তাদের মাত্র ৪ পয়েন্ট প্রয়োজন। ৩৩ ম্যাচে ২৬ জয় ও ৬ ড্রয়ে রিয়ালের পয়েন্ট ৮৪। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭০। দুই পয়েন্ট কম নিয়েই তাদের পরই অবস্থান জিরোনার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গুলারের একমাত্র গোলে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে রিয়াল

প্রকাশের সময় : ০১:২৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

লা লিগার এবারের শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে যাচ্ছে সেটা অনুমেয় ছিল। এবার শিরোপার আরও কাছে পৌছে গেল মাদ্রিদের দলটি। আর দুটি ম্যাচ জিতলেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই দৌড়ে রিয়াল সোসিয়েদাদকে তারা হারিয়েছে ১-০ গোলের ব্যবধানে।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামেন আনচেলত্তি। ভিনিসিউস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যামকে রাখেন বেঞ্চে। নিয়মিত খেলোয়াড়দের ছাড়া খেলতে নেমে আক্রমণের ধার ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। ম্যাচেও দেখাতে পারেনি দাপট। একটি মাত্র সুযোগ পেয়ে জয়ী গোলটি করেন গিলের।

রিয়ালের হয়ে এদিন একমাত্র গোলটি করেছেন ‘তুরস্কের মেসি’খ্যাত তরুণ ফুটবলার আর্দা গুলার। এই মিডফিল্ডার খুব বেশি ম্যাচটাইম পাচ্ছিলেন না সাম্প্রতিক সময়ে, এই ম্যাচে যে তাকে খেলানো হবে সেটি আগেই জানিয়েছিলেন আনচেলত্তি। গোল পাওয়া ছাড়া কার্যত অর্থে সোসিয়েদাদকে সেভাবে চাপে রাখতে পারেনি রিয়াল। পুরো শক্তি যেন তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য জমিয়ে রেখেছে। ৪৪ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি ৫ শটের মধ্যে কেবল ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় বার্নাব্যু ফুটবলাররা। অন্যদিকে সোসিয়েদাদ ৯ শটের মধ্যে ৩টি রাখে লক্ষ্যে।

শুরু থেকে বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকা রিয়াল প্রথম ২০ মিনিটে এক শটও নিতে পারেনি। বরং তাদের রক্ষণে স্বাগতিকরা মাঝেমধ্যে ভীতি ছড়িয়ে যাচ্ছিল। রিয়াল ম্যাচের ২৯তম মিনিটে গোলে প্রথম শট নিতে পারে, আ তাতেই এগিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল বক্সের ডান দিকে পেয়ে প্রথম স্পর্শে ভেতরে পাস দেন দানি কারভাহাল। ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান গুলার।

১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এ নিয়ে রিয়ালের জার্সিতে আট ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করলেন। দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের জন্যই তিনি ‘তুরস্কের মেসি’ নামে পরিচিত। তবে রিয়ালের আনন্দ ম্লান করে চার মিনিট পরই গোল উৎসবে মাতে সোসিয়েদাদ। তবে জাপানের মিডফিল্ডার তাকেফুসা কুবোর করা গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ আক্রমণের শুরুতে তারই আরেক সতীর্থ বক্সের বাইরে অহেলিয়া চুয়ামেনিকে ফাউল করার ঘটনা রেকর্ড হয় মনিটরে, সেই রিপ্লে দেখে রেফারি নতুন এই সিদ্ধান্ত দেন।

বিরতির পরও রিয়াল ১-০ গোলের সেই লিড ধরে রাখে। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি সুযোগ তৈরি করে সোসিয়েদাদ। তবে বেনাত তুরিয়েন্তের শট ফিরিয়ে জাল অক্ষত রাখেন গোলরক্ষক কেপা আরিসাবালাগা। ৬০তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের শট বক্স ঘেঁষে তুরিয়েন্তের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে রিয়াল, তবে সাড়া মেলেনি রেফারির। এরপর ৬৮তম মিনিটে দানি সেবাইয়োসের জায়গায় ফেদে ভালভের্দে আর গুলারকে তুলে ভিনিসিয়ুসকে নামান আনচেলত্তি। যদিও শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।

ম্যাচ শেষে গোলদাতা ও জয়ের নায়ক গুলেরের প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, আর্দা গুলের গোল করেছে, সে ভবিষ্যতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে যাচ্ছে। কোনো সন্দেহ নেই যে আগামী বছর সে এখানেই থাকছে।

রিয়ালের হাতের নাগালে লিগ শিরোপা। এমন পরিস্থিতিতে একাদশে বড় পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক। তবে এ ম্যাচের প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিয়েছে রিয়াল। এমন সমালোচনার জবাবে ইতালিয়ান এ কোচ বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে অনেকে ভেবেছিল রিয়াল এখানে বেড়াতে এসেছে। তবে দলের ফুটবলাররা তেমনটা ভাবেনি। ফুটবলাররা গর্ব করার মতো কাজ করেছে। আর তাদের মনে জয়ের আকাঙ্ক্ষাটা সব সময় থাকে।’

এই জয়ে রিয়াল দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে গেল। শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে বাকি ৫ ম্যাচে তাদের মাত্র ৪ পয়েন্ট প্রয়োজন। ৩৩ ম্যাচে ২৬ জয় ও ৬ ড্রয়ে রিয়ালের পয়েন্ট ৮৪। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭০। দুই পয়েন্ট কম নিয়েই তাদের পরই অবস্থান জিরোনার।