কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের পরীক্ষায় আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আগ্রাসন বিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে একটি উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা কি চান ৫ বছর পরপর স্বাধীন কমিশনের অধীনের নির্বাচন হোক? পুলিশ হোক জনগণের? আপনারা কি চান, বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক? গণভোটে প্রশ্নে হ্যাঁ ভোট প্রয়োজন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতাকর্মীদের গুম, হত্যা, নির্যাতনের পর কতিপয় রাজনৈতিক দল ভারতীয় তাঁবেদারি করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু মিডিয়া ব্যবসায়ী করপোরেট জুলাইয়ে আন্দোলনে আমাদের ভাইদের আগুনসন্ত্রাস তাচ্ছিল্য করে নিউজ করেছে, এখন দেখি তাদের বুকে নিচ্ছে একটি পক্ষ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ দুটি পক্ষ একটি গোলামি, আরেকটি আজাদি। একটি স্বাধীনতার পক্ষে আরেকটি পরাধীনের পক্ষে। আমরা ভারতের তাঁবেদারি চাই না, আমরা নিজের উপর নির্ভরশীল হবো, আমরা আজাদি চাই। দেশে কে সরকার করবে তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ, আমরা হাসিনা মার্কা দিল্লি প্রেসক্রিপশন চলতে দেব না।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের গত তিনটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আপনার নিরাপত্তার বদলে ভোট কাটলে হারুন-বেনজিরের মতন পরিণত হবে। তাদের থেকে শিক্ষা নিন, আপনারা দেশপ্রেমিক হোন— আপনাদের সম্মান করবে এ জাতি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দিল্লি হাসিনাকে বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশটাকে সাব কন্টিনেন্ট হিসেবে একটা কলোনিয়াল স্ট্রেট হিসেবে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ভারত পরিচালনা করেছে। আমরা চাই না বাংলাদেশ আবার তার অতীতে ফিরে যাক। আমরা চাই যে বাংলাদেশ কে পরিচালনা করবে, কে সরকার গঠন করবে, কে মসনদে বসবে তা বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করে দেবে।
এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাজ না ব্যালটে সিল দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনের কাজ হচ্ছে জনগণ যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোটটা দিতে পারেন। প্রশাসন ও পুলিশ বিগত তিনটি ইলেকশনে যে ভূমিকা রেখেছে আমরা আশা করি ওই ইলেকশনগুলো থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে। তারা ব্যালটে সিল দিয়ে অনেককে সরকার বানাইছে, এ সরকার কি টিকতে পারছে? পুলিশ ও প্রশাসন নগ্নভাবে হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কাজ হচ্ছে- জনগণ যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে দায়িত্ব পালন করা। আপনারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করুন, জনগণ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে আর না হয় বেনজির এবং হারুনের পরণতি বরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটা পক্ষ চায় গোলামি আর একটা পক্ষ চায় আজাদি। একটা পক্ষ চায় ভারতের তাঁবেদারি আর একটা পক্ষ চায় বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা। একটা পক্ষ চায় স্বাধীনতা, আরেকটা পক্ষ চায় পরাধীনতা, একটি পক্ষ চাঁদাবাজদের পক্ষ অবলম্বন করেছে, ভারতীয় গুন্ডামির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, মাফিয়াদের পক্ষ অবস্থান নিয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের পর গণতন্ত্রের জন্য যারা রক্ত দিয়েছে, শ্রম-ঘাম দিয়েছে রাজপথে রক্ত দিয়েছে তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কতিপয় রাজনৈতিক দল আবার ভারতীয় তাঁবেদারি শুরু করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের ভাইদেরকে আগুন সন্ত্রাসী হিসেবে মিডিয়াতে প্রচার করেছে। আজকে দেখতে পাচ্ছি অনেকেই তাদেরকে বুকে টেনে নিচ্ছে।
দেবিদ্বার পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ক্বারী মো.অলিউল্লাহর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. শরীফুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. গোলাম জিলানী, জামায়াতের ইউনিয়ন আমির মাওলানা মো. হোসাইন, ইউপি সদস্য মো. আবু ইউসুফসহ জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি 























