নিজস্ব প্রতিবেদক :
দূষণমুক্ত আধুনিক গণপরিবহন হিসেবে বৈদ্যুতিক বাসের কদর বিশ্বজুড়ে। দেশে এ ধরনের বাস চালুর একাধিক উদ্যোগ নেয়া হলেও, নানা কারণে আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ উদ্যোগটি ছিল গেল বছর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার প্রকল্প। কথা ছিল, ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার বা ২১৩৫ কোটি টাকা, আর ৩৪৬ কোটি টাকার অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। বাস কেনা ছাড়াও পরিবহন সেক্টরের সংস্কারও ছিল প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের শর্তে ছিল বাসের মান ও সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ড বা স্থায়ী তহবিল গঠন করতে হবে। এ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের ঠিক একদিন আগে গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি, অর্থ বিভাগ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়কে জানিয়ে দেয় প্রকল্পে নিজেদের অসম্মতির কথা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার কে এম তৌফিকুল হাসান বলেন, এই প্রকল্পটা শুধু ৪০০ বাস কেনার প্রজেক্ট নয়। আমরা বাস কিনব এবং বাসগুলো যাতে অপারেশনাল রাখতে পারি, সেটির ভিত্তিতেই আমরা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ডের প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম। এবং আমরা যে ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি বা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের যে ট্যাকনিক্যাল টিম আছে, সবার সঙ্গেই বসেছি। মূলত, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ড ব্যতীত এটি গঠন করা সম্ভব না।
তবে গেল ২ মার্চ সচিবালয়ে এক বৈঠকে ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর আগ্রহের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রসঙ্গটি। গেল ৩ মার্চ বিশ্বব্যাংকের সাথে বৈঠকে বসে মন্ত্রনালয়। সচিব জানান, সিদ্ধান্ত হয় বাতিল হওয়া প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, এটি যেকোনো প্রকল্পের মতোই আমরা দেখতে চাচ্ছি আমাদের জনস্বার্থ কতটা ওখানে আছে। এবং এটিও দেখতে চাচ্ছি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাস চালুর বিষয়টি কতটা বাস্তবায়িত হবে। ইলেকট্রিক বাস নিয়ে অন্য কোন প্রকল্পও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ত্রুটিপূর্ণ রুট পারমিট, বাস মালিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিংবা সড়কে বিশৃঙ্খলা—দীর্ঘ দিনেও ঢাকার মত একটি মেগাসিটিতে আধুনিক গণপরিহন চালু না হওয়ার পেছনে এমন নানা কারনকে দায়ি করা হয়। নতুন সরকারের সদিচ্ছায় এখন দেখার বিষয়, একটি সুশৃঙ্খল গণপরিহন ব্যবস্থার আক্ষেপ নগরবাসীর ঘুচে কি না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















