Dhaka বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়া অকুতোভয় নেত্রী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহীয়সী নারী, অকুতোভয় ও অসীম সাহসী নেত্রী এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে ৪৩ বছর তিনি দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে বিচরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, একাত্তরের লাখো শহীদ, দীর্ঘ ১৮ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া ও হারিয়ে যাওয়া নেতাকর্মী এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি তিনবার বিপুল ভোটে প্রধানমন্ত্রী এবং দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রূপান্তর, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার ৪৩ বছরের রাজনীতিতে কখনো গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার ইস্যুতে আপস করেননি। তিনি বাংলাদেশের ৫৪ বছরে ৪৩ বছর দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, দুইবার বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামী যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা কঠিন। তিনি একজন দূরদর্শিতাসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। তার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তিনি দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নারীদের উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, অর্থনীতি প্রাণবন্ত করতে ভ্যাট চালু করেছেন।

ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্টরা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু পারে নাই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্ত হয়েছেন। এবং মুক্ত হয়ে বলেছেন, প্রতিহিংসা নয়, মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়তে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালের স্মৃতিচারণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি তিনিই গড়েছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি ছিল তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

নারী শিক্ষা ও অর্থনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তার হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দিয়েছিলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কারামুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আসুন, আমরা ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। বিএনপি মহাসচিব স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বেগম জিয়ার এই দর্শনই আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরণা।

অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) চালু এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ উন্মুক্ত করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে তিনি একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার মূল কাজই ছিল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেননি। এটাই তাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজও অনুপ্রেরণার উৎস করে রেখেছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল বিশিষ্ট কবি আল মাহমুদের লেখা বেগম খালেদা জিয়াকে নিবেদিত ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ শীর্ষক একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বিশিষ্ট কবি আল মাহমুদের লেখা একটি কবিতার কিছু অংশ বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে লেখা, সেটা আমি আপনাদেরকে একটু শোনাবো। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা একটা অসাধারণ কবিতা যা দেশনেত্রী সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো কথা বলা হয়েছে।

কবিতাটি হলো-

তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ,

এদেশের গুল্মলতা ছুঁতে চায় পল্লবিত আঁচল তোমার।

যেন এক প্রতিশ্রুতি হেঁটে যায় আমাদের কণ্টকিত কালের ভিতরে।

লাঞ্ছিতের আহ্বানে যেন মাটি জন্ম দিল শস্যগন্ধী মাটিরই কন্যাকে।

প্রত্যাশার কণ্ঠস্বর কে জানে কি মন্ত্রবলে তুমি

কেবল ছড়িয়ে দিচ্ছ, মাঠঘাট আদিগন্ত শস্যের কিনারে।

আমরাও সাক্ষ্য দেব, হাঁ আমরা একদা দেখিছি,

দেখেছি মাতাকে এক অনিঃশেষ আঁধারে দাঁড়িয়ে

আলোর ডানার মত মেলে দিয়ে ব্যাগ্র দুই বাহু

এগারো কোটির মাঝে নেমেছিল বিদ্যুৎবিভায়!

কখনো ভুলোনা যেন তোমার ঘোমটায় আছে মানুষের আশার বারুদ,

ভুলোনা, তোমার বাক্য প্রতীক্ষিত নিঃশ্বাস জাতির।

অবিচল, পিঙ্গলাক্ষী হে মাতৃকা, মানুষের আশাকে জাগাও।

তিনি জাগিয়ে তুলেছেন সে আশা, তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন কারাগারে ভালোভাবে। কিন্তু আবার একই সঙ্গে তাকে হত্যা করার জন্য ফ্যাস্টিটরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই ষড়যন্ত্র তাদের টিকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্ত হয়েছিলেন এবং সেদিনই তিনি জাতির সামনে তার সেই বিখ্যাত উক্তি তিনি করেছিলেন সেই সমঝতার কথা।

খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় আসুন আমরা একটা ভালোবাসার দেশ গড়ে তুলি। কল্যাণের দেশটি গড়ে তুলি মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা নির্মাণ করি আমাদের নতুন বাংলাদেশ বলেন ফখরুল ইসলাম।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কুয়াকাটায় এ কেমন শত্রুতা, জেলের জাল-নৌকায় আগুন

খালেদা জিয়া অকুতোভয় নেত্রী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক : মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহীয়সী নারী, অকুতোভয় ও অসীম সাহসী নেত্রী এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে ৪৩ বছর তিনি দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে বিচরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, একাত্তরের লাখো শহীদ, দীর্ঘ ১৮ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া ও হারিয়ে যাওয়া নেতাকর্মী এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি তিনবার বিপুল ভোটে প্রধানমন্ত্রী এবং দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রূপান্তর, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার ৪৩ বছরের রাজনীতিতে কখনো গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার ইস্যুতে আপস করেননি। তিনি বাংলাদেশের ৫৪ বছরে ৪৩ বছর দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, দুইবার বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামী যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা কঠিন। তিনি একজন দূরদর্শিতাসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। তার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তিনি দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নারীদের উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, অর্থনীতি প্রাণবন্ত করতে ভ্যাট চালু করেছেন।

ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্টরা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু পারে নাই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্ত হয়েছেন। এবং মুক্ত হয়ে বলেছেন, প্রতিহিংসা নয়, মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়তে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালের স্মৃতিচারণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি তিনিই গড়েছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি ছিল তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

নারী শিক্ষা ও অর্থনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তার হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দিয়েছিলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কারামুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আসুন, আমরা ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। বিএনপি মহাসচিব স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বেগম জিয়ার এই দর্শনই আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরণা।

অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) চালু এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ উন্মুক্ত করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে তিনি একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার মূল কাজই ছিল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেননি। এটাই তাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজও অনুপ্রেরণার উৎস করে রেখেছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল বিশিষ্ট কবি আল মাহমুদের লেখা বেগম খালেদা জিয়াকে নিবেদিত ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ শীর্ষক একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বিশিষ্ট কবি আল মাহমুদের লেখা একটি কবিতার কিছু অংশ বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে লেখা, সেটা আমি আপনাদেরকে একটু শোনাবো। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা একটা অসাধারণ কবিতা যা দেশনেত্রী সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো কথা বলা হয়েছে।

কবিতাটি হলো-

তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ,

এদেশের গুল্মলতা ছুঁতে চায় পল্লবিত আঁচল তোমার।

যেন এক প্রতিশ্রুতি হেঁটে যায় আমাদের কণ্টকিত কালের ভিতরে।

লাঞ্ছিতের আহ্বানে যেন মাটি জন্ম দিল শস্যগন্ধী মাটিরই কন্যাকে।

প্রত্যাশার কণ্ঠস্বর কে জানে কি মন্ত্রবলে তুমি

কেবল ছড়িয়ে দিচ্ছ, মাঠঘাট আদিগন্ত শস্যের কিনারে।

আমরাও সাক্ষ্য দেব, হাঁ আমরা একদা দেখিছি,

দেখেছি মাতাকে এক অনিঃশেষ আঁধারে দাঁড়িয়ে

আলোর ডানার মত মেলে দিয়ে ব্যাগ্র দুই বাহু

এগারো কোটির মাঝে নেমেছিল বিদ্যুৎবিভায়!

কখনো ভুলোনা যেন তোমার ঘোমটায় আছে মানুষের আশার বারুদ,

ভুলোনা, তোমার বাক্য প্রতীক্ষিত নিঃশ্বাস জাতির।

অবিচল, পিঙ্গলাক্ষী হে মাতৃকা, মানুষের আশাকে জাগাও।

তিনি জাগিয়ে তুলেছেন সে আশা, তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন কারাগারে ভালোভাবে। কিন্তু আবার একই সঙ্গে তাকে হত্যা করার জন্য ফ্যাস্টিটরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই ষড়যন্ত্র তাদের টিকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্ত হয়েছিলেন এবং সেদিনই তিনি জাতির সামনে তার সেই বিখ্যাত উক্তি তিনি করেছিলেন সেই সমঝতার কথা।

খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় আসুন আমরা একটা ভালোবাসার দেশ গড়ে তুলি। কল্যাণের দেশটি গড়ে তুলি মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা নির্মাণ করি আমাদের নতুন বাংলাদেশ বলেন ফখরুল ইসলাম।