Dhaka বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় গেলে কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু করবে জামায়াত : ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামকে সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা উল্লেখ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু করবে জামায়াত।

বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটে‌র নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আপনাদের ঘর থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রীও বের হবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের যুবকরা কাজ পাবে, যুবতীরা পাবে, মায়েরা পাবে, ভাইয়েরা পাবে। কেউ সেদিন বেকার থাকবে না। যখন কৃষি বিপ্লব হবে তখন সবাই কাজ পেয়ে যাবেন। বলবেন আমাদের শুধু কৃষক বানিয়ে রাখবেন, না, আপনাদের ঘর থেকে, মায়েদের গর্ভ থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রীও বের হবে।

তিনটা নদীকে কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্ষা আসলেই এখানকার মানুষের চিন্তা বাড়ে।

জামায়াত আমির বলেন, এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদারকে মেনে নেয়া হবে না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ।

আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কোনো ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হবে না বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে সীমান্তে আমাদের দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে। কোনো বিচার পাইনি। আমি ফেলানির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বাবা-মায়ের চোখে পানি নয়, রক্ত দেখে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধু থাকবে কিন্তু আমরা কোথাও কাউকে প্রভু মানব না, কোথাও কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।

জামায়াতের আমির বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ হলো প্রধান তিনটি নদী। বর্ষা আসলেই নদীপাড়ের মানুষের চিন্তা শুরু হয়ে যায়, কখন কার বসতবাড়ি ভেসে যায়। এই নদীগুলোকে দিনের পর দিন একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি হত্যা করেছে। নদীগুলোকে কঙ্কাল বানানো হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে যত বাজেট হয়েছে সবগুলো তাদের পেটের ভেতরে গেছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে ওই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসবো।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের আঠারো কোটি মানুষের বিজয়। তিস্তাপারের উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে সবাই কাজ পাবে। কেউ বেকার থাকবে না।

নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েদের প্রতি বৈষম্য ও অসম্মান রয়েছে। সমান কাজ করেও নারী শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থলে নারীরা শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান পাবে। এটি মায়েদের কাছে আমাদের প্রথম ওয়াদা।

তি‌নি আরও বলেন, আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাদ বরণ করেছিলেন। তার রাস্তা ধরে আবু সাঈদ, মুগ্ধ শহীদ হন। সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদিসহ ১৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। শহীদদের রক্তে তারা আমাদের নদীগুলো‌ লাল করে দিয়েছে। আমরা কথা দি‌চ্ছি, আমরা এই শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা লড়ে যাবো ইনশাল্লাহ।

এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করার’ অভিযোগ এনে জামায়াতে আমির এখন একটি গুষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। চারদিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালিয়ে দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে-নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা! ওদের চুনোপুঁটি তো গাইল বটে, তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে ওঠেনি। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে কজ্বা করে ধরে ফেলেছে। সত্য কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। এরই মধ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না। সত্য এখন উদ্ভাসিত।

কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, “এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণিমুক্তায় ভরিয়ে দেন।”

তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।

এ সময় জামায়াত আমির একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা নারীদের গায়ে, মা-বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছে, কাপড় খুলে নেবে। তারা বলছে, হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেল, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা! এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কিভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই, সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি-ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।

শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও ওই নির্বাচনি জনসভায় কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ক্ষমতায় গেলে কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু করবে জামায়াত : ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামকে সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা উল্লেখ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু করবে জামায়াত।

বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটে‌র নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আপনাদের ঘর থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রীও বের হবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের যুবকরা কাজ পাবে, যুবতীরা পাবে, মায়েরা পাবে, ভাইয়েরা পাবে। কেউ সেদিন বেকার থাকবে না। যখন কৃষি বিপ্লব হবে তখন সবাই কাজ পেয়ে যাবেন। বলবেন আমাদের শুধু কৃষক বানিয়ে রাখবেন, না, আপনাদের ঘর থেকে, মায়েদের গর্ভ থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রীও বের হবে।

তিনটা নদীকে কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্ষা আসলেই এখানকার মানুষের চিন্তা বাড়ে।

জামায়াত আমির বলেন, এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদারকে মেনে নেয়া হবে না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ।

আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কোনো ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হবে না বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে সীমান্তে আমাদের দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে। কোনো বিচার পাইনি। আমি ফেলানির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বাবা-মায়ের চোখে পানি নয়, রক্ত দেখে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধু থাকবে কিন্তু আমরা কোথাও কাউকে প্রভু মানব না, কোথাও কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।

জামায়াতের আমির বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ হলো প্রধান তিনটি নদী। বর্ষা আসলেই নদীপাড়ের মানুষের চিন্তা শুরু হয়ে যায়, কখন কার বসতবাড়ি ভেসে যায়। এই নদীগুলোকে দিনের পর দিন একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি হত্যা করেছে। নদীগুলোকে কঙ্কাল বানানো হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে যত বাজেট হয়েছে সবগুলো তাদের পেটের ভেতরে গেছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে ওই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসবো।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের আঠারো কোটি মানুষের বিজয়। তিস্তাপারের উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে সবাই কাজ পাবে। কেউ বেকার থাকবে না।

নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েদের প্রতি বৈষম্য ও অসম্মান রয়েছে। সমান কাজ করেও নারী শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থলে নারীরা শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান পাবে। এটি মায়েদের কাছে আমাদের প্রথম ওয়াদা।

তি‌নি আরও বলেন, আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাদ বরণ করেছিলেন। তার রাস্তা ধরে আবু সাঈদ, মুগ্ধ শহীদ হন। সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদিসহ ১৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। শহীদদের রক্তে তারা আমাদের নদীগুলো‌ লাল করে দিয়েছে। আমরা কথা দি‌চ্ছি, আমরা এই শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা লড়ে যাবো ইনশাল্লাহ।

এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করার’ অভিযোগ এনে জামায়াতে আমির এখন একটি গুষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। চারদিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালিয়ে দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে-নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা! ওদের চুনোপুঁটি তো গাইল বটে, তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে ওঠেনি। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে কজ্বা করে ধরে ফেলেছে। সত্য কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। এরই মধ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না। সত্য এখন উদ্ভাসিত।

কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, “এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণিমুক্তায় ভরিয়ে দেন।”

তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।

এ সময় জামায়াত আমির একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা নারীদের গায়ে, মা-বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছে, কাপড় খুলে নেবে। তারা বলছে, হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেল, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা! এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কিভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই, সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি-ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।

শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও ওই নির্বাচনি জনসভায় কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।