Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ‘ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর’-এর অধীনে ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের সাম্প্রতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া প্রকল্পে দেড় বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে হঠাৎ টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেয়। এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন ও সংবেদনশীল ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ প্রকল্পে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভূমি খাত দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি না থাকলে প্রকল্পটি পুনরায় বিতর্কে জড়াতে পারে। EDLRMS (ভূমি অটোমেশন) প্রকল্পের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাও সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে।

EDLRMS প্রকল্পের পরিচালক মো. মোমিনুর রশীদ একই সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটির প্রধান। বিশ্লেষকদের মতে, একই ব্যক্তির উভয় ভূমিকায় সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

অতীতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। নতুন প্রকল্পেও বিদেশি অংশগ্রহণের বৈধতা ও নীতিগত সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প নথিতে বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ সীমিত থাকার কথা উল্লেখ আছে। তবু টেন্ডারের বিভিন্ন ধাপে বিদেশি অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ড্রোন লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট যাচাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ড্রোন উড্ডয়ন ও পরিচালনা ২০২০ সালের নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে। পাইলট লাইসেন্স CAAB বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশের কর্তৃপক্ষ থেকে হতে হবে।

কিছু প্রতিষ্ঠান Indian Drone Institute-সহ ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার সনদ জমা দিয়েছে। এগুলো CAAB অনুমোদিত নয়। DGCA-ও স্বীকৃত নয়। কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষায় প্রদত্ত সনদ জমা দিয়েছে। এগুলোও CAAB অনুমোদিত নয়।

কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বৈধতা, সত্যতা ও অনুমোদন যথাযথ যাচাই হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকল ড্রোন পাইলট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ সনদ CAAB বা ICAO-স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা অপরিহার্য।

ভুয়া বা অবৈধ সার্টিফিকেট গ্রহণ করলে জাতীয় নিরাপত্তা, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে ড্রোনভিত্তিক ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ হবে। তাই কারিগরি যাচাই কঠোর ও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি।

লিড ফার্মের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাডাস্ট্রাল জরিপে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগ গঠন করে লিড ফার্ম হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে।

নীতিগতভাবে, লিড প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ অভিজ্ঞতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণ লিড ফার্ম প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, ডেটা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

যদি লিড প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিজ্ঞতা না থাকে এবং শুধুমাত্র সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন হয়, প্রকল্পের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লিড ফার্মের যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।

ড্রোন লাইসেন্স ও সার্টিফিকেটের যথাযথ যাচাই করা দরকার। লিড ফার্মের প্রকৃত অভিজ্ঞতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা জরুরি। প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে টেকসই ও গ্রহণযোগ্য ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ ব্যবস্থা গড়া সম্ভব। অন্যথায় ভূমি ব্যবস্থাপনার ভিত্তি আবার বিতর্ক ও আস্থাহীনতার মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ, উৎপত্তিস্থল ছাতক

ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ‘ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর’-এর অধীনে ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের সাম্প্রতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া প্রকল্পে দেড় বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে হঠাৎ টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেয়। এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন ও সংবেদনশীল ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ প্রকল্পে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভূমি খাত দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি না থাকলে প্রকল্পটি পুনরায় বিতর্কে জড়াতে পারে। EDLRMS (ভূমি অটোমেশন) প্রকল্পের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাও সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে।

EDLRMS প্রকল্পের পরিচালক মো. মোমিনুর রশীদ একই সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটির প্রধান। বিশ্লেষকদের মতে, একই ব্যক্তির উভয় ভূমিকায় সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

অতীতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। নতুন প্রকল্পেও বিদেশি অংশগ্রহণের বৈধতা ও নীতিগত সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প নথিতে বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ সীমিত থাকার কথা উল্লেখ আছে। তবু টেন্ডারের বিভিন্ন ধাপে বিদেশি অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ড্রোন লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট যাচাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ড্রোন উড্ডয়ন ও পরিচালনা ২০২০ সালের নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে। পাইলট লাইসেন্স CAAB বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশের কর্তৃপক্ষ থেকে হতে হবে।

কিছু প্রতিষ্ঠান Indian Drone Institute-সহ ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার সনদ জমা দিয়েছে। এগুলো CAAB অনুমোদিত নয়। DGCA-ও স্বীকৃত নয়। কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষায় প্রদত্ত সনদ জমা দিয়েছে। এগুলোও CAAB অনুমোদিত নয়।

কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বৈধতা, সত্যতা ও অনুমোদন যথাযথ যাচাই হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকল ড্রোন পাইলট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ সনদ CAAB বা ICAO-স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা অপরিহার্য।

ভুয়া বা অবৈধ সার্টিফিকেট গ্রহণ করলে জাতীয় নিরাপত্তা, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে ড্রোনভিত্তিক ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ হবে। তাই কারিগরি যাচাই কঠোর ও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি।

লিড ফার্মের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাডাস্ট্রাল জরিপে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগ গঠন করে লিড ফার্ম হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে।

নীতিগতভাবে, লিড প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ অভিজ্ঞতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণ লিড ফার্ম প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, ডেটা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

যদি লিড প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিজ্ঞতা না থাকে এবং শুধুমাত্র সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন হয়, প্রকল্পের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লিড ফার্মের যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।

ড্রোন লাইসেন্স ও সার্টিফিকেটের যথাযথ যাচাই করা দরকার। লিড ফার্মের প্রকৃত অভিজ্ঞতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা জরুরি। প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে টেকসই ও গ্রহণযোগ্য ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ ব্যবস্থা গড়া সম্ভব। অন্যথায় ভূমি ব্যবস্থাপনার ভিত্তি আবার বিতর্ক ও আস্থাহীনতার মুখে পড়তে পারে।