Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না : মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রয়েছে রাজনীতি। তাদের রক্ত রয়েছে গণতন্ত্র। কাজেই বাংলাদেশকে কোনো শক্তি বা পরাশক্তি বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈন খান এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ২০০৮ সালে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে এই নির্বাচনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন একটি শক্তি কাজ করেছিল, যারা বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়া বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি জনগণের প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী। তিনি যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, প্রতিটি আসনেই জয়ী হয়েছেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। জনগণের ভালোবাসায় তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি, সম্মুখসমরে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিলেন। সেই কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় কাজ করেছেন।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুরোধেই গৃহবধূ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। এরপর প্রায় চার দশক ধরে তিনি অন্যায়, স্বৈরাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। জেল-জুলুম, মামলা-হামলার মুখেও কখনো মাথা নত করেননি।’
ড. মঈন খান আরও বলেন, ‘১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও ইতিহাস প্রমাণ করেছে বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ভুয়া ভোট বা প্রশাসনিক সহায়তায় নয়, বরং জনগণের রায়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরবর্তীতে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।’
নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে মঈন খান বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। কার্জন হলে থাকার সময় বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর পাঠানো একজন ব্যক্তিই ভাঙা জিপে করে এসে তাঁকে নিয়ে যান। প্রায় ৪৫ বছর পর আজ প্রথমবারের মতো তিনি সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে বললেন।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, যা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল। গণতন্ত্র ও জনগণের প্রতি ভালোবাসার এই দৃষ্টান্তই বেগম খালেদা জিয়াকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস ও সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল ও মহাসচিব জামিল আহমেদ, গণদলের মহাসচিব সৈয়দ আবু সাঈদ, জাগপার মহাসচিব জাকির হোসেন রিয়াজ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব রেজওয়ান মোর্তজা, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আওলাদ হোসেন শিল্পী প্রমুখ। পরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারছেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান

কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না : মঈন খান

প্রকাশের সময় : ০৪:০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : 
কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রয়েছে রাজনীতি। তাদের রক্ত রয়েছে গণতন্ত্র। কাজেই বাংলাদেশকে কোনো শক্তি বা পরাশক্তি বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈন খান এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ২০০৮ সালে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে এই নির্বাচনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন একটি শক্তি কাজ করেছিল, যারা বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়া বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি জনগণের প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী। তিনি যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, প্রতিটি আসনেই জয়ী হয়েছেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। জনগণের ভালোবাসায় তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি, সম্মুখসমরে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিলেন। সেই কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় কাজ করেছেন।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুরোধেই গৃহবধূ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। এরপর প্রায় চার দশক ধরে তিনি অন্যায়, স্বৈরাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। জেল-জুলুম, মামলা-হামলার মুখেও কখনো মাথা নত করেননি।’
ড. মঈন খান আরও বলেন, ‘১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও ইতিহাস প্রমাণ করেছে বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ভুয়া ভোট বা প্রশাসনিক সহায়তায় নয়, বরং জনগণের রায়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরবর্তীতে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।’
নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে মঈন খান বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। কার্জন হলে থাকার সময় বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর পাঠানো একজন ব্যক্তিই ভাঙা জিপে করে এসে তাঁকে নিয়ে যান। প্রায় ৪৫ বছর পর আজ প্রথমবারের মতো তিনি সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে বললেন।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, যা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল। গণতন্ত্র ও জনগণের প্রতি ভালোবাসার এই দৃষ্টান্তই বেগম খালেদা জিয়াকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস ও সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল ও মহাসচিব জামিল আহমেদ, গণদলের মহাসচিব সৈয়দ আবু সাঈদ, জাগপার মহাসচিব জাকির হোসেন রিয়াজ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব রেজওয়ান মোর্তজা, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আওলাদ হোসেন শিল্পী প্রমুখ। পরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।