Dhaka শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া, যাত্রীদের উদ্ধার

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাইজ্যাক ও বোমা হামলাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণমাত্রার নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই মহড়া আয়োজন করা হয়।

প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং সক্ষমতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।

মহড়ার দৃশ্যপটে দেখানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় আটজন যাত্রী ও দুইজন কেবিন ক্রু নিয়ে একটি ফ্লাইট কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামি ফোনকল আসে। কলদাতা বিমানের ভেতরে বোমা থাকার হুমকি দেয় এবং যেকোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানায়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কন্ট্রোল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দরের পরিচালক ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে অবহিত করে। হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত ধরে নিয়ে ‘ফুল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয় এবং ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (ইওসি) সক্রিয় করা হয়। এরপর বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিক্যাল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবহিত করে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মহড়া শেষে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘এ ধরনের নিরাপত্তা মহড়া কেবল সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতেই নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করে। যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এসব মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের সময় সব সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান মহড়াটি আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান এবং সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর আসিফ ইকবাল। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টিমসহ একাধিক সংস্থা মহড়ায় অংশ নেয়।

প্রতি দুই বছর অন্তর হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয় বলে জানায় বেবিচক।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া, যাত্রীদের উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাইজ্যাক ও বোমা হামলাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণমাত্রার নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই মহড়া আয়োজন করা হয়।

প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং সক্ষমতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।

মহড়ার দৃশ্যপটে দেখানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় আটজন যাত্রী ও দুইজন কেবিন ক্রু নিয়ে একটি ফ্লাইট কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামি ফোনকল আসে। কলদাতা বিমানের ভেতরে বোমা থাকার হুমকি দেয় এবং যেকোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানায়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কন্ট্রোল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দরের পরিচালক ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে অবহিত করে। হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত ধরে নিয়ে ‘ফুল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয় এবং ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (ইওসি) সক্রিয় করা হয়। এরপর বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিক্যাল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবহিত করে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মহড়া শেষে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘এ ধরনের নিরাপত্তা মহড়া কেবল সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতেই নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করে। যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এসব মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের সময় সব সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান মহড়াটি আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান এবং সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর আসিফ ইকবাল। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টিমসহ একাধিক সংস্থা মহড়ায় অংশ নেয়।

প্রতি দুই বছর অন্তর হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয় বলে জানায় বেবিচক।