Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসি বাস-মিনিবাসে আলাদা ভাড়ার তালিকা হচ্ছে, দেখা যাবে ডিসপ্লেতে : সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস ও মিনিবাসের জন্য পৃথক ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং তা গণপরিবহনের ভেতরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রতিটি মহানগর, বিভাগ ও জেলায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ ও রুট পারমিট অনুমোদন করে থাকে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, একই আইনের আওতায় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে গণপরিবহনের ভাড়া ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্র্নিধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত ভাড়ার তালিকা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং তা যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা সহজেই ভাড়ার তথ্য জানতে পারবেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলে, বনানী ওভারপাস থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কটি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বলাকা ভবন, তৃতীয় টার্মিনাল ও কাওলা এলাকার সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে এই এলাকায় যানজট নিরসনে তিনটি প্রধান প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কাজগুলো হলো

মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন-১: ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য গৃহীত ৬টি মেট্রোরেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে এয়ারপোর্ট হতে কুড়িল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ কাজ চলমান। এই লাইনটি চালু হলে উত্তরার যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

বিআরটি প্রকল্প: এয়ারপোর্ট হতে গাজীপুর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। এর আওতায় বিদ্যমান সড়কটিকে আট লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া এয়ারপোর্ট, জসীমউদ্দীন ও গাজীপুর ইউ-টার্নসহ মোট আটটি ফ্লাইওভার এবং ৪.৫ কিমি উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিটে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

৩৪০টি এসি বাস সংগ্রহ: যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক করতে বিআরটিসি’র মাধ্যমে ৩৪০টি একতলা সিএনজি এসি বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরা, এয়ারপোর্ট ও খিলক্ষেত রুটে উন্নত বাস সার্ভিস চালু হবে, যা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-১৮ আসনের জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা হবে আধুনিক, সাশ্রয়ী ও সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত।

জামায়াতের এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও রুহুল আমিনের পৃথক পৃথক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এবছর ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ বাংলাদেশ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। ক্যারেজগুলো পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রেলওয়ের বর্তমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে বনলতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত করা গেলেও পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র ইঞ্জিন, কোচ ও জনবল সংকট রয়েছে।

এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল বা কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত ক্রু ও ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাক বা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে এই সংকটের বড় একটি অংশ সমাধান হবে বলে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, আমদানিতব্য ২০০টি ব্রডগেজ কোচ মূলত ভারত থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

রেলওয়ের এই বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সরকার বর্তমানে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করছে যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিমুক্ত রেলসেবা পেতে পারে।

সরকারদলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাব সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে দেশের সড়ক/মহাসড়কে চলাচলরত গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে সড়কে যত্রতত্র থামিয়ে ওঠানামা করা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া কোনো গণপরিবহন সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রেকর্ড সংরক্ষণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্রয় কার্যক্রমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জাড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ৮১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে ক্রয় কার্যক্রমে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন ও বিধির আলোকে কোনো ব্যক্তি বা ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী পেশাগত অসদাচরণে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা চলমান প্রক্রিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বর্তমানে চলমান।

 

আবহাওয়া

প্রধান বিমানবন্দরগুলোর ল্যান্ডিং-পার্কিং চার্জ ২৫ শতাংশ কমালো ভারত

এসি বাস-মিনিবাসে আলাদা ভাড়ার তালিকা হচ্ছে, দেখা যাবে ডিসপ্লেতে : সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস ও মিনিবাসের জন্য পৃথক ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং তা গণপরিবহনের ভেতরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রতিটি মহানগর, বিভাগ ও জেলায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ ও রুট পারমিট অনুমোদন করে থাকে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, একই আইনের আওতায় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে গণপরিবহনের ভাড়া ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্র্নিধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত ভাড়ার তালিকা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং তা যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা সহজেই ভাড়ার তথ্য জানতে পারবেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলে, বনানী ওভারপাস থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কটি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বলাকা ভবন, তৃতীয় টার্মিনাল ও কাওলা এলাকার সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে এই এলাকায় যানজট নিরসনে তিনটি প্রধান প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কাজগুলো হলো

মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন-১: ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য গৃহীত ৬টি মেট্রোরেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে এয়ারপোর্ট হতে কুড়িল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ কাজ চলমান। এই লাইনটি চালু হলে উত্তরার যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

বিআরটি প্রকল্প: এয়ারপোর্ট হতে গাজীপুর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। এর আওতায় বিদ্যমান সড়কটিকে আট লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া এয়ারপোর্ট, জসীমউদ্দীন ও গাজীপুর ইউ-টার্নসহ মোট আটটি ফ্লাইওভার এবং ৪.৫ কিমি উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিটে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

৩৪০টি এসি বাস সংগ্রহ: যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক করতে বিআরটিসি’র মাধ্যমে ৩৪০টি একতলা সিএনজি এসি বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরা, এয়ারপোর্ট ও খিলক্ষেত রুটে উন্নত বাস সার্ভিস চালু হবে, যা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-১৮ আসনের জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা হবে আধুনিক, সাশ্রয়ী ও সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত।

জামায়াতের এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও রুহুল আমিনের পৃথক পৃথক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এবছর ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ বাংলাদেশ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। ক্যারেজগুলো পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রেলওয়ের বর্তমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে বনলতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত করা গেলেও পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র ইঞ্জিন, কোচ ও জনবল সংকট রয়েছে।

এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল বা কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত ক্রু ও ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাক বা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে এই সংকটের বড় একটি অংশ সমাধান হবে বলে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, আমদানিতব্য ২০০টি ব্রডগেজ কোচ মূলত ভারত থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

রেলওয়ের এই বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সরকার বর্তমানে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করছে যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিমুক্ত রেলসেবা পেতে পারে।

সরকারদলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাব সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে দেশের সড়ক/মহাসড়কে চলাচলরত গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে সড়কে যত্রতত্র থামিয়ে ওঠানামা করা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া কোনো গণপরিবহন সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রেকর্ড সংরক্ষণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্রয় কার্যক্রমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জাড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ৮১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে ক্রয় কার্যক্রমে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন ও বিধির আলোকে কোনো ব্যক্তি বা ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী পেশাগত অসদাচরণে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা চলমান প্রক্রিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বর্তমানে চলমান।