নিজস্ব প্রতিবেদক :
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) অযাচিত দাম বৃদ্ধির কারসাজিতে অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এই দাম বাড়ার আশঙ্কাকে পুঁজি করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী আগেভাগেই সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন এবং বাজারে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘এলপিজির দামে এই ধরনের অস্বাভাবিকতা হওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে কারসাজির ফল।’
তিনি বলেন, বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজির দাম ৫৩ টাকা বৃদ্ধি করেছে। তারা আশা করছিলেন এলপিজির দাম বাড়বে। তো অনেকে এইটার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এরপরে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে আমরা বলেছি যে, প্রত্যেক জেলায় জেলায় এগুলো নিয়ে যেন মোবাইল কোর্ট করা হয়।
ফাওজুল কবির খান বলেন, গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তো আমরা আলাপ করছি। এলপিজির দামে যে অস্বাভাবিকতা, এটা একটা কারসাজির মাধ্যমে করা হয়েছে। সরকার এজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এবং পুলিশের মাধ্যমে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি জেলায় এলপিজির দাম তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করবে। সোমবারের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, হ্যাঁ, সাজা দেওয়া হয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই। এখানে তিন ভাগে কাজ হচ্ছে। একটা হচ্ছে যে জেলা প্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ইয়েতে। তারপর হচ্ছে যে পুলিশ। গতকাল আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমটির সভা এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিভিন্ন খবরের কাগজে আসছে তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় লোক পাঠাবো। এটা (গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম) যেন স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে এইজন্য আমরা সবকিছু করবো। মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। আগেই বিইআরসি থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর তথ্য দেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটা আমরা দেখবো, বিইআরসির (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) কেউ জড়িত কি না।
তিনি বলেন, সিলিন্ডার গ্যাসের যে ব্যবসা, এটার ৯৮ শতাংশ হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরে। আমাদের মাত্র ২ শতাংশ আমাদের, ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে কিছু প্রোপেন-বিউটেন হয়, সেগুলো দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার করা হয়।
প্রথমে জ্বালানি সচিব এবং বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি সচিব এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখানে প্রথম জিনিসটা হচ্ছে, এলপিজি গ্যাস তো আমদানি করে বটলিং করা হয়, সেই আমদানি গত মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি। সুতরাং, সেই দিক থেকে এই ধরনের কোনো ঘাটতি হওয়ার কথা না।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আজকে আমরা আমাদের টিমকে আমরা চট্টগ্রামে পাঠিয়েছি, আমরা ঢাকাতেও এটা করবো। তো আমরা আশা করছি যে একটা সাময়িক ইয়ে (গ্যাসের দাম বৃদ্ধি) হয়েছিল, এটা আস্তে আস্তে কমবে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, তবে আরেকটা জিনিস আছে এখানে, যেটা আপনাদের হয়তো জানা দরকার। সেটা হচ্ছে- কিছু জাহাজের ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা আছে। সেজন্য কিছু জাহাজীকরণের সমস্যা আছে। তো সেগুলো আমরা দেখতেছি, জাহাজীকরণের সমস্যাটা যেন না হয়। কিন্তু, বর্তমানে কিংবা এই মাসে এটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতের জন্য এই জাহাজীকরণের সমস্যাটা দেখার চেষ্টা করছি।
বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংকট চলছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফাওজুল কবির খান বলেন, আমাদের গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন আছে। আরেকটা হচ্ছে যে আমরা আমদানি করি, আমরা এলএনজি আমদানি করি। এর কোনোটাই কম না। কিন্তু আপনাদের এটা মনে রাখতে হবে যে, শীতকালে আমাদের গ্যাসের পাইপলাইনে সমস্যা, বিদেশে পাইপলাইনকেও হিট করে। কিন্তু আমাদের তো সেই ব্যবস্থা নেই। এটা আমাদের গ্যাস সরবরাহে সমস্যা। কোনো সাপ্লাইয়ের অভাবের জন্য না। আমরা যে পরিমাণ এলএনজি আনার কথা সেই পরিমাণ এলএনজি আনছি, আরও আরও বেশি আনছি।
এদিকে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, বিষয়টিকে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে। ডেকে নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া বলিষ্ঠ ও যথাযথ। এই সিদ্ধান্ত ভারতকেও ভাবাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের বক্তব্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, তিনিও বলেছেন—ভারতের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। আশা করি, ভারতের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং ভবিষ্যতে খেলা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















