নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সারচার্জের চাপে থাকা দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে। সরকার দেশের সাতটি বিমানবন্দরে বিভিন্ন খাতে আদায়কৃত বার্ষিক সারচার্জ ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪.২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক গ্যাজেটে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পক্ষে গ্যাজেটটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহান।
এর আগে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সারচার্জের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৮ শতাংশ, ওমানে ১০ শতাংশ এবং পাকিস্তানে মাত্র ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত নতুন বিধান অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলোকে বিল বকেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে না। তবে, ৩১ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ না হলে বিলের ওপর ১ শতাংশ, ৬১ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ১.২৫ শতাংশ এবং ১২০ দিন পার হলে পরবর্তী প্রতিটি ১২০ দিন বা তার অংশের জন্য ৬ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হবে। এর ফলে আগে যেখানে মাসে ৬ শতাংশ হিসেবে কার্যত বার্ষিক ৭২ শতাংশ সারচার্জ আদায় হতো, সেখানে নতুন নিয়মে বার্ষিক সর্বোচ্চ সারচার্জ নেমে এসেছে প্রায় ১৪.২৫ শতাংশে, যা এয়ারলাইন্সগুলোর দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
বেশ কয়েকটি দেশের সিভিল এভিয়েশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে এ সারচার্জ ৮ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১২ শতাংশ, ওমানে ১০ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রতিষ্ঠান ভেদে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, পাকিস্তানে আন্তঃব্যাংকিং এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর ২ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে বেবিচকের বকেয়ার ওপর মাসে ৬ শতাংশ হারে বছরে সারচার্জ দিতে হচ্ছিল ৭২ শতাংশ।
জানা যায়, ২০০০ সালে অপারেশন শুরু করে এয়ার বাংলাদেশ। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া এয়ার পারাবত, জিএমজি এয়ারলাইন্স, রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইন্স, বেস্ট এয়ার, মিড এশিয়া এয়ারলাইন্স, টিএইচটি এয়ার সার্ভিসেস, ভয়েজার এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ, জুম এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজও কারও সহযোগিতা না পেয়ে টিকে থাকতে পারেনি।
এয়ারলাইন্সের মালিকেরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধি— এ দুই কারণে এয়ারলাইন্স ব্যবসা বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এর ওপর মোটা অঙ্কের সারচার্জ আরও বেশি সংকট তৈরি করে। সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো অতিরিক্ত সারচার্জের ভারে পিষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু সারচার্জ কমানোর নতুন এ সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ডজনখানেক কমার্শিয়াল, কার্গো ও প্রাইভেট প্লেন ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান তাদের অপারেশন শুরু করেও একপর্যায়ে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই ছিল তারল্য সংকট। বাকিদের টেনে তুলতে তেমন কোনো উদ্যোগ ছিল না সরকার কিংবা বেবিচকের।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















