স্পোর্টস ডেস্ক :
লা লিগায় টানা হতাশার মধ্যে পড়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আলাভেসের মাঠে ম্যাচটি ছিল ‘জিততেই হবে’ সমীকরণের। হার কিংবা ড্র হলে চাকরি নিয়েই টানাটানি পারত কোচ জাবি আলোনসোর। সেই চাপের ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে ও রদ্রিগোর গোলেই জয় মিলেছে রিয়ালের। তাতে আপাতত স্বস্তিতে থাকলেন আলোনসো।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) মেন্ডিসোরোজা স্টেডিয়ামে আলাভেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এই জয়ে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে চার পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ নয় ম্যাচে এটি ছিল মাদ্রিদের মাত্র তৃতীয় জয়।
১৭ ম্যাচে ১২ জয় ও তিন ড্রয়ে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের আট ম্যাচের মাত্র দুটিতে জয়, সবশেষ দুই ম্যাচেই হার ঘরের মাঠে- আলোন্সোর ওপর চাপ তাই ক্রমেই বাড়ছিল। কোচের পদে নড়বড়ে হয়ে পড়ছিল তার অবস্থান। ভীষণ কঠিন সময়ে এই জয় বড় স্বস্তি হয়ে এলো তার জন্যও।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-১ গোলে হারা ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনে আলাভেস ম্যাচের একাদশ সাজান আলোন্সো। চোট ও নিষেধাজ্ঞায় বেশিরভাগ ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতিতে অভিষেক হয় একাডেমির ১৯ বছর বয়সী ফুল-ব্যাক ভাল্দেপেনাসের। মূল দলের ফুল-ব্যাকদের সবাই আছেন বাইরে।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরুতে জমে ওঠে লড়াই। বেশ কয়েকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শটের পর, ২৪তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শটে গোলের দেখা পায় রিয়াল। মাঝমাঠ থেকে জুড বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল ধরে, প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে বক্সে ঢুকে গোলটি করেন এমবাপে। এবারের লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল হলো ১৭টি, ১৭ ম্যাচে। এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২ ম্যাচে তার গোল হলো ২৬টি। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সব মিলিয়ে ৭০ গোলে পৌঁছে গেলেন বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় জাল অক্ষত রাখে রেয়াল। কাছ থেকে পাবলো ইবানেসের প্রচেষ্টা বেলজিয়ান গোলরক্ষকের মুখে লেগে ব্যর্থ হয়।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য পাঁচটি শট নিয়ে শুধু একটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে রেয়াল। এই সময়ে আলাভেসের দুই শটের একটি লক্ষ্যে ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এমবাপে ও ভিনিসিউস জুনিয়রের শট ঠেকিয়ে রিয়ালের ব্যবধান বাড়তে দেননি আলাভেস গোলরক্ষক আন্তোনিও সিভেরা। ৬৭তম মিনিটে বদলি নামার পরের মিনিটেই দারুণ ফিনিশিংয়ে রিয়ালের জালে বল পাঠিয়ে আলাভেসকে সমতায় ফেরান কার্লোস ভিনসেন্তে। লাইন্সম্যান প্রথমে অফসাইডের পতাকা তুললেও, ভিএআরে পাল্টায় সিদ্ধান্ত। এরপর ম্যাচে চাপ বাড়তে থাকে রিয়ালের ওপর।
তবে ৭৬তম মিনিটে ভিনিসিউসের পাসে ছুটে গিয়ে কাছ থেকে স্লাইডে বল জালে পাঠিয়ে আবার রিয়ালকে এগিয়ে নেন রদ্রিগো। জনিকে টপকে আসা নিচু ক্রস থেকে গোল করে নিজের লিগ গোলখরা কাটান তিনি। পরে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৮৬তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলেও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি রেফারি। ভিএআর রিভিউতেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
লা লিগায় ১১ মাসের মধ্যে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। রেয়ালের হয়ে তারও গোল হলো ৭০টি। সিটির বিপক্ষে দলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন তিনিই।
গোলের পর ডাগআউটে আলোন্সোর বাঁধভাঙা উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, তার জন্য কতটা স্বস্তির এই গোল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে রোববার খবর ছড়িয়ে পড়ে, এই ম্যাচে জিততে ব্যর্থ হলে বরখাস্ত করা হবে কোচকে।
আলোন্সোর কোচিংয়ে এই প্রথম কোনো ম্যাচে এমবাপে, ভিনিসিউস, রদ্রিগো ও বেলিংহ্যাম একসঙ্গে শুরুর একাদশে নামলেন এবং প্রত্যেকেই গোল অথবা অ্যাসিস্ট করলেন।
নিজেদের পরের ম্যাচে আগামী বুধবার কোপা দেল রের শেষ বত্রিশে, তৃতীয় স্তরের দল আর সিএফ তালাভেরার মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ।
স্পোর্টস ডেস্ক 

























