Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবার দুদকের মামলায় গ্রেফতার জিয়াউল আহসান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এবার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার দেখিয়ে সকাল ১২টা ১০ মিনিটে তার আইনজীবীদের সঙ্গে আদালত কথা বলার অনুমতি দেন। পরে জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা মহানগর হাজতখানায় তার সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার ও উপস্থিত ছিলেন। এদিন তার পক্ষে ওকালতনামা দাখিল করা হলেও জামিন আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার আছেন।

গত ২৩ জানুয়ারি ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকেও আসামি করা হয়।

বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা জিয়াউল আহসানকে গত ২১ ডিসেম্বর দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন বুধবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়াও গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন।

এছাড়া নিজ নামে ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন জিয়াউল আহসান। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই কাজে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারছেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান

এবার দুদকের মামলায় গ্রেফতার জিয়াউল আহসান

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এবার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার দেখিয়ে সকাল ১২টা ১০ মিনিটে তার আইনজীবীদের সঙ্গে আদালত কথা বলার অনুমতি দেন। পরে জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা মহানগর হাজতখানায় তার সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার ও উপস্থিত ছিলেন। এদিন তার পক্ষে ওকালতনামা দাখিল করা হলেও জামিন আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার আছেন।

গত ২৩ জানুয়ারি ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকেও আসামি করা হয়।

বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা জিয়াউল আহসানকে গত ২১ ডিসেম্বর দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন বুধবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়াও গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন।

এছাড়া নিজ নামে ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন জিয়াউল আহসান। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই কাজে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।