স্পোর্টস ডেস্ক :
ইনজুরির কারণে মূল দলের অনেক খেলোয়াড়কে ছিটকে যেতে হয়। এতোটা চাপ নিয়ে যে পরিকল্পনা সাজাতে হবে, সেটা হয়তো আশা করেননি নতুন কোচ দরিভাল। তবু ব্রাজিলের ডাগআউটে নিজের অভিষেকটা বেশ ভালোভাবেই রাঙালেন তিনি। ওয়েম্বলিতে ফিফা প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। চার ম্যাচ পর সেলেসাওদের জয়ের উপলক্ষ্য এনে দেন এন্দ্রিক। এই বিস্ময় বালকের গোলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ইংল্যান্ড।
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতিহাসের কমতি নেই। এবার সেখানে নতুন এক ইতিহাস গড়ে এলেন এন্দ্রিক। মাত্র ১৭ বছর ২৪৬ দিনে গোল করে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এই স্টেডিয়ামের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা বনে গেলেন এই ফরোয়ার্ড। শুধু তা-ই নয়, ব্রাজিলের ইতিহাসেই তিনি চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। ১৬ বছর ২৫৭ দিন বয়সে করা পেলের রেকর্ড এখনো অক্ষুণ্ন আছে। তার ও এন্দ্রিকের মাঝখানে আছেন এদু (১৬ বছর ৩০৬ দিন) ও রোনালদো (১৭ বছর ২২৮)।
গেল বছরের শেষ চার ম্যাচেই জয়শূন্য। যার মধ্যে হেরেছিল শেষ তিন ম্যাচে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ড্রয়ের পর হারে সবশেষ তিন ম্যাচে; উরুগুয়ে, কলম্বিয়া ও ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ছয় মাস পর অবশেষে এবার জয়ের স্বাদ পেল রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চোটজর্জরিত ব্রাজিল একাদশ সাজাতেই হিমশিম খেয়ে যায়। তবে ভিনিসিয়াস, রদ্রিগো আর রাফিনহাদের নিয়ে সাজানো আক্রমণভাগ শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকে। চোটগ্রস্ত ব্রাজিল দলে এদিন অভিষেক হয় পাঁচ জনের।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের ৯ মিনিটেই গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন রদ্রিগো, তবে তাঁর নেয়া শট রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক। এরপর ১২ মিনিটে আবারও ব্রাজিলের হানা। লুকাস পাকেতার উঁচু করে বাড়ানো থ্রু বল ধরে গতিতে সবাইকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, সামনে তখন একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। তবে এমন দুর্বল শট তিনি নিলেন যে, গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বল গোললাইন পর্যন্ত পৌঁছাল না, অনায়াসে ঠেকিয়ে দিলেন কাইল ওয়াকার। এমন সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারিয়ে মাথায় হাত উঠে যায় রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের।
পরের চার মিনিটে আরও দুটি ভালো আক্রমণ শাণায় ব্রাজিল, কিন্তু কোনোটিতেই সাফল্যের দেখা মেলেনি। ১৮তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ইংল্যান্ড, কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ওলি ওয়াটকিন্স। ২০তম মিনিটে বড় একটি ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। পায়ে অস্বস্তি বোধ করা অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ রাইট-ব্যাক ওয়াকারকে তুলে নেন কোচ।
৩৫তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে ডি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া পাকেতার শট পোস্টে লেগে গোল বঞ্চিত করে ব্রাজিলকে। অন্যদিকে প্রথম ৪০ মিনিটে তাকে তেমন কোনো পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়নি ব্রাজিলকে। ইংল্যান্ড যে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারছিল না।
বিরতির পর ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তাতে ইংল্যান্ড চাপ বাড়ালেও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারছিল না তারাও। ৬৩তম মিনিটে বরং সফরকারীরা এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু পাকেতার প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে রদ্রিগোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় তরুণ এন্ড্রিককে। মাঠে নামার ৯ মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে নেন এই ফরোয়ার্ড। ডান দিক থেকে আসা লং বল ধরে ইংলিশ রক্ষণকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে থাকেন ভিনিসিয়াস। এগিয়ে আসা জর্ডান পিকফোর্ডকে চিপ করে পরাস্ত করতে চেয়েছিলেন। তবে পিকফোর্ড তা রুখে দিলে বল চলে যায় পাশে থাকা এনদ্রিকের কাছে। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন নতুন দিনের বিষ্ময়বালক এন্ড্রিক।
সেলেসাওদের হয়ে তৃতীয় ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পেলেন এন্ড্রিক। ১৮ বছর পূর্ণ হলে পালমাইরাস থেকে আগামী গ্রীষ্মে রিয়ালে যোগ দেবেন তিনি।
পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড আরেকটু তেতে উঠবে কী, উল্টো তারা যেন বিবর্ণ হয়ে পড়ে। বাকি সময়ে তারা বেন্তোকে একবারের জন্যও পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। একেবারে শেষ সময়ে এন্ড্রিক দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতেও পারতেন। তবে তার শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বড় হতে দেননি পিকফোর্ড।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯০+৪) ইংল্যান্ড গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে ডেকলান রাইসের নেওয়া শট রুখে দেয় ব্রাজিল। রুখে দেয় ইংল্যান্ডের সমতা ফেরানোর সুযোগও। ভবিষ্যত তারকার গোলে নিশ্চিত করে ১-০ ব্যবধানের দারুণ জয়।