নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু লোক মা-বোনদের বায়বীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায়, শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডির কলা বাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কিছু ব্যক্তি নকল সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে এবং তারা সরল মা-বোনদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, ন্যাশনাল আইডি (এনআইডি) ও বিকাশ নম্বর নিয়ে সরল মা ও বোনদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এনআইডি ও বিকাশ নাম্বার নিয়ে সরল মা বোনদের বিভ্রান্ত করছে একটি দলের লোকজন নকল সিল বানাতে গিয়ে ধরা পরেছে এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ভোটের অধিকার আবার হারিয়ে যাবে।
এ সময় নারীদের নিয়ে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের নারীদের স্বাবলম্বী করতে পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃষকদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা মা বোনদের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি তাদের মতো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেয় না বিএনপির প্রতিশ্রুতি সুপরিকল্পিত।
এমুহূর্তে বিএনপি একমাত্র দল যাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ৭১ ও ২৪ এর শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। যে দলের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে ১২ তারিখে এমন দলকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন সম্পর্কে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কিন্তু একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকার পাতায় আমরা সেই খবর দেখেছি। বিভিন্নভাবে তাদের লোকজন মানুষকে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা-বোনদেরকে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বায়বীয়।’
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি একটি মহল ও তাদের নেতাকর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে। বিএনপি জনগণের সামনে সেই প্রতিশ্রুতি করতে চায় যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সবাই সতর্ক থাকলে বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে এই নির্বাচনী জনসভায় আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে যে, যেকোনো মূল্যে আমরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করব। আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।’

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশ গঠনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন সেই নির্বাচন, যেই নির্বাচনের জন্য বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছে। এই নির্বাচনে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকারের নির্বাচন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর নির্বাচনের নামে আমরা তামাশা দেখেছি, আপনারা কেউ সেই নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পেরেছেন? বাংলাদেশে কেউ ভোট দিতে সক্ষম হয়নি। আজ সেই নির্বাচনের সময় এসেছে, যে নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক অধিকার না, এই নির্বাচন হতে হবে দেশ গঠনের নির্বাচন। এই নির্বাচন হতে হবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যদি আমরা অন্যের বিরুদ্ধে শুধু বলে যাই তাতে কী জনগণ বা দেশের কোনো লাভ হবে? জনগণের লাভ হবে না। জনগণ বা দেশের কি লাভ হবে? যখন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো পরিকল্পনা থাকবে, কর্মসূচি থাকবে, একটি রাজনীতির দলের এবং সে যখন সেই কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং জনগণ সেটি বিবেচনা করে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে তারপরে যখন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তখনই জনগণের লাভ হবে। তাইতো নাকি?
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল আছে তার মধ্যে আপনারা চিন্তা করে দেখুন, বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র এই মুহূর্তে বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র দল, তারাই কিন্তু বাংলাদেশের নারীদের কীভাবে সফল করে গড়ে তুলতে চায়, কীভাবে তাদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চায়। সেই কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা আছে শুধুমাত্র বিএনপির কাছেই আছে। বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা আছে এই দেশের তরুণদেরকে এই দেশের যুবকদেরকে যারা বিশেষ করে বেকার আছে বা কর্মসংস্থান অভাব আছে তাদেরকে কীভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষে পরিণত করে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারবে।

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ উল্লেখ করে তার রহমান বলেন, আমাদের কোটি কোটি মানুষ কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত নারী পুরুষ সবাই। এখানে আপনারা যারা আজ উপস্থিত আছেন। আপনাদের অনেকের পরিবার পরিজন আত্মীয়-স্বজন গ্রামে বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই নয় কি? আপনারা হয়তো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনেকভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি এই মুহূর্তে বিএনপির একমাত্র পরিকল্পনা আছে কীভাবে কৃষকদেরকে কৃষি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াবে। ঠিক যেভাবে আমরা বাংলাদেশের সব মায়েদের পাশে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দাঁড়াবো
আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করব জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের সব জায়গায় মানুষকে তারা চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেবে। এর মাধ্যমে এক লাখ মানুষের যখন কর্মসংস্থান হবে। ঠিক একইভাবে এরা মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবাও পৌঁছে দেবে। বিএনপির পরিকল্পনা আছে এই দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যারা বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম, ফকির সাহেব যারা বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু যারা আছেন, তারা মানবতার জীবনযাপন করেন। এই মানুষগুলোর ব্যাপারেও আমরা চিন্তাভাবনা করেছি যে তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি সম্মানের ব্যবস্থা করব যাতে করে তারা একটি সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে বহু মেগা প্রজেক্ট হয়েছে এবং মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন হয়নি। আমাদের গ্রামগঞ্জসহ সব জায়গায় হাসপাতালগুলোতে গেলে ওষুধ পাওয়া যায় না। ডাক্তার পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজগুলো ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। এরকম আরো অনেক সমস্যা আছে। আসুন আমাদেরকে এখন এই পরিবর্তন করতে হবে। পৃথিবীর বহু দেশ ছিল। যেই দেশগুলোর অবস্থা বাংলাদেশ থেকে খারাপ ছিল। কিন্তু তারা পরিশ্রম করেছে। পরিশ্রম করার মাধ্যমে তারা তাদের দেশের অবস্থা মানুষের ভাগ্যের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশও পারবে, বাংলাদেশের মানুষও পারবে, দেশকে পুনর্গঠন করতে।

নির্বাচন সম্পর্কে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির প্রধান বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিন্তু একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, পত্রিকার পাতায় আমি সেই খবর দেখেছি। বিভিন্নভাবে তাদের লোকজন বিভিন্ন মানুষটিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা বোনদেরকে নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যে প্রতিশ্রুতিটা বায়বীয় প্রতিশ্রুতি। আমরা বিএনপি জনগণের সামনে সেই প্রতিশ্রুতি করতে চাই যে প্রতিশ্রুতি মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি করতে চাই না, যা মানুষের স্বার্থের বাইরে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি একটি মহল তাদের নেতাকর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে। কাজেই আজকে ঢাকাসহ সব গণতন্ত্রী মানুষকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে।
ঢাকা-১০ আসনের জনগণের সঙ্গে কিন্তু আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই আসনে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থী করেছি রবিকে। রবি তার বক্তব্যে একটু আগে এলাকার অনেক সমস্যার বিষয়ে তুলে ধরেছে। একটু আগে আপনাদের সবার সামনে বলেছে কীভাবে রবি নির্বাচিত হলে এই এলাকার সমস্যার সমাধান করবে, মানুষের সমস্যার সমাধান করবে। ইনশাল্লাহ, রবির সঙ্গে আজকে আমিও আপনাদেরকে বলে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ এই ঢাকা থেকে ধানশীষ নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে রবি এলাকার মানুষের সামনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমিও কাজ করব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















