Dhaka শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উচ্চ খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে : গভর্নর

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮০ জন দেখেছেন

 

দেশে ব্যাংক খাতে জমে থাকা খেলাপি ঋণের চাপ এতটাই গভীর যে এ অবস্থা থেকে পুরোপুরি উত্তরণে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি। দীর্ঘদিনের এ সংকট আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে চাপে ফেলে দিয়েছে।

গভর্নর বলেন, এটি কোনও ছোট সমস্যা নয়। প্রতি প্রান্তিকে নতুন তথ্য আসার পর দেখা যাচ্ছে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ছে। দুই বছর আগে আমার ধারণা ছিল খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশের মতো হবে। সরকার তখন বলেছিল তা ৮ শতাংশ। এখন দেখা যাচ্ছে হার ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান হবে না। ধাপে ধাপে আগাতে হবে। সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে।

রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশে এখন ডলার সংকট নেই; ব্যবসায়ীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যত খুশি আমদানি করতে পারবেন।

গভর্নর বলেন, ‘রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে কোনো শঙ্কা নেই। প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। অতীতে অর্থপাচারের কারণে আমদানির হিসাব উলটো দেখানো হতো, এখন প্রকৃত তথ্য দৃশ্যমান।’

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলার বিনিময়হার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে এবং এতে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলেছে। ব্যাংকিং খাতে এখন আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই। যার সমস্যা, সেটা তার নিজের।

দেশের ব্যাংকিং খাতের দুরাবস্থা প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ঋণখেলাপি হার ২০ শতাংশ হবে; কিন্তু এখন তা অকল্পনীয়ভাবে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ধাপে ধাপে সব সমস্যা সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট, স্টক মার্কেট ও ইন্স্যুরেন্স খাতের দুর্বলতা ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই আস্থাহীনতা থেকে বের হয়ে আসার ওপর তিনি জোর দেন।

গভর্নর বলেন, বাজার স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। ডিপোজিট হার ৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংক থেকে সরকারের আমানত উত্তোলন কমলে ডিপোজিট আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতে সংকট তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

এরইমধ্যে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত অবসায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম নিয়ে গভর্নর বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

উচ্চ খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে : গভর্নর

প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

দেশে ব্যাংক খাতে জমে থাকা খেলাপি ঋণের চাপ এতটাই গভীর যে এ অবস্থা থেকে পুরোপুরি উত্তরণে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি। দীর্ঘদিনের এ সংকট আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে চাপে ফেলে দিয়েছে।

গভর্নর বলেন, এটি কোনও ছোট সমস্যা নয়। প্রতি প্রান্তিকে নতুন তথ্য আসার পর দেখা যাচ্ছে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ছে। দুই বছর আগে আমার ধারণা ছিল খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশের মতো হবে। সরকার তখন বলেছিল তা ৮ শতাংশ। এখন দেখা যাচ্ছে হার ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান হবে না। ধাপে ধাপে আগাতে হবে। সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে।

রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশে এখন ডলার সংকট নেই; ব্যবসায়ীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যত খুশি আমদানি করতে পারবেন।

গভর্নর বলেন, ‘রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে কোনো শঙ্কা নেই। প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। অতীতে অর্থপাচারের কারণে আমদানির হিসাব উলটো দেখানো হতো, এখন প্রকৃত তথ্য দৃশ্যমান।’

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলার বিনিময়হার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে এবং এতে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলেছে। ব্যাংকিং খাতে এখন আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই। যার সমস্যা, সেটা তার নিজের।

দেশের ব্যাংকিং খাতের দুরাবস্থা প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ঋণখেলাপি হার ২০ শতাংশ হবে; কিন্তু এখন তা অকল্পনীয়ভাবে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ধাপে ধাপে সব সমস্যা সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট, স্টক মার্কেট ও ইন্স্যুরেন্স খাতের দুর্বলতা ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই আস্থাহীনতা থেকে বের হয়ে আসার ওপর তিনি জোর দেন।

গভর্নর বলেন, বাজার স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। ডিপোজিট হার ৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংক থেকে সরকারের আমানত উত্তোলন কমলে ডিপোজিট আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতে সংকট তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

এরইমধ্যে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত অবসায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম নিয়ে গভর্নর বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে।’