Dhaka মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ।চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে পালিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় ভিড়। তবে এদিন সকাল থেকেই যাত্রীদের চরম ভিড়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ-ঈদের ‘আসল ভিড়’ যেন দেখা দিয়েছে এখানেই।

ভোর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ঈদ সামনে রেখে ঢাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩১ হাজারের বেশি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেক যাত্রী টিকিট নিয়েও নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি।

অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ঝুঁকি নিয়েই অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে করে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। এছাড়া গেট ধরে ঝুলে ঝুলে যাত্রা করতেও দেখা যায় অনেককে। যাত্রীদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে স্টেশন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত যাত্রীরা।

সরেজমিন স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত যাত্রীদের ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। কোথাও তেমন বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত চাপ নেই। অনেক ট্রেন দেরিতে ছাড়লেও যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গেই ট্রেনে উঠছেন। স্টেশনের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।

স্টেশনের ট্রেন ট্র্যাকিং সহায়তা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে না পারায় সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে বনলতা এক্সপ্রেস ৩২ মিনিট, প্রবাল এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিট, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা, বিজয় এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, রুপসা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২৪ মিনিট, রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট, চিত্রা এক্সপ্রেস ২২ মিনিট, মহানগর প্রভাতী ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট এবং লালমনি এক্সপ্রেস ১৮ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। এছাড়া রাজশাহী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ১৭ মিনিট বিলম্বে ছাড়ে। তবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও সুবর্ণা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ছেড়েছে।

নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসও অন্তত ১ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস অন্তত সাড়ে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে বলে জানা গেছে।

স্টেশনে অপেক্ষারত উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ আমরা পাঁচজন বাড়ি যাচ্ছি। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও এখনো ছাড়েনি। কর্তৃপক্ষ বলছে অন্তত ১ ঘণ্টা দেরি হবে।’

একই ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসেছেন, তবে ট্রেনটি প্রায় ১ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট সরকার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুরু থেকেই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’

তিনি জানান, ঢাকা স্টেশন এলাকায় মোট ২৭টি পয়েন্টে এক্সেস কন্ট্রোল করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ স্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছু প্রতারণা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, এবারের ঈদযাত্রায় শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। এতে টিকিটের কালোবাজারি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার শতভাগ অনলাইনে টিকিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ১০০টি আসনের বিপরীতে ২৫ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন। বিভিন্ন রুটের ট্রেন মাঝপথে কয়েকটি স্টেশনে থামে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে কখনো কখনো দেরি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করছি ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছাড়তে এবং যাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা দিতে।’

এদিকে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরেছে চিরচেনা সেই ব্যস্ততা, আর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ধোলাইপাড় বাস টার্মিনালেও যেন জমে উঠেছে ঘরে ফেরার অপেক্ষা।

কেউ পরিবারের হাত ধরে, কেউ ব্যাগভর্তি স্বপ্ন নিয়ে ছুটছেন বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের পথে। মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখেমুখে এক ধরনের আনন্দ, বাড়ি ফেরার আনন্দ। ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই রওনা হয়েছেন।

যাত্রী বাড়ায় বরিশাল রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ডেক ও কেবিনভাড়া প্রায় আগের মতো থাকলেও কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবুও প্রিয়জনের কাছে ফিরতে এসব যেন তেমন বড় বাধা নয়।

অন্যদিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ভিড় বাড়ছে।

কেউ আগেই টিকিট কেটে নিশ্চিন্ত, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ছুটছেন কাউন্টারে। ভাড়া কিছুটা বেশি হলেও বাড়ি ফেরার তাড়নায় সেটাও মেনে নিচ্ছেন যাত্রীরা। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদের সময় বাস খালি নিয়েই ফিরতে হয়, সঙ্গে জ্বালানিসংকট— সব মিলিয়েই ভাড়া কমানো কঠিন।

গাবতলীতে দুপুরে ভিড় কম থাকলেও বিকেলের পর থেকে চাপ বাড়ার আভাস মিলছে। ইতিমধ্যে ১৭ থেকে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট প্রায় শেষ।

বাড়তি যাত্রী সামলাতে বিশেষ বাসও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সায়েদাবাদ ও ধোলাইপাড়েও একই চিত্র—কাউন্টারের সামনে ভিড়, অপেক্ষা, আর একরাশ উৎকণ্ঠা। কেউ টিকিট না পেয়ে বিকল্প রুট বেছে নিচ্ছেন, তবু বাড়ি ফেরার ইচ্ছায় কেউ থেমে নেই।

যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানি ঠেকাতে চলছে নজরদারি।

এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও বাড়ছে যানবাহনের চাপ। তবে এখনো চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ধ্যা আর ভোরের দিকে চাপ আরো বাড়তে পারে।

ঈদ সামনে রেখে আগামী কয়েকদিন রাজধানী ছাড়তে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গার্মেন্টসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার পর মানুষের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু

প্রকাশের সময় : ১১:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ।চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে পালিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় ভিড়। তবে এদিন সকাল থেকেই যাত্রীদের চরম ভিড়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ-ঈদের ‘আসল ভিড়’ যেন দেখা দিয়েছে এখানেই।

ভোর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ঈদ সামনে রেখে ঢাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩১ হাজারের বেশি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেক যাত্রী টিকিট নিয়েও নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি।

অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ঝুঁকি নিয়েই অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে করে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। এছাড়া গেট ধরে ঝুলে ঝুলে যাত্রা করতেও দেখা যায় অনেককে। যাত্রীদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে স্টেশন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত যাত্রীরা।

সরেজমিন স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত যাত্রীদের ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। কোথাও তেমন বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত চাপ নেই। অনেক ট্রেন দেরিতে ছাড়লেও যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গেই ট্রেনে উঠছেন। স্টেশনের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।

স্টেশনের ট্রেন ট্র্যাকিং সহায়তা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে না পারায় সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে বনলতা এক্সপ্রেস ৩২ মিনিট, প্রবাল এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিট, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা, বিজয় এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, রুপসা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২৪ মিনিট, রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট, চিত্রা এক্সপ্রেস ২২ মিনিট, মহানগর প্রভাতী ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট এবং লালমনি এক্সপ্রেস ১৮ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। এছাড়া রাজশাহী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ১৭ মিনিট বিলম্বে ছাড়ে। তবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও সুবর্ণা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ছেড়েছে।

নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসও অন্তত ১ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস অন্তত সাড়ে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে বলে জানা গেছে।

স্টেশনে অপেক্ষারত উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ আমরা পাঁচজন বাড়ি যাচ্ছি। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও এখনো ছাড়েনি। কর্তৃপক্ষ বলছে অন্তত ১ ঘণ্টা দেরি হবে।’

একই ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসেছেন, তবে ট্রেনটি প্রায় ১ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট সরকার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুরু থেকেই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’

তিনি জানান, ঢাকা স্টেশন এলাকায় মোট ২৭টি পয়েন্টে এক্সেস কন্ট্রোল করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ স্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছু প্রতারণা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, এবারের ঈদযাত্রায় শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। এতে টিকিটের কালোবাজারি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার শতভাগ অনলাইনে টিকিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ১০০টি আসনের বিপরীতে ২৫ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন। বিভিন্ন রুটের ট্রেন মাঝপথে কয়েকটি স্টেশনে থামে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে কখনো কখনো দেরি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করছি ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছাড়তে এবং যাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা দিতে।’

এদিকে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরেছে চিরচেনা সেই ব্যস্ততা, আর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ধোলাইপাড় বাস টার্মিনালেও যেন জমে উঠেছে ঘরে ফেরার অপেক্ষা।

কেউ পরিবারের হাত ধরে, কেউ ব্যাগভর্তি স্বপ্ন নিয়ে ছুটছেন বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের পথে। মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখেমুখে এক ধরনের আনন্দ, বাড়ি ফেরার আনন্দ। ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই রওনা হয়েছেন।

যাত্রী বাড়ায় বরিশাল রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ডেক ও কেবিনভাড়া প্রায় আগের মতো থাকলেও কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবুও প্রিয়জনের কাছে ফিরতে এসব যেন তেমন বড় বাধা নয়।

অন্যদিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ভিড় বাড়ছে।

কেউ আগেই টিকিট কেটে নিশ্চিন্ত, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ছুটছেন কাউন্টারে। ভাড়া কিছুটা বেশি হলেও বাড়ি ফেরার তাড়নায় সেটাও মেনে নিচ্ছেন যাত্রীরা। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদের সময় বাস খালি নিয়েই ফিরতে হয়, সঙ্গে জ্বালানিসংকট— সব মিলিয়েই ভাড়া কমানো কঠিন।

গাবতলীতে দুপুরে ভিড় কম থাকলেও বিকেলের পর থেকে চাপ বাড়ার আভাস মিলছে। ইতিমধ্যে ১৭ থেকে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট প্রায় শেষ।

বাড়তি যাত্রী সামলাতে বিশেষ বাসও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সায়েদাবাদ ও ধোলাইপাড়েও একই চিত্র—কাউন্টারের সামনে ভিড়, অপেক্ষা, আর একরাশ উৎকণ্ঠা। কেউ টিকিট না পেয়ে বিকল্প রুট বেছে নিচ্ছেন, তবু বাড়ি ফেরার ইচ্ছায় কেউ থেমে নেই।

যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানি ঠেকাতে চলছে নজরদারি।

এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও বাড়ছে যানবাহনের চাপ। তবে এখনো চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ধ্যা আর ভোরের দিকে চাপ আরো বাড়তে পারে।

ঈদ সামনে রেখে আগামী কয়েকদিন রাজধানী ছাড়তে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গার্মেন্টসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার পর মানুষের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।