Dhaka শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রা ব্যাহতের শঙ্কা, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের দাবি লঞ্চ মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নৌপথে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে লঞ্চে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ না করা হলে ঈদে নৌপথে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো সম্পূর্ণভাবে ডিজেলচালিত। বর্তমানে ঢাকা নদীবন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৪০টির মতো হয়। এসব লঞ্চ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল রুটের একটি লঞ্চে গড়ে প্রায় ৭ হাজার লিটার, পটুয়াখালী রুটে প্রায় ৬ হাজার লিটার এবং বেতুয়া রুটে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এ হিসেবে শুধু ঢাকা নদীবন্দর থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোর জন্যই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা নদীবন্দর থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোতে কয়েকটি কোম্পানি তাদের মিনি ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, এসব কোম্পানি ডিপো—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে পর্যাপ্ত তেল পায় না। ডিপোগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদরঘাটে লঞ্চ পরিচালনার জন্য তাদের নির্দিষ্ট কোনো কোটা নেই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার দাবি, ডিপোগুলোতে এক লাখ লিটার তেলের চাহিদা জানানো হলেও অনেক সময় সেখানে মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হয়। এতে লঞ্চ পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ ও ১৬ মার্চ ব্যাংক খোলা থাকবে। এই দু’দিনের মধ্যে যদি সদরঘাটের জন্য ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না করা হয়, তাহলে ঈদ উপলক্ষে নৌপথে সব যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে না।

বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কমেছে এবং অনেক লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে যে লঞ্চগুলো চালু রয়েছে, ঈদের সময় সেগুলোতে ডাবল ট্রিপ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয়। ফলে দ্রুত গন্তব্যে যাত্রী নামিয়ে আবার নতুন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে হয়। এ কারণে লঞ্চে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা নদীবন্দর থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোর জন্য ডিপোগুলো থেকে পর্যাপ্ত ও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদযাত্রা ব্যাহতের শঙ্কা, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের দাবি লঞ্চ মালিকদের

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নৌপথে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে লঞ্চে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ না করা হলে ঈদে নৌপথে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো সম্পূর্ণভাবে ডিজেলচালিত। বর্তমানে ঢাকা নদীবন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৪০টির মতো হয়। এসব লঞ্চ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল রুটের একটি লঞ্চে গড়ে প্রায় ৭ হাজার লিটার, পটুয়াখালী রুটে প্রায় ৬ হাজার লিটার এবং বেতুয়া রুটে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এ হিসেবে শুধু ঢাকা নদীবন্দর থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোর জন্যই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা নদীবন্দর থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোতে কয়েকটি কোম্পানি তাদের মিনি ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, এসব কোম্পানি ডিপো—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে পর্যাপ্ত তেল পায় না। ডিপোগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদরঘাটে লঞ্চ পরিচালনার জন্য তাদের নির্দিষ্ট কোনো কোটা নেই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার দাবি, ডিপোগুলোতে এক লাখ লিটার তেলের চাহিদা জানানো হলেও অনেক সময় সেখানে মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হয়। এতে লঞ্চ পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ ও ১৬ মার্চ ব্যাংক খোলা থাকবে। এই দু’দিনের মধ্যে যদি সদরঘাটের জন্য ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না করা হয়, তাহলে ঈদ উপলক্ষে নৌপথে সব যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে না।

বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কমেছে এবং অনেক লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে যে লঞ্চগুলো চালু রয়েছে, ঈদের সময় সেগুলোতে ডাবল ট্রিপ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয়। ফলে দ্রুত গন্তব্যে যাত্রী নামিয়ে আবার নতুন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে হয়। এ কারণে লঞ্চে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা নদীবন্দর থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোর জন্য ডিপোগুলো থেকে পর্যাপ্ত ও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।