Dhaka রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এ ঘটনায় দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

রোববার (১ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস এজেন্সি।

এক প্রতিবেদনে সংবাদ সংস্থা ফারস এজেন্সি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘ইরানি জনগণের উদ্দেশে ঘোষণা করা হচ্ছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসকের চালানো যৌথ হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন।’

​দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এ হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন।

এর আগে খামেনি নিহত হওয়ার খবর জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইতিহাসের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন খামেনি মারা গেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ রোববার (১ মার্চ) থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ​পাশাপাশি সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে।

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, “ইরানি জনগণের কাছে ঘোষণা করা হচ্ছে যে তাদের মহামান্য আয়াতুল্লাহ ইমাম সৈয়দ আলি খামেনি, ইসলামি বিপ্লবের নেতা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আমেরিকা ও জায়োনিস্ট শাসনের চালানো যৌথ হামলায় শহীদ হয়েছেন।”

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার কন্যা, কন্যার স্বামী ও নাতি নিহত হয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প জানান, খামেনি ও অন্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম এড়াতে পারেননি’।

১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ইরানের ক্যারিশম্যাটিক নেতা খোমেনি এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, খোমেনি ছিলেন ইরানের বিপ্লবের পেছনে আদর্শিক শক্তি। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন হয়। খোমেনির পরে নেতৃত্বে আসা খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীগুলো গড়ে তোলেন। এই বাহিনীগুলো শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন করে এবং নিজ ভূখণ্ডের বাইরেও তাদের প্রভাব বিস্তার করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-র দশকে প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে প্রাণঘাতী যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির নেতৃত্ব দেন।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তীব্র, ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকের নেতা সাদ্দাম হুসেইনকে সমর্থন দেওয়ায় অনেক ইরানির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তীব্রতর হয়েছিল আর তা পশ্চিমাদের বিষয়ে খামেনির অবিশ্বাসকে গভীর করে তুলেছিল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে।

এই মনোভাব তার ৩৭ বছরের শাসনের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এই ধারণাকে দৃঢ় করেছে যে ইরানকে বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে নিরন্তর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে হবে।

ইরান সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ও ‘ইরান গ্রান্ড স্ট্র্যাটেজি: অ্যা পলিটিক্যাল হিস্টোরি’ বইয়ের লেখক ওয়ালি নাসর বলেন, “মানুষ (ইরানকে) একটি ধর্মতন্ত্র মনে করে, কারণ তিনি (খামেনি) পাগড়ি পড়েন আর রাষ্ট্রটির ভাষা ধর্মের ভাষা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে ইরান দুর্বল আর এর নিরাপত্তা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন; আর বিপ্লব, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র আর জাতীয়তাবাদ পৃথক না।

আর তাই তাদের রক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করতেন খামেনি।

আবহাওয়া

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এ ঘটনায় দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

রোববার (১ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস এজেন্সি।

এক প্রতিবেদনে সংবাদ সংস্থা ফারস এজেন্সি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘ইরানি জনগণের উদ্দেশে ঘোষণা করা হচ্ছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসকের চালানো যৌথ হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন।’

​দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এ হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন।

এর আগে খামেনি নিহত হওয়ার খবর জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইতিহাসের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন খামেনি মারা গেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ রোববার (১ মার্চ) থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ​পাশাপাশি সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে।

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, “ইরানি জনগণের কাছে ঘোষণা করা হচ্ছে যে তাদের মহামান্য আয়াতুল্লাহ ইমাম সৈয়দ আলি খামেনি, ইসলামি বিপ্লবের নেতা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আমেরিকা ও জায়োনিস্ট শাসনের চালানো যৌথ হামলায় শহীদ হয়েছেন।”

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার কন্যা, কন্যার স্বামী ও নাতি নিহত হয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প জানান, খামেনি ও অন্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম এড়াতে পারেননি’।

১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ইরানের ক্যারিশম্যাটিক নেতা খোমেনি এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, খোমেনি ছিলেন ইরানের বিপ্লবের পেছনে আদর্শিক শক্তি। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন হয়। খোমেনির পরে নেতৃত্বে আসা খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীগুলো গড়ে তোলেন। এই বাহিনীগুলো শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন করে এবং নিজ ভূখণ্ডের বাইরেও তাদের প্রভাব বিস্তার করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-র দশকে প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে প্রাণঘাতী যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির নেতৃত্ব দেন।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তীব্র, ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকের নেতা সাদ্দাম হুসেইনকে সমর্থন দেওয়ায় অনেক ইরানির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তীব্রতর হয়েছিল আর তা পশ্চিমাদের বিষয়ে খামেনির অবিশ্বাসকে গভীর করে তুলেছিল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে।

এই মনোভাব তার ৩৭ বছরের শাসনের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এই ধারণাকে দৃঢ় করেছে যে ইরানকে বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে নিরন্তর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে হবে।

ইরান সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ও ‘ইরান গ্রান্ড স্ট্র্যাটেজি: অ্যা পলিটিক্যাল হিস্টোরি’ বইয়ের লেখক ওয়ালি নাসর বলেন, “মানুষ (ইরানকে) একটি ধর্মতন্ত্র মনে করে, কারণ তিনি (খামেনি) পাগড়ি পড়েন আর রাষ্ট্রটির ভাষা ধর্মের ভাষা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে ইরান দুর্বল আর এর নিরাপত্তা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন; আর বিপ্লব, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র আর জাতীয়তাবাদ পৃথক না।

আর তাই তাদের রক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করতেন খামেনি।