নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে শাহবাগ থেকে পথযাত্রা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু হয়েছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে যাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা।
‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পথযাত্রাটি শাহবাগ থেকে শুরু করে সায়েন্সল্যাব-সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর-তিন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার-বধ্যভূমি, মিরপুর ১০, উত্তরা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী হয়ে সন্ধ্যায় শাহবাগে এসে শেষ হবে।
এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘হাদির ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘রক্ত বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘লাল সবুজের পতাকা, ইনকিলাবের পতাকা, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে ‘মূল নায়কদের’ অন্তর্ভুক্ত ছাড়া চার্জশিট জনগণ মেনে নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, ভাড়াটে খুনিদের নাম দেখিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করে দায়সারা চার্জশিট দাখিল করা হলে তা বাংলাদেশের জনগণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইনসাফের লড়াইয়ের প্রতীক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জজবার প্রাণ শহীদ শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। আমরা শুরু থেকেই অবরোধ, শহীদী শপথ, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বলেছি, বিচার দ্রুত নিশ্চিত করুন। কিন্তু ১৯ দিনেও সরকার এমন কোনো তথ্য প্রমাণ প্রকাশ করেনি, যা দেখে মানুষ আশ্বস্ত হতে পারে যে সরকার সত্যিই বিচার চায়।
জাবের বলেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর এই খুনের সবচেয়ে ছোট গুটি। তারা টাকার বিনিময়ে খুন করেছে, এটা আমরা জানি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খুনের নির্দেশদাতা কে? পরিকল্পনাকারী কারা? যদি চার্জশিটে শুধু ছোট গুটিদের নাম দেখিয়ে দায় সারার চেষ্টা করা হয়, আর মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ সেই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করবে। এটা বিচার নয়, জাতির সঙ্গে প্রতারণা হবে।
সমাবেশ থেকে ৪ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে; ১৭ বছর ধরে গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অপরাধীদের আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে; ভারত সহযোগিতা না করলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে এবং গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে সক্রিয় ভারতীয় এজেন্টদের শনাক্ত করে বিচার করতে হবে।
ওসমান হাদিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বর ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার হত্যা কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, এটি এক প্রতিবাদী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।
মার্চ ফর ইনসাফ পথযাত্রায় ১০টি পিক-আপে অংশ নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবি
১। খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী, আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনিচক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
২। বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
৩। ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া সব খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
৪। সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















