Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ. লীগ ভারতীয় দল, এরা ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল : সালাহউদ্দিন আহমেদ

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভারতীয় দল উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল, ছাত্র-জনতা সেই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে বিদায় করেছে। এরা ভারতীয় দল, এরা ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় পহরচাঁদা ম্যারেজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও এরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার পিতা সবসময়ই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। তারা জনগণের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় ও একব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। অথচ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় বছরব্যাপী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। একই সঙ্গে দেশের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনায় এনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এরই পরিণতিতে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে। পরাজিত হয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নেয় বিদেশে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, এই শক্তি কখনোই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান করেনি; মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তারা এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং আলেম সমাজের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ছিল আলেমবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকার। শাপলা চত্বরে আলেম সমাজের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাতের অন্ধকারে নিরীহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছে, বহু আলেমকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এভাবে তারা দেশের গণমানুষ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। এর ফলস্বরূপ জনগণের বিরোধিতার মুখে তারা চিরতরে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন প্রশ্ন হলো-আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? জনগণ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সুবিচার নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে এতে চকরিয়া বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেষ ওভারের উত্তেজনা ছাপিয়ে সিলেট হারিয়ে শীর্ষে ফিরল চট্টগ্রাম

আ. লীগ ভারতীয় দল, এরা ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল : সালাহউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশের সময় : ০৪:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভারতীয় দল উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল, ছাত্র-জনতা সেই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে বিদায় করেছে। এরা ভারতীয় দল, এরা ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় পহরচাঁদা ম্যারেজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও এরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার পিতা সবসময়ই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। তারা জনগণের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় ও একব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। অথচ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় বছরব্যাপী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। একই সঙ্গে দেশের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনায় এনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এরই পরিণতিতে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে। পরাজিত হয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নেয় বিদেশে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, এই শক্তি কখনোই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান করেনি; মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তারা এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং আলেম সমাজের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ছিল আলেমবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকার। শাপলা চত্বরে আলেম সমাজের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাতের অন্ধকারে নিরীহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছে, বহু আলেমকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এভাবে তারা দেশের গণমানুষ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। এর ফলস্বরূপ জনগণের বিরোধিতার মুখে তারা চিরতরে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন প্রশ্ন হলো-আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? জনগণ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সুবিচার নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে এতে চকরিয়া বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।